একজন ট্রান্স একেবারেই মুক্ত । তাই যৌনসম্পর্ক খুব সহজ । তবে তারা যৌন বুভুক্ষু নয় -সুমি দাস

0
1624
সংগঠক । সংস্কারক । রূপান্তরকাম , যৌনতা ও অধিকার বিষয়ক পত্রিকার সম্পাদক । আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রশাসনের সঙ্গে লড়াই । সবকিছু নিয়ে খোখাখুলি আলোচনায় সুমি দাস ।

সংগঠক । সংস্কারক । রূপান্তরকাম , যৌনতা ও অধিকার বিষয়ক পত্রিকার সম্পাদক । আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রশাসনের সঙ্গে লড়াই । সবকিছু নিয়ে খোখাখুলি আলোচনায় সুমি দাস ।

সংগঠক । সংস্কারক । রূপান্তরকাম , যৌনতা ও অধিকার বিষয়ক পত্রিকার সম্পাদক । আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রশাসনের সঙ্গে লড়াই । সবকিছু নিয়ে খোখাখুলি আলোচনায় সুমি দাস ।

রাজ্যের ৭৫৮ জন এবং কোচবিহারের ১০ জন তৃতীয় লিঙ্গ ভোটারের মধ্যে কতজন ভোট দিয়েছেন জানা যায় নি , কিন্তু আপনি দিয়েছেন । কেমন অভিজ্ঞতা হল ?
সুমি – ভোট তো দিয়েছি এবং আইন মোতাবেক পুরুষ , মহিলার পাশে তৃতীয় লিঙ্গের জন্য পৃথক লাইনে দাঁড়িয়ে । প্রিসাইডিং অফিসার তো আমাকে মহিলা লাইনে দাঁড়াতে বলেছিলেন । কিন্তু আমি রাজী নই । অবশেষে উনি আমার জন্য পৃথক লাইনের ব্যবস্থা করে দেন ।
আপনি তো আপনার বুথে একা ভোটার , সেখানে এসবের কি প্রয়োজন ?
সুমি – একা কি একশো সেটা বড় কথা নয় । বড় কথা হল আমাদের আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠা । আচ্ছা বলুন প্রতি বুথে প্রতিবন্ধী ভোটার কি থাকে ? থাকে না । থাকলেও এক আধজন । কিন্তু তাদের জন্য প্রতি বুথে রাম্প , অন্ধদের জন্য প্রতিবুথে ব্রেইল ব্যালট , ইভিএম এ ব্যালট সিস্টেম সবকিছু আছে । তাহলে আমাদের জন্য প্রবেশপথে লাইনে দাঁড়ানোর — তৃতীয়লিঙ্গ ‘ পোস্টার থাকবে না কেন ? এসব থাকলে তবে তো মানুষ জানবে ।
এভাবে সামাজিক চেতনা তৈরি হবে বলছেন ?
সুমি – নিশ্চয় হবে । তবে এর পাশাপাশি রেডিও , টিভিতে , খবরের কাগজে যদি একটা অ্যাড দেওয়ার ব্যবস্থা হয় খুব ভাল হয় । বুলাদি চরিত্র তৈরি করে অ্যাডের মাধ্যমে এডস নিয়ে চেতনা তৈরি হলে থার্ডজেন্ডার নিয়েও হবে ।
ট্রান্সজেন্ডার মানেই যৌন বুভুক্ষু । কি বলবেন ?
সুমি – বিষয়টা একেবারেই তা নয় । একটু অন্যভাবে দেখুন বুঝতে পারবেন । একজন মেয়ের যৌন চাহিদা থাকলেও সামাজিক বিধিনিষেধ , গর্ভবতী হওয়ার ভয় ইত্যাদি তাকে নিয়ন্ত্রনে রাখে । কিন্তু একজন ট্রান্স একেবারেই মুক্ত । তাই যৌনসম্পর্ক খুব সহজ । তবে তারা যৌন বুভুক্ষু নয় । তাদের মধ্যেও শিল্প চেতনা – ক্রিয়েটিভিটি সব আছে । একটু খোলা চোখে তাকান । প্রচুর উদাহরণ পেয়ে যাবেন ।
আপনি হিজড়াবৃত্তি বন্ধ হওয়ার পক্ষে না বিপক্ষে ?
সুমি – দেখুন হিজড়াবৃত্তি একটা জীবিকা । খেয়েপড়ে বেঁচে থাকার উপায় । তাই যদি বন্ধ করতে হয় তাহলে আগে বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করতে হবে । তবে কাস্ট্রেশান বন্ধ হওয়া উচিত ।

ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য প্রচুর এনজিও গড়ে উঠেছে । কিন্তু বেশিরভাগই স্বাস্থ্যচেতনা নিয়েই কাজ করছেন । শুধু এই চেতনা গড়ে উঠলেই হবে ? আসল প্রয়োজন তো জীবিকা , সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠা । কি বলবেন ?
সুমি – দেখুন , এনজিও দের অনেক সীমাবদ্ধতা । বিশেষ করে ফান্ডিং । টাকা না থাকলে কি করবে বলুন । তবে এটা ভুললে চলবে না , এনজিওগুলো কিন্তু ট্রান্সজেন্ডারদের পাশে দাঁড়ায় । আর জীবিকার সংস্থান প্রসঙ্গে বলি সীমাবদ্ধতা সত্তেও আমরা হস্তশিল্প প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করি । তাদের হাতের তৈরি জিনিস বিক্রির ব্যবস্থা করি । জানি প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই সামান্য । তবু শুরুটা তো করেছি ।
এভাবেই এগিয়ে চলুন । সফল হোন ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here