পুরুষদেহে কি নারীমন / তাই নিমাই খুঁজেছিল / কৃষ্ণরে সারাক্ষণ !

0
1339
পুরুষদেহে কি নারীমন / তাই নিমাই খুঁজেছিল / কৃষ্ণরে সারাক্ষণ !

পুরুষদেহে কি নারীমন / তাই নিমাই খুঁজেছিল / কৃষ্ণরে সারাক্ষণ !

পুরুষদেহে কি নারীমন / তাই নিমাই খুঁজেছিল / কৃষ্ণরে সারাক্ষণ !

Story & Script – Sanjoy Kr Gayen Model – Soumik Sarkar

স্বন্বেষণ – A Script of Shortfilm
দোল উৎসবের সন্ধ্যাবেলা । পাঁচতলা হোটেলের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছে বছর ২৪ এর দীপন । অদূরেই নবদ্বীপের ঘাট । কয়েকটা নৌকো বাঁধা আছে । ধীরগতিতে বয়ে চলা গঙ্গার আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ উঠেছে । পাশে কোথাও হরিনামসংকীর্তন হচ্ছে । মাইকে তার শব্দ ভেসে আসছে । দীপন আপন মনে তাই শুনছিল । ঠিক তখনই রুমের ভিতর থেকে মেয়েলি কন্ঠে ডাক আসে , দীপ ভেতরে এসো এবার । আমার স্নান হয়ে গেছে ।

– আসছি । তারপর সিগারেট খাওয়া শেষ করে ও রুমের দিকে এগিয়ে যায় ।
রুমের ভিতরে মেয়েলি ভঙ্গিমায় দুই পা ছড়িয়ে মেঝেতে বসে আছে সুমন । ওর চেহারা নারীসুলভ । বয়স বছর ২৬ । কন্ঠস্বর মেয়েলি । মাথায় বেশ বড় চুল । কাঁধ ছাপিয়ে পিঠের উপর ছড়িয়ে পড়েছে । সারাশরীর লোমহীন । উর্দ্ধাঙ্গে কোন পোশাক নেই । শুধু কোমরে জড়ানো সাদা বসন । দৃষ্টি উর্দ্ধপানে । দেওয়ালে ঝুলছে কাঁচের ফ্রেমে বাঁধানো কৃষ্ণকে আকুলভাবে জড়িয়ে ধরতে চাওয়া নিমাইয়ের প্রতিকৃতি ।
দীপন – অপূর্ব সুমন ! শুধু ওই বসনের রঙ সাদার বদলে গেরুয়া হলে মনে হত আমার সামনে স্বয়ং নিমাই বসে আছেন ।
সুমন – অমন বলতে নেই । উনি আমার অন্তরে আছেন । আমি কেবল ওনার মতো সেজে নৈবেদ্য দিতে পারি ।
দীপন – আমি ওত বুঝি না । আমার শুধু মনে হচ্ছে আমি দীপন না হয়ে বিষ্ণুপ্রিয়া হলে আজ নিজেকে তোমার চরণে সমর্পন করতাম ।
সুমন – তাই ! তবে তুমি বরং লক্ষীপ্রিয়া হও । পাঁচটা বছর সংসার করি দুজনে ।
দীপন – সত্যি ! ( মৃদু হেসে দীপন এগিয়ে গিয়ে সুমনের পাশে বসে । সুমন উপুর হয়ে দীপনের বুকে মাথা রাখে )
দীপন – রাধে !
সুমন – এ কি নামে শুধোলে আমায় !
দীপন – তুমি খুশি নও ?
সুমন – খুশি হ’ব না মানে ! নিমাইয়ের ভিতর রাধাভাব জাগত বলেই তো জীবনভর কৃষ্ণকে খুঁজেছে । আর তাই…
দীপন – আর তাই তুমি এসেছ সেই নিমাইয়ের খোঁজে । তারই জন্মোৎসবে । ডকুমেন্টারি করতে চাওয়াটা কেবল ছুতো ।
সুমন – কি জানি ! এ হয়তো আসলে নিজেকে খোঁজা ।
দীপন – চলুক সেই খোঁজ । এখন এসো ।
সুমন – অ্যাই…
দীপন – বা রে । আমি বুঝি তোমায় রঙ মাখাবো না ! ( বলেই দীপন সুমনের ঠোঁটে ঠোঁট রাখে । নিবিড় চুম্বনে আবিষ্ট হয় দুজনে । নেপথ্যে বেজে ওঠে তোমরা কুঞ্জ সাজাও গো / আজ আমার প্রাণনাথ আসিতে পারে … )

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here