আইন এখনও ট্রান্সজেন্ডারদের বিবাহ করার অধিকার দেয় নি : রঞ্জিতা সিনহা, ট্রান্সজেন্ডার অ্যাক্টিভিস্ট

0
1332
আইন এখনও ট্রান্সজেন্ডারদের বিবাহ করার অধিকার দেয় নি : রঞ্জিতা সিনহা, ট্রান্সজেন্ডার অ্যাক্টিভিস্ট

আইন এখনও ট্রান্সজেন্ডারদের বিবাহ করার অধিকার দেয় নি : রঞ্জিতা সিনহা, ট্রান্সজেন্ডার অ্যাক্টিভিস্ট

আইন এখনও ট্রান্সজেন্ডারদের বিবাহ করার অধিকার দেয় নি : রঞ্জিতা সিনহা, ট্রান্সজেন্ডার অ্যাক্টিভিস্ট

রঞ্জিতা সিনহা । বিখ্যাত ট্রান্সজেন্ডার অ্যাক্টিভিস্ট। ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য ন্যাশানাল বোর্ডে আমাদের রাজ্যের একমাত্র প্রতিনিধি। ওয়েস্টবেঙ্গল ট্রান্সজেন্ডার ডেভলপমেন্ট বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ড্রিমনিউজের এমাসের স্বপ্নের ক্যাম্পাসে। তাঁর একান্ত সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ড্রিমনিউজের কর্ণধার সঞ্জয়কুমার গায়েন।

প্রশ্ন : ১৪ই এপ্রিল, ট্রান্সজেন্ডার ডে পালন করেন। সে প্রসঙ্গে কিছু বলুন।

রঞ্জিতা সিনহা : তাহলে শুনুন, আগে আমরা ৩০ শে এপ্রিল অনুষ্ঠান করতাম। ১০ বছর ধরে করে আসছি। কিন্তু ২০১৪ সালে ১৪ ই এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট ট্রান্সজেন্ডারদের অধিকার প্রদানের জন্য ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করে। সেই দিনটাকে স্মরণে রাখতেই আমরা ৩০ এপ্রিলের পরিবর্তে ১৪ ই এপ্রিল ট্রান্সজেন্ডার ডে পালন করছি। এবৎসরও বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তা পালিত হবে।

প্রশ্ন : ট্রান্সজেন্ডার বললেই সাধারণ মানুষ হিজড়া বোঝেন। এই ভুল ধারণা কিভাবে দূর করবেন?

রঞ্জিতা সিনহা : দেখুন, বিষয়টাকে আগে পরিষ্কার করে বুঝতে হবে। সব হিজড়া ট্রান্সজেন্ডার কিন্তু সব ট্রান্সজেন্ডার হিজড়া নয়। আর এটা ধারাবাহিকভাবে সচেতনতামূলক প্রচার করেই সাধারণ মানুষের ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে হবে।

প্রশ্ন : বহু ট্রান্সজেন্ডার নিজ পরিচয় দিতে কুন্ঠা বোধ করেন কারণ তাঁদের বক্তব্য ‘আই অ্যাম এ ট্রান্সজেন্ডার’ বললেই লোক ভাবে, ওটা ইংরাজীতে বলছে। আসলে তো হিজড়া। কি বলবেন?

রঞ্জিতা সিনহা : হ্যাঁ, জানি। এটা একটা বড় সমস্যা। আর এই সমস্যা প্রচার করেই দূর করতে হবে। মানুষকে বোঝাতে হবে, হিজড়া একটা বৃত্তি, একটা বিশেষ ঘরানার জীবনযাপন। সেটা ভাল না মন্দ সে প্রসঙ্গে যাচ্ছি না। শুধু বলতে চাই, যে সকল ট্রান্সজেন্ডার হিজড়া ঘরানায় যান না তাঁদেরও সমাজ হিজড়া হিসাবে দেখবে এটা তো মেনে নেওয়া যায় না। আর তার জন্যই জোরালো প্রচার চায়।

প্রশ্ন : ট্রান্সজেন্ডারদের অধিকার বিল নিয়ে বেশকিছু বিতর্ক দেখা দিয়েছে। তার মধ্যে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ কারা ট্রান্সজেন্ডার। কি বলবেন?

রঞ্জিতা সিনহা : বিতর্কটার মূল জায়গাটা বুঝলেই ধরতে পারবেন। আসলে সমকামীরাও এই প্রোটেকশান বিলের সুবিধা নিতে চাইছেন। কিন্তু সেটা কি সম্ভব?

প্রশ্ন : ৩৭৭ নিয়ে কি বলবেন ?

রঞ্জিতা সিনহা : অ্যাুুজ এ ট্রান্সজেন্ডার আমরা তো নারী। রূপান্তরকামী নারী ( ক্ষেত্রবিশেষে রূপান্তরকামী পুরুষ) সেদিক দিয়ে দেখলে আমাদের জীবনসঙ্গী হিসাবে আমরা পুরুষ ( বা নারীকে) কে কামনা করি যা ৩৭৭ এর পরিপন্থী নয়। ৩৭৭ বিলুপ্তির দাবী মূলত সমকামীদের, রূপান্তরকামীদের নয়।

প্রশ্ন : এই প্রসঙ্গে ট্রান্সজেন্ডার বা রূপান্তরকামীদের বৈবাহিক আইন নিয়ে আপনার মতামত জানতে চাই।

রঞ্জিতা সিনহা : প্রসঙ্গটা উঠল যখন তখন বলি, আইন এখনও ট্রান্সজেন্ডারদের বিবাহ করার অধিকার দেয় নি । এই নিয়ে আমাদের আন্দোলন চলছে। ট্রান্সওম্যানরা যে আইনে বিবাহ করছেন সেটা পৃথক কোন আইন নয়। নরম্যাল বৈবাহিক আইন । একটু ভাবলেই বুঝতে পারবেন, একজন ট্রান্সওম্যান তো সম্পূর্ণ নারী। রূপান্তরিত নারী। কিন্তু যারা এসআরএস করেন নি তারা কি আইনত বিবাহ করতে পারবে? পারবে না। আমাদের লড়াইটা সেখানে।

প্রশ্ন : শেষ করব, ওয়েস্টবেঙ্গল ট্রান্সজেন্ডার ডেপলপমেন্ট বোর্ড এর প্রসঙ্গ দিয়ে। বোর্ডের কার্যকারিতা নিয়ে কিছু বলুন।

রঞ্জিতা সিনহা : বোর্ড গঠিত হয়েছে দুবছর হয়ে গেল। কয়েকটা মিটিং আর কিছু প্রতিশ্রুতি ছাড়া আর কিছু হয় নি । এর জন্য আমরাই দায়ী। আমরা সংখ্যায় অনেক। কিন্তু সরকারী নথিতে মাত্র ৭০৩ জন। আর এটা জানেন যে কোন সুবিধা পেতে সংখার গুরুত্ব কতখানি। তাই সবার আগে আমরা যে লক্ষাধিক এমন মানুষজন আছি সেটা সরকারী নথিতে আনতে হবে। তবেই আমাদের দাবী মানতে সরকার বাধ্য হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here