দেশের ইতিহাস ভুলে, আমরা ৩৭৭ আঁকড়ে বসে আছি! আর মিডিয়া সেটাকে গে সেক্স ল বলে চালিয়ে খবর বেচছে!- পম্পি ব্যানার্জী , হিউম্যান রাইট অ্যাক্টিভিস্ট

1
1427
দেশের ইতিহাস ভুলে, আমরা ৩৭৭ আঁকড়ে বসে আছি! আর মিডিয়া সেটাকে গে সেক্স ল বলে চালিয়ে খবর বেচছে!- পম্পি ব্যানার্জী , হিউম্যান রাইট অ্যাক্টিভিস্ট

দেশের ইতিহাস ভুলে, আমরা ৩৭৭ আঁকড়ে বসে আছি! আর মিডিয়া সেটাকে গে সেক্স ল বলে চালিয়ে খবর বেচছে!- পম্পি ব্যানার্জী , হিউম্যান রাইট অ্যাক্টিভিস্ট

দেশের ইতিহাস ভুলে, আমরা ৩৭৭ আঁকড়ে বসে আছি! আর মিডিয়া সেটাকে গে সেক্স ল বলে চালিয়ে খবর বেচছে!- পম্পি ব্যানার্জী , হিউম্যান রাইট অ্যাক্টিভিস্ট

ড্রিমনিউজ- I’m FAB (Female Assigned at Birth) Queer and genderfluid. Fiercely political and feminist.নিজের ইন্ট্রো দিতে গিয়ে যা যা লিখেছেন সে সম্পর্কে প্রথমেই কিছু বলুন।

পম্পি ব্যানার্জী – আমার জন্মের সময় ডাক্তার এবং বাবা-মা শারিরীক গঠন দেখে আমাকে মেয়ে বলে ভেবেছিলেন এবং আমাদের সমাজে শহরতলীর মধ্যবিত্ত ঘরে যেরকম ভাবে মেয়েদেরকে বড় করা হয়, সেভাবেই চেষ্টা করেছিলেন। তাই বলি ফিমেল অ্যাসাইন্ড অ্যাট বার্থ। জেন্ডারফ্লুইড মানে আমি নিজেকে নারী বা পুরুষ – এই দুই পরিচিতির কোনও একটির সাথে এক্সক্লুসিভভাবে নিজেকে চিহ্নিত করতে পারি না। আমার যেন এই দুই পরিচিতির মিলে-মিশে দুই-এর অন্তর্বর্তী কোনও এক পরিচয়। আমার জেন্ডার তার মানে ফ্লুইড। কখনো মেয়েলী, কখনও পুরুষালী, কখনও অ্যান্ড্রোগাইনাস। নিজেকে কুইয়ার বলি কারন আমি হেটেরোনর্মেটিভ কোনও রকম খোপেই আঁটি না। জেন্ডারের কথা তো বললাম, ওদিকে আবার অন্যের প্রতি আকর্ষনের ক্ষেত্রে, অর্থাৎ সেক্সুয়ালিটির দিক থেকে দেখতে গেলে আমি প্যানসেক্সুয়াল – মানে আমার যৌনতার ক্ষেত্রে আমার পার্টনারের জেন্ডার যাই হোক না কেন, তাতে কিছু যায় আসে না। আরোও আছে – কিঙ্কি, পলিঅ্যামোরাস ইত্যাদি। তাই সব মিলিয়ে আমি কুইয়ার – অন্যরকম।
রাজনীতি নিয়ে সচেতন থাকতে ভালোবাসি, কারন তা নাহলে আমার ধারণা মানবাধিকার কর্মী হওয়া যায় না। এবং কুইয়ার ফেমিনিস্ট বলে মনে করি নিজেকে। অর্থৎ বিশ্বাস করি যে লিঙ্গ পরিচিতি, যৌনতা ব্যাতিরেকে প্রতিটি মানুষের আইনের চোখে এবং সামাজিক ভাবে সমান অধিকার এবং ক্ষমতা থাকা উচিত।

ড্রিমনিউজ- একদিকে বলছেন Queer ( আমি যতদূর জানি যাঁরা নিজেদের পরিচয় Queer বলে দেন তাঁরা কোন জেন্ডার বিভাজনে বিশ্বাসী নন ) আবার বলছেন Feminist দুটো পরস্পরবিরোধী বলে মনে হয় না আপনার ?

পম্পি ব্যানার্জী – এই প্রশ্নের কিছুটা উত্তর আগের প্রশ্নে দিয়েছি, এখানে আরেকটু বিশদে লিখছি। আমি কুইয়ার, এবং আমি বিশ্বাস করি যে প্রত্যেকের অধিকার আছে নিজস্ব লিঙ্গ নির্ধারণ করার। কেউ নিজেকে পুরুষ মনে করতেই পারেন, আবার কেউ মহিলা, আবার কেউ নিজেকে দুটির কোনওটি-ই না মনে করতে পারেন। কুইয়ার কিন্তু একক একটি পরিচিতি নয় – কুইয়ার অনেকটা একটা ছাতার মত। তার মধ্যে অনেক ধরনের পরিচিতি-ই পড়ে। এমন যেকেউ যিনি বিষমকামী, পিতৃতান্ত্রিক, একগামী, পুঁজিবাদী সমাজের বেঁধে দেওয়া গন্ডির মধ্যে পড়েন না, তিনিই কুইয়ার। আমি ফেমিনিস্ট বলে মনে করি যে ওই গণ্ডিগুলি থাকাই উচিত নয়, কারন ওই গণ্ডীগুলি আসলে সামাজিক, রাজনৈতিক, এবং অর্থনৈতিক শোষনের হাতিয়ার। আমি ফেমিনিস্ট বলেই মনে করি যে প্রতিটি মানুষের সমানভাবে বাঁচার অধিকার আছে – তা তিনি কুইয়ার হোক বা না হোক। সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখলে আমি আমার পরিচয়ের এই দুই অংশের মধ্যে কোনও বিরোধ দেখি না।

ড্রিম নিউজ- সংযোগ এর কাজ সম্পর্কে কিছু বলুন

পম্পি ব্যানার্জী- সংযোগ একটি রিসোর্স অর্গানাইজেশন। আমাদের কাজ এই মুহুর্তে মানব পাচার বিরোধী কাজের উপর ফোকাস করে হচ্ছে। সংযোগের কাজ বিভিন্ন ধরনের গবেষনা করা, কি ধরনের স্ট্রাটেজি কাজ করে, কি করে না তা চিহ্নিত করা, সমাজ কর্মীদের বিভিন্ন সংগঠন গুলিকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করা, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সাথে অ্যাডভোকেসি করা যাতে পাচার বিরোধী পলিসি এবং আইন তৈরী করতে সুবিধা হয়। সংযোগের কাজ এক দিকে যেমন পাচারের ভিক্টিমদের ক্ষমতায়ন করা, তাদের সাথে কাজ করেন যে সমাজ কর্মীরা তাদের ক্ষমতায়ন, অন্য দিকে যাতে সরকার এবং রাষ্ট্র পাচারের মত অপরাধের সাথে যুঝতে পারে, এবং পাচারের ভিক্টিমদের দ্রুত ন্যায়বিচার দিতে পারে, তার জন্য বর্তমান আইন এবং পলিসি গত দিক থেকে যা প্রয়োজন তা চিহ্নিত করে সেই ধরনের আইন এবং পলিসি গঠন করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়াও সংযোগের কাজের মধ্যে পড়ে।

ড্রিমনিউজ- LGBTQ দের মানবাধিকার নিয়ে এই শতকে দীর্ঘ আন্দোলন চলছে। এই দাবিতে আয়োজিত কলকাতা রেনবো প্রাইড ফেস্টিভ্যাল- এ আপনি অংশ নেন। এ সম্পর্কে আপনার অভিমত?

পম্পি ব্যানার্জী- রেনবো প্রাইড ওয়াকে আমি এই নিয়ে দ্বিতীয়বার অংশ নিয়েছি। প্রাইড ওয়াকের ভারতীয় ইতিহাস, এবং আন্তর্জাতিক ইতিহাস বেশ আলাদা। সব মিলিয়ে আমার মিশ্র অভিজ্ঞতা। এক দিকে যেমন প্রাইড ওয়াক কমিউনিটির জন্য একটি প্রয়োজনীয় এবং বেশ ভালোলাগার একটি উদ্যোগ, অন্য দিকে, পরিকল্পনাতে এবং অরগানাইজিং এ লোক সংখ্যা কম। বেশিরভাগ মানুষ জনই দেখি কয়েক জনের উপর দায়িত্ব দিয়ে নিশ্চিন্ত থাকেন। এই ওয়াকটা অর্গানাইজ করতে যে কি পরিমান কালঘাম ছোটে, তা দেখে মনে হয় যে কেন কমিউনিটির আরও অনেকে দায়িত্ব নেন না? ২০১৬ তে অবশ্য অনেক অল্পবয়েসীরা উদ্যোগ নিয়ে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তবে, আরও প্রয়োজন। আমার এটা খুব ভালো লাগে যে কোলকাতার প্রাইড ওয়াক সম্পূর্ণ কমিউনিটির চেষ্টায় হয় – এমনকি প্রাইডের জন্য ফান্ড রেইজিং পর্যন্ত। আরও অনেক ইনক্লুসিভ হতে হবে আমাদের, এবং আরও অনেক ভিসিবিলিটি বাড়াতে হবে। আশা আছে যে আমরা তা করে উঠতে পারবো।

ড্রিমনিউজ- একটা ব্যক্তিগত প্রশ্ন। নিজেকে LGBTQ এর মধ্যে কোন একটাতে রাখেন?

পম্পি ব্যানার্জী- বলেই দিয়েছি Q মানে কুইয়ার।

ড্রিমনিউজ- ৩৭৭ নিয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া?

পম্পি ব্যানার্জী- জঘণ্য একটা আইন। ইংরেজদের আমদানী। আর অদ্ভুতভাবে আত্মবিস্মৃত হয়ে, নিজের দেশের ঐতিহ্য ইতিহাস ভুলে, আমরা সেই আইন আঁকড়ে বসে আছি! গোদের উপর বিষফোঁড়া, মিডিয়া আবার সেটাকে গে সেক্স ল বলে চালিয়ে খবর বেচছে! আরে, দু’জন অ্যাডাল্ট একে অন্যের সম্মতিতে কিভাবে কি করবেন তাতে আইনের কি?
তবে আরেকটা কথা, এবং বোধ হয় বেশ কন্ট্রোভার্সিয়াল কথা হবে, ৩৭৭ ধারা কিন্তু সমস্ত কমিউনিটির সমস্যা নয়, এবং এমনও নয় যে ৩৭৭ একটি মাত্র সমস্যা। আমাদের লড়াই প্রচুর দিকে। কমিউনিটির মেম্বারদের প্রোটেকশনের জন্য দ্রুত আইন দরকার। ৩৭৭-এর সঙ্গে তার কোনও সঙ্ঘাত হওয়ার কথা নয়। নালসা ভারডিক্ট দেশে কার্যকরী হল কি হল না তা নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। আমাদের অধিকারের আইন ৩৭৭ থেকে শুরুও নয়, শেষও নয়।

ড্রিমনিউজ- একজন মানুষের কাছে তাঁর যৌন পরিচয়ের গুরুত্ব কতখানি?

পম্পি ব্যানার্জী- মানুষের যৌন পরিচয় তার সম্পুর্ণপরিচয়ের একটি অংশ। যৌন পরিচয়েরও বিভিন্ন অংশ আছে। একেক জনের কাছে সেই অংশের গুরুত্ব একেক রকম। তবে হ্যাঁ, ভালো থাকার জন্য, খুশি থাকার জন্য, পরিচিতির সমস্ত অংশেরই গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন। কোনও অংশকে চেপে রাখতে হলে তা খুবই কষ্টের।

ড্রিমনিউজ- আপনি রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকারী হলে মানবাধিকারের জন্য প্রথমেই কি পদক্ষেপ নেবেন?

পম্পি ব্যানার্জী- বড় কঠিন প্রশ্ন। অনেকটাই নির্ভর করছে সেই ক্ষমতার আওতায় কি কি পড়ে। তবে হ্যাঁ, প্রথম পদক্ষেপ হবে যারা মার্জিনালাইজড, তাঁদের কথা শোনা, এবং তাঁদের অধিকার রক্ষার্থে সরকারের কি কি করনীয়, তা বোঝা। কাজটা বলতে যত সোজা, আমি জানি করাটা ততটাই কঠিন। কিন্তু, রাজনৈতিক ক্ষমতাধারীদের তো কাজই হচ্ছে কঠিন কাজগুলি করা।

ড্রিমনিউজ- শেষ প্রশ্ন, সোস্যাল মিডিয়া মানবাধিকার আন্দোলনে কতখানি সহায় ?

ড্রিমনিউজ- অনেকটাই। অন্ততঃ অনেক মানুষের কাছে কম সময়ে পৌছানো যায়। বিশ্বময় একটা জনমত গড়ে তোলা যায়। কিছু দিন আগে একটি ভিডিও দেখছিলাম যেখানে নর্থ কোরিয়ার একটি ১৪-১৫ বছর বয়সী মেয়ে বলছিলো তার দেশের অসম্ভব রকম শোষন এবং অত্যাচারের কথা। সোশ্যাল মিডিয়া না থাকলে তো কখনও জানতেও পারতাম না। আবার এটাও ঠিক, অনেক অপরাধ হওয়া সম্ভব হয় আরো বেশী পরিমানে কারন সেটাতেও অপরাধীরা সোশ্যাল মিডিয়া কে কাজে লাগায়।

1 COMMENT

  1. Informative and assertive.But need to be careful about its understanding in India and it’s future impact. Need to understand the role of Western countries in LGBTQ MOVEMENT.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here