ট্রান্সজেন্ডারদের মধ্যে খুবই কম জন হিজড়াবৃত্তি করছেন। বেশিরভাগই মূলস্রোতে কাজ করেন। আর সেটা সমাজকে বেশি করে জানানো দরকার শ্রেয়া কর্মকার, ট্রান্সজেন্ডার মডেল

1
2046
ট্রান্সজেন্ডারদের মধ্যে খুবই কম জন হিজড়াবৃত্তি করছেন। বেশিরভাগই মূলস্রোতে কাজ করেন। আর সেটা সমাজকে বেশি করে জানানো দরকার শ্রেয়া কর্মকার, ট্রান্সজেন্ডার মডেল

ট্রান্সজেন্ডারদের মধ্যে খুবই কম জন হিজড়াবৃত্তি করছেন। বেশিরভাগই মূলস্রোতে কাজ করেন। আর সেটা সমাজকে বেশি করে জানানো দরকার শ্রেয়া কর্মকার, ট্রান্সজেন্ডার মডেল

ট্রান্সজেন্ডারদের মধ্যে খুবই কম জন হিজড়াবৃত্তি করছেন। বেশিরভাগই মূলস্রোতে কাজ করেন। আর সেটা সমাজকে বেশি করে জানানো দরকার শ্রেয়া কর্মকার, ট্রান্সজেন্ডার মডেল
ছবিটি আলোকচিত্রশিল্পী চৈতালী চক্রবর্ত্তীর প্রদর্শনীতে ‘শৃঙ্গার’ নামে প্রদর্শিত

প্রশ্ন- ফেসবুকে Worked at Owner Of Page 3 Club লিখে নিজের ইন্ট্রো দিয়েছেন। পেজ থ্রি শব্দ শুনলেই মানুষ একটা আশঁটে গন্ধ খোঁজে। সেখানে এমন ইন্ট্রো কেন?

শ্রেয়া- ট্রান্সজেন্ডার ওম্যানদের তো প্রায় সকলে সেক্স দিয়েই জাজ করে। সেখানে এ আর এমন কি।

প্রশ্ন- তার মানে আপনি সেটাকেই জাস্টিফাই করছেন?

শ্রেয়া- আমার করা না করাই কি যায় আসে? আমি যদি লিখতাম Worked at Honest Industry তাহলে কি সবাই ভাবতো আমি খুব সৎ। আসলে যে যা ভাবার তাই ভাববে। আর আমি আমার মতো ভাববো।

প্রশ্ন- তবু পেজ থ্রি ক্লাব নাম যখন দিয়েছেন সে সম্পর্কে কিছু বলুন।

শ্রেয়া- পেজ থ্রি ক্লাব ট্রান্সজেন্ডার কমিউনিটিকে নিয়ে গেট টুগেদার পার্টি আয়োজন করে । তবে সকলেই এতে অংশ নিতে পারেন এবং নেনও। দুর্গাপুজার সময় (মূলত সপ্তমীর রাতে) এবং নিউ ইয়ার্স ইভ এই দুটো টাইম বড় করে পার্টি হয়। একটাই উদ্দেশ্য আনন্দদান।

প্রশ্ন- এবার আপনার জীবনের সম্পর্কে কিছু বলুন।

শ্রেয়া- আমার জীবনের কথা কি আর বলব? বেশিরভাগ ট্রান্সজেন্ডার নারীর ক্ষেত্রে যেমন হয়, ফেমিলি প্রোবলেম আমারও তেমন হয়েছে এবং পরে অ্যাকসেপ্ট করেছে।

প্রশ্ন- অনেকেরই তো সেই সৌভ্যাগ্যও হয় না…

শ্রেয়া – আমারও হয়তো হত না। আমাকে যদি টিভিতে না দেখাত। মডেলিং হিসাবে এমন সাফল্য না পেতাম। অ্যাকচুয়াল, টিভিতে আমার ইন্টারভিউটিউ দেখার পরেই বাড়িতে মেনে নেয়। আসলে আপনি যাই হোন দিনের শেষে সাকসেস না হতে পারলে কেউ অ্যাকসেপ্ট করে না।

প্রশ্ন- নাচ ভালোবাসেন জানি। তা সেই নাচ নিয়ে কিছু বলুন।

শ্রেয়া- নাচ তো ছোট থেকেই ভালোবাসতাম। কিন্তু বাড়িতে অ্যালাও করতো না। পরে বড় হয়ে ভরতনাট্যম কিছুটা শিখেছি। ওয়েস্টার্ন শিখেছি। আর সেই নাচ এখন আমার প্রোফেশান। বার ডান্সার হিসাবে কাজ করছি।

প্রশ্ন- আপনি মডেলিং কে জীবিকা হিসাবে নিলেন না কেন?

শ্রেয়া- মডেলিং তো করি। খুব ভালোওবাসি। কিন্তু সোসাইটি এখনও ট্রান্সজেন্ডার ওম্যান মডেলদের খুব বেশি অ্যাকসেপ্ট করে নি। বলতে গেলে অ্যাকসেপ্টেন্সটা সবে শুরু হচ্ছে।

প্রশ্ন- অ্যাকসেপ্টটেন্সের জন্য কি করা উচিত বলে মনে হয় আপনার?

শ্রেয়া- সচেতনতা গড়ে তোলা এবং ধারাবাহিক প্রচার করা। এইতো গত সপ্তাহে লিয়াঁজো –র কর্ণধার চৈতালী চক্রবর্ত্তী তাঁর আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে টলিউডের বিখ্যাত অভিনেত্রীদের পাশে আমাদের মানে ট্রান্সজেন্ডার ওম্যানদের মডেলিং হিসাবে যেভাবে তুলে ধরেছেন তা সোসাইটিতে বেশ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। এটাই দরকার। মেইনস্ট্রিমের সঙ্গে মিলেমিশে এমনভাবে কাজ হলে অ্যাকসেপ্টটেন্স বাড়বে।

প্রশ্ন- আইসিসিআর-এ অনুষ্ঠিত শক্তিরূপেণ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর কথা যখন উঠল তাহলে বলি আসার পথে দেখলাম মেট্রোরেলের টিভিগুলোতে বেশগুরুত্ব দিয়ে আপনাদের আলোকচিত্র দেখাচ্ছে। কিন্তু সেখানে মডেল হিসাবে ট্রান্সজেন্ডার ওম্যানরাও কাজ করেছেন সেকথা সেভাবে বলাই হচ্ছে না।

শ্রেয়া- দেখুন, একটু আগেই তো বললাম সবকিছু গ্রহণের একটা সিস্টেম আছে। সোসাইটি একদিনেই সব মেনে নিল এমনটা হয় নাকি। কিন্তু যে ট্রেন্ড শুরু হয়েছে তাতে সমাজের সব প্রফেশানেই ট্রান্সজেন্ডার পারসনরা অ্যাকসেপ্ট হবেই।

প্রশ্ন- তাহলে বলছেন, ট্রান্সজেন্ডার ওম্যানদের হিজড়াবৃত্তি বা যৌনকর্ম করে জীবনধারন করতে হবে না আর?

শ্রেয়া- দেখুন, কে কিভাবে জীবনযাপন করবে সেটা তার নিজস্ব ব্যাপার। হ্যাঁ, মানছি তাতে সমাজের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। তবুও বলব, নিজের ইচ্ছেরও তাৎপর্য আছে। আমাদের রাজ্যে মোট ট্রান্সজেন্ডার পারসনদের মধ্যে কজন হিজড়াবৃত্তি বা যৌনকর্মে করছেন? খুবই কম জন। বেশিরভাগই মূলস্রোতে কাজ করে জীবনযাপন করছেন। কিন্তু বিষয়টা এমন একটা মিথ হিসাবে প্রচার রয়েছে যে ট্রান্সজেন্ডার মানেই হিজড়া বা সেক্সওয়ার্কার। এই মিথ ভাঙতে হবে। আর তার জন্য আপনাদের মিডিয়াকে সবথেকে বেশি দায়িত্ব নিতে হবে।

প্রশ্ন- শেষ প্রশ্ন, ট্রান্সজেন্ডার পারসনদের সামাজিক গ্রহণের পথে তাদের যৌনাচারই কি একমাত্র বাধা বলে আপনি মনে করেন?

শ্রেয়া- কখনই না। যৌনাচার একটা কারণমাত্র। কিন্তু সেটা অভ্যন্তরীন। সমাজের বেশিরভাগ মানুষ জানেই না। বাইরে থেকে দেখে কত ট্রান্সজেন্ডার ওম্যানদের সম্পূর্ণ নারী বলে জানে মানুষজন। বিশেষ করে যাদের শারীরিক বৈশিষ্ট্যে নারীত্বটা খুব বেশি।আসলে এভাবে এক দুকথায় বলে বোঝানো যাবে না। ট্রান্সজেন্ডার কমিউনিটির সামাজিক গ্রহণীয়তার জন্য সমাজকে যেমন এগিয়ে আসতে হবে তেমন কমিউনিটিরও কিছু দায়িত্ব আছে। শুধু সমাজকে দোষ দিলে তো হবে না। আমাদেরও ভূমিকা নিতে হবে। তাহলেই আমরা আমাদের অধিকার ঠিক পাব।

1 COMMENT

  1. if you make a id in a website called planetromeo.com….you will see what they are doing….then you can judge by yourself…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here