“ আমাদের দেশে সমকামী হওয়া কিন্তু আইনত দন্ডনীয় অপরাধ নয়। অপরাধ একটি নির্দিষ্ট যৌনক্রিয়ায়।’’প্রতুলানন্দ দাস, বিশিষ্ট গবেষক ও সাহিত্যিক এবং অধ্যাপক, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়

1
6103
“ আমাদের দেশে সমকামী হওয়া কিন্তু আইনত দন্ডনীয় অপরাধ নয়। অপরাধ একটি নির্দিষ্ট যৌনক্রিয়ায়।’’প্রতুলানন্দ দাস, বিশিষ্ট গবেষক ও সাহিত্যিক এবং অধ্যাপক, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় “ আমাদের দেশে সমকামী হওয়া কিন্তু আইনত দন্ডনীয় অপরাধ নয়। অপরাধ একটি নির্দিষ্ট যৌনক্রিয়ায়।’’প্রতুলানন্দ দাস, বিশিষ্ট গবেষক ও সাহিত্যিক এবং অধ্যাপক, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়

“ আমাদের দেশে সমকামী হওয়া কিন্তু আইনত দন্ডনীয় অপরাধ নয়। অপরাধ একটি নির্দিষ্ট যৌনক্রিয়ায়।’’প্রতুলানন্দ দাস, বিশিষ্ট গবেষক ও সাহিত্যিক এবং অধ্যাপক, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়

“ আমাদের দেশে সমকামী হওয়া কিন্তু আইনত দন্ডনীয় অপরাধ নয়। অপরাধ একটি নির্দিষ্ট যৌনক্রিয়ায়।’’প্রতুলানন্দ দাস, বিশিষ্ট গবেষক ও সাহিত্যিক এবং অধ্যাপক, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়
“ আমাদের দেশে সমকামী হওয়া কিন্তু আইনত দন্ডনীয় অপরাধ নয়। অপরাধ একটি নির্দিষ্ট যৌনক্রিয়ায়।’’প্রতুলানন্দ দাস, বিশিষ্ট গবেষক ও সাহিত্যিক এবং অধ্যাপক, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়

ড্রিমনিউজ – প্রথমেই আপনার গে এন্ড লেসবিয়ান লাভ স্টোরিস নিয়ে কিছু বলুন?

অধ্যাপক পি. দাস- আমি পেশাগতভাবে সাহিত্যিক নই। জীবনে কখনও ভাবিনি যে কিছু লিখব। হঠাৎ করেই ২০১৫ সালে প্রথম লিখি। গ্যালাক্সি ম্যাগাজিনের সুখদীপ সিং আমার কাছ থেকে আমার কামিং আউট এর গল্পটা জানতে চেয়েছিল। সেই আমার প্রথম লেখা রিফ্লেকশান যেটা পরে স্বীকৃতি পত্রিকাতে বেরিয়েছিল। আরও দু একটি গল্প গ্যালাক্সি তে বেরোয় পরবর্তীকালে। ওইসময় আরও কয়েকটা আরও কয়েকটা গল্প লিখি যার মধ্যে একটি হল দ্য ট্রিপ । গল্পটা লিখতে অনুপ্রেরণা দিয়েছিল একটি ছেলের সত্যিকারের জীবনের ঘটনা। অশোক রাও কভি যখন আমাকে জানিয়েছিলেন যে উনি কিছু শর্ট স্টোরি চাইছিলেন Jaggurnaut জন্য। ওনাকে আমি দুটো গল্প পাঠাই। এভাবেই শুরু আর কি। তবু আমাকে সাহিত্যিক না বলাই ভালো।

ড্রিমনিউজ – আপনি বলেছেন Judge me by my work, not by my sexuality বাস্তব অভিজ্ঞতা কেমন?

অধ্যাপক পি. দাস- আমি যখন ২০১৪ তে ওপেনলি কাম আউট করি তখন আমার মনে হয়েছিল যে আমার সেক্সুয়ালিটি আমার পরিচয়ের একটা অংশমাত্র। আমি যখন ক্লাসে ঢুকছি আমি সেখানে একজন শিক্ষক, আমি যখন গবেষণার কাজ করছি কনফারেন্সে যখন বক্তব্য রাখছি তখন আমার গবেষক পরিচয়টাই প্রাধান্য পাওয়া উচিত। বাস্তবক্ষেত্রে প্রথমদিকে কিছু অসুবিধার মুখোমুখি হতে হলেও বেশিদিন সেটা চলে নি। আমার ছাত্র ছাত্রীরা আগেও যেমন মনোযোগ দিয়ে ক্লাস করতো এখনও সেটাই করে। আমার মনে হয়েছে হয়তো শিক্ষক ও গবেষক হিসাবে আমার যে সামান্য সুনাম টা ছিল তার জন্যই হয়তো আমাকে সেরকমভাবে কোন বাধার সম্মুখীন হতে হয় নি। যেখানে আমার সেক্সুয়ালিটি জানার পরেও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে আমি যে সম্মান পেয়েছি বা আগের বছর আমাকে West Bengal Academy of Science & Technology r Fellow নমিনেটেড করা হয়েছে সেখানে আমার সত্যি বলার কিছু নেই।

ড্রিমনিউজ – judge me by my Work বাস্তবে কোনক্ষেত্রেই কি সেই জাজমেন্ট হয়? মানবী বন্দ্যোপাধ্যায় নিজ শিক্ষাগত যোগ্যতায় অধ্যাপক এবং অধ্যক্ষ। কিন্তু তাঁর সেই যোগ্যতাকে ছাপিয়ে গিয়ে বড় হয়ে ওঠে তাঁর সেক্সুয়ালিটি। সো কলড সোসাইটি তাই বলে। কি বলবেন?

অধ্যাপক পি. দাস- জাজমেন্ট কিন্তু হয়। আমি একজন সমকামী মানুষ। কিন্তু আমি তো আজ শাড়ি পরে বা মহিলার পোশাক পরে ক্লাস নিতে যাচ্ছি না বা বাইরে বেরোচ্ছি না। যারা বেরিয়েছেন বা বেরোচ্ছেন তাদের চলার পথটা কিন্তু এতটা সুগম নয়। আমি বেশ কিছু সমকামী শিক্ষককে জানি যারা নানা কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন তাদের কিন্তু নিজেদের সেক্সুয়ালিটি গোপন করে রাখতে হয়েছে। আমাকে একবার এরকম একজন অল্পবয়সী শিক্ষক বলেছিলেন যে, “ আপনি এই জায়গায় উঠে গিয়েছেন, তাই আপনাকে সামনে কেউ কিছু বলতে সাহস করবে না। কিন্তু যারা তাদের কাজের জায়গায় ততটা সফল নন, তাদের নানা ব্যঙ্গ বিদ্রুপ সহ্য করতে হবে যদি তারা আত্মপ্রকাশ করে। আমিও এ ব্যাপারে সহমত। আমাদের সমাজ আসতে আসতে পাল্টাচ্ছে। পুরোটা পাল্টাতে এখনো সময় লাগবে। তবে আমরা নিজেরাই যদি চেষ্টা না করি তবে পাল্টাবে কি করে? সম্প্রতি গৌরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের একটি ইন্টারন্যাশানাল কনফারেন্সে আমি প্লেনারি লেকচার দিতে গিয়েছিলাম। লেকচারের পর দুজন অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র অধ্যাপক আমাকে এসে বললেন, “ তোমার ফেসবুকের সব পোস্টগুলি আমরা পড়ি। অনেককিছু বুঝতাম না। এখন বুঝি। এই কাজগুলি সত্যি করা দরকার।” আমি খুব খুশি হয়েছিলাম। আশাকরি অন্তত এডুকেশানাল ক্যাম্পাসগুলোতে সেক্সুয়ালিটি নিয়ে কাউকে ভিক্টিমাইজড হতে হবে না ভবিষ্যতে।

ড্রিমনিউজ – সম্প্রতি এক ছাত্রী তাঁর গবেষণার জন্য রূপান্তরকামিতা কে বিষয় হিসাবে বেছে নেওয়ায় তাঁর অধ্যাপক তাঁকে নানাভাবে নিষেধ করেন । একজন গবেষক হিসাবে কি বলবেন?

অধ্যাপক পি. দাস- আমি তো বিজ্ঞানে রয়েছি। যতদূর জানি বিভিন্ন জায়গায় জেন্ডার স্টাডিস পড়ানো হয় ও গবেষণাও করানো হয়। কোথায় হয়েছে সেটা না জানলে কিছু বলা খুব মুশকিল। তবে আমার এ বিষয়ে একটা মত আছে। জেন্ডার স্টাডিস আর ট্রান্সজেন্ডার বা পুরো LGBTQ community নিয়ে লেখালিখি ও গবেষণা বইয়ের পাতায় আর কনফারেন্সের লেকচারের মধ্যেই থেকে গেছে। সেটা না হলে আজ আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় কুড়ি বছর এই বিষয়ে চর্চা করার পরেও বিজ্ঞান ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৯০% অধ্যাপক এলজিবিটি কথাগুলোর মানে জানেন না সেটা হত না। নিশ্চয় গবেষণা হওয়ার দরকার। কিন্তু নিজের জীবনে সেটা কতজন মেনে নেন তা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

ড্রিমনিউজ – আপনার কি মনে হয় ৩৭৭ ধারা বিলুপ্ত হলে সমকামী ও রূপান্তরকামীদের সমাজ সহজভাবে গ্রহণ করবে?

অধ্যাপক পি. দাস- আর্টিকেল ৩৭৭ আর সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি এক জিনিস নয়। আর্টিকেল ৩৭৭ এর বিলুপ্তি আমরা চাই তার কারণ সেটি আমাদের মতোন লোকেদের ভালোবাসার অধিকারে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছে। সবচেয়ে বড়কথা হল যে law টিকে অবলুপ্ত না করে যদি সেটিকে একটু সংশোধন করা হয় তাহলেই কাজ মিটে যায়। মূল বিষয়টা হল যদি দুজন প্রাপ্তবয়স্ক লোক নিজেদের সম্মতিতে নিজেদের সান্নিধ্যে আসতে চায় তবে কারুর টা নিয়ে কিছু বলার কোন কারণই থাকতে পারে না। আর্টিকেল ৩৭৭ বিলুপ্ত বা সংশোধিত হলে নিশ্চয় সমকামী ও রূপান্তরকামী মানুষদের সারাক্ষণ আইনের রক্তচক্ষুর তলায় কাটাতে হবে না। কিছু লোক নিশ্চয় তাতে আরও সহজভাবে আমাদের মতোন মানুষদের নেবে। তবে সমাজকে আরও উদার হতে হবে।

ড্রিমনিউজ – ব্যক্তিগতভাবে আপনি স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন Proud to be an Open Gay Man যদি আপনি গে ম্যান না হতেন তাহলে কি সমকামী বা রূপান্তরকামীদের অধিকার কে সমর্থন করতেন না ?

অধ্যাপক পি. দাস- এই প্রশ্নটা কতটা যুক্তিযুক্ত বুঝে উঠতে পারছি না। তবে একটা কথা বলতে পারি সমকামীরা যে সবসময় রূপান্তরকামীদের সমর্থন করেন সেটা ভাবার কারণ নেই। এই কমিউনিটির একটা বড় অংশের মধ্যে ট্রান্সফোবিয়া আছে।

ড্রিমনিউজ – সমকামীদের যৌনতাকে সরকার কেন স্বীকৃতি দিচ্ছে না? আপনার কি মনে হয় মূল সমস্যা টা কোথায় ?

অধ্যাপক পি. দাস- প্রশ্নটা সরকারে যারা আছেন তাদেরই জিজ্ঞাসা করতে চাই আমি নিজে। যেখানে পৃথিবীর বহু দেশই অল্টারনেটিভ সেক্সুয়ালিটিকে রেকগনাইজ করে নিয়েছে সেখানে এদেশে এখনও না করাটা অত্যন্ত হাস্যকর। তবে একটু যদি ভালো করে ভাবেন আমাদের দেশে সমকামী হওয়া কিন্তু আইনত দন্ডনীয় অপরাধ নয়। অপরাধ একটি নির্দিষ্ট যৌনক্রিয়ায়। আমি তো শুনিনি কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে সে সমকামী বলে। আসলে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে পাল্টানো দরকার। সমাজ স্বীকৃতি দিলে আপনা থেকে সরকারের থেকেও বাকি স্বীকৃতিগুলো আসবে যেমন বিবাহের, অন্যান্য আইনানুগ অধিকারের।

ড্রিমনিউজ – ট্রান্সজেন্ডার ডে সেলিব্রেশান মানে ১৫ ই এপ্রিল সম্পর্কে আপনার মতামত কি ?

অধ্যাপক পি. দাস- আমাদের দেশে ট্রান্সজেন্ডার কমিউনিটি এমন একটি কমিউনিটি যারা লড়াই করে নিজেদের দাবি অনেকটা আদায় করে নিতে পেরেছে। রঞ্জিতা আমার নিজের বোনের মতো। ওর বা আমার আরও ভাই বোনদের লড়াই সেতো আমার লড়াই। ওদের যে আনন্দ সেতো আমারও আনন্দ। তাই সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক জাজমেন্টের সাথে মিলিয়ে এই সেলিব্রেশান আমাদের কাছে একটি বড় ইভেন্ট। এটি বারবার মনে করিয়ে দেয় যে লড়াই করলে নিজেদের অধিকার একসময় নিশ্চয় পাওয়া যায়। আমি সবাইকে আমন্ত্রণ করতে চাই ওই দিন টিতে আমাদের পাশে এসে দাঁড়াতে, আমাদের সাথে একটু সময় কাটাতে। দেখবেন আমরাও আপনাদের মতোনই মানুষ।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here