লোকে ভাবে ট্রান্সজেন্ডারের বাংলা মানে হিজড়া। তবে যখন শোনে আমি ম্যাথ নিয়ে এমএসসি পড়ছি! তাদের চিন্তাভাবনা ১৮০ড্রিগ্রি ঘুরে যায়। – সুমনা প্রামানিক, প্রথম টি জি স্কলার স্টুডেন্ট অফ বেঙ্গল

0
2891
লোকে ভাবে ট্রান্সজেন্ডারের বাংলা মানে হিজড়া। তবে যখন শোনে আমি ম্যাথ নিয়ে এমএসসি পড়ছি! তাদের চিন্তাভাবনা ১৮০ড্রিগ্রি ঘুরে যায়। - সুমনা প্রামানিক, প্রথম টি জি স্কলার স্টুডেন্ট অফ বেঙ্গল

লোকে ভাবে ট্রান্সজেন্ডারের বাংলা মানে হিজড়া। তবে যখন শোনে আমি ম্যাথ নিয়ে এমএসসি পড়ছি! তাদের চিন্তাভাবনা ১৮০ড্রিগ্রি ঘুরে যায়। – সুমনা প্রামানিক, প্রথম টি জি স্কলার স্টুডেন্ট অফ বেঙ্গল

লোকে ভাবে ট্রান্সজেন্ডারের বাংলা মানে হিজড়া। তবে যখন শোনে আমি ম্যাথ নিয়ে এমএসসি পড়ছি! তাদের চিন্তাভাবনা ১৮০ড্রিগ্রি ঘুরে যায়। – সুমনা প্রামানিক, প্রথম টি জি স্কলার স্টুডেন্ট অফ বেঙ্গল

ড্রিমনিউজ- ইন্ট্রো তে লিখেছেন I’m transgender student of applied mathematics.এইভাবে কাম আউট করার পর পারিপার্শিক প্রতিক্রিয়া কেমন?

সুমনা প্রামানিক- পারিপার্শিক প্রতিক্রিয়া খুবই ভালো। আসলে বেশিরভাগ মানুষ অঙ্কটাকে বীভিষিকা মনে করে। বাট সেটা হয়তো অতটা কঠিন নয়। আমার ম্যাথ খুব ভালো লাগতো। এখনো লাগে। তবে সত্যি বলতে কি সাবজেক্টটা মোটেও সোজা নয়। যেহেতু বুদ্ধিদীপ্ত আর প্র্যাক্টিসের সাবজেক্ট। তবুও ভালো লাগতো তাই পড়ছি। আসলে লোকে আমায় অনেক বাঁকা চোখে দেখে। বাট যখন শোনে আমি ম্যাথামেটিক্স এর স্টুডেন্ট তখন তারা খুব অবাক হয়। যে এ তো হিজড়া! ও আবার ম্যাথ নিয়ে পড়ছে! তাদের চিন্তাভাবনা ১৮০ড্রিগ্রি ঘুরে যায়। ভালো লাগে আমার বিরুদ্ধে এই সমাজকে উত্তর দিতে। যদিও আমি হিজড়া নই বাট তবুও বললাম লোকে ভাবে যে ট্রান্সজেন্ডারের বাংলা মানে টা হিজড়া।

ড্রিমনিউজ- আপনি আমাদের রাজ্যের প্রথম টি জি স্কলার স্টুডেন্ট। সে ব্যাপারে আপনার কি প্রতিক্রিয়া?

সুমনা প্রামানিক- আমার খুব ভালো লাগছে যে গভঃ আমায় পড়াশোনায় হেল্প করছে। আমি খুব কষ্ট করে এতদূর এসেছি। একটা টাইম গেছে যে আমি একবেলা খেয়েছি। সেটা ক্লাস টুয়েলভ এর দিকে। বাট কষ্ট করছি। আর সেই কষ্টের একটু মূল্য পেয়ে আমি খুবই আপ্লুত। এই যে স্কলারশিপ টা আমার কাছে মরুভূমিতে পাওয়া একফোঁটা জলের মতো মধুর। খুব ভাল লাগছে। আর আমি এর জন্য ধন্যাবাদ জানাবো ডি এম স্যার( নদীয়া) অত্রিদি( কর) আর অপর্ণাদি(ব্যানার্জী)কে।
নদীয়ার ডি.এম. কর্তৃক প্রদত্ত চেকের ফোটোকপি

ড্রিমনিউজ- কলেজের সতীর্থ এবং অধ্যাপকদের ব্যবহার কেমন?

সুমনা প্রামানিক- দেখুন প্রোফেসাররা খুবই ভালো। তাঁরা আমায় যে কোন ম্যাথ প্রোবলেমস বুঝতে না পারলে বুঝিয়ে দেন। আমাদের হেড অফ দ্য ডিপার্টমেন্ট খুবই ভালো মানুষ। বাট ক্লাসমেটরা আমায় মেন্টালি টরচার করে। আমি খুব একা ফিল করি। কেউ আমার পাশে বসে না। আমি সম্পূর্ণ একটা ফিক্সড বেঞ্চে বসি। সবাই দূরত্ব বজায় রাখে। নোট চাইলে কয়েকটা মেয়ে দেয়। বাট তারাও দূরত্ব ঠিক রাখে। কাছে ঘেঁষে না। আমি প্রথম প্রথম যখন ইউনিভার্সিটি ভর্তি হলাম দেন একটা সকলের মধ্যে বসতে গেলাম ওরা ক্লাস শেষ হতেই বেঞ্চ ফাঁকা করে পিছনে চলে গেল। নিজেকে খুব হতাশ লাগে। যখন ওরা আমাকে একটা মানুষ হিসাবেই দেখে না। সত্যি খারাপ লাগে। ওরা আমায় নিয়ে খুব হাসাহাসি করে। আমাকে ওরা একঘরে করে দিয়েছে। আমি ওদের মধ্যে থেকেও যেন নেই। ক্লাসমেটরা কেউ ভালোভাবে নেয় নি আমায়। আর তাই আমি ওদের রিইউনিয়ন প্রোগ্রামে যাই নি। আমার মন সায় দেয় নি।

ড্রিমনিউজ- আপনি বলেন ট্রান্সজেন্ডার হিসাবে লড়াই করেছি, করছি এবং করব। মূলত কার বিরুদ্ধে লড়াইট?

সুমনা প্রামানিক- লড়াইটা আসলে আমার বিরুদ্ধেই। নিজেকে প্রকাশ করার লড়াই। জীবন যুদ্ধ। সকলের মতো আমিও মানুষ তারাও যেটা পারে আমিও সেটা পারার ক্ষমতা রাখি। এটা আসলে নিজের অস্তিত্ব কে প্রকাশ করার লড়াই। আর হ্যাঁ আমি ট্রান্সজেন্ডার বলে জেন্ডার নিয়ে আমায় ডিসক্রিমিনেট হতে হয়। আর এইসব বাধাগুলোর বিরুদ্ধে, এইসব আমার দিকে ধেয়ে আসা তীরগুলির বিরুদ্ধে, আমার জীবনের লড়াই। আমার চিরন্তন প্রয়াস।
ড্রিমনিউজ- গণিত নিয়ে পড়ছেন। আপনার কাছে জীবনের অঙ্ক কতটা জটিল মনে হয়?
সুমনা প্রামানিক- প্রথমেই বলি গণিত সত্যি একটা জটিল বিষয়। আর জীবনের অঙ্কটা আরও জটিল থেকে জটিলোতর। এতো সহজে মেলে না।

ড্রিমনিউজ- আপনার লড়াইয়ে পরিবার কে কি পাশে পেয়েছেন?

সুমনা প্রামানিক- না। আমার ট্রান্সজেন্ডার জীবনে আমার পরিবার আমার পাশে থাকে নি।

ড্রিমনিউজ- টি জি দের কাম আউটের জন্য মূলত কি কি উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলে আপনার মনে হয়
সুমনা প্রামানিক- প্রথমেই বলি টি জি দের এডুকেটেড হতেই হবে। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন যে শিক্ষায় জাতির মেরুদন্ড। তাই আমাদের শিক্ষিত হতে হবে প্রথমে। আর আমার মতো ট্রান্সজেন্ডার স্টুডেন্টস যারা যাদের ফেমিলি তাদের পাশে নেই তাদেরকে স্কলারশিপ দিতে হবে সরকারকে। তাদের পড়াশোনার জন্য সুস্থ পরিবেশ চায়। যেখানে তারা মন খুলে হাসতে পারবে। কথা বলতে পারবে। মন দিয়ে পড়তে পারবে। এরকম পরিবেশ চায়। আর সেটা সরকারকেই গড়ে তুলতে হবে।
ড্রিমনিউজ- ধন্যবাদ। সুমনা। শুভেচ্ছা রইল আগামীদিনের সাফল্যের জন্য।
সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে। ১৪/০৪/২০১৭

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here