স্কুলের পরীক্ষায় প্রথম হয়ে সে বলল,আমি গর্বিত যে আমি যৌনকর্মীর সন্তান

0
1027
স্কুলের পরীক্ষায় প্রথম হয়ে সে বলল,আমি গর্বিত যে আমি যৌনকর্মীর সন্তান

স্কুলের পরীক্ষায় প্রথম হয়ে সে বলল,আমি গর্বিত যে আমি যৌনকর্মীর সন্তান

কিরে মাগী তুই নাকি আবার ছেলেটাকে মডার্ণ স্কুলে ভর্তি করেছিস?
হাঁ বাবু, ছেলেটা পড়াশোনায় খুব ভালো!
ওই যে অপু মাস্টার আসতো আমাদের বস্তিতে পড়াতে, ওই তো বলতো, মালতী তোর ছেলেটার মাথা আছে রে, ওকে ভালো করে পড়াস!
তাই ভর্তি করলাম বাবু!
একরাশ গর্ব যেন মালতীর ঠোঁটে, আর না হবারই বা কি আছে ; বস্তির এই রকম শরীর বেচা কটা মায়ের ছেলে মর্ডান স্কুলে পড়ে?
উফ শালা, বেশ্যা মাগী তোর ছেলে শালা মর্ডান স্কুলে পড়বে ?
শালী কোনো পার্থক্য রাখবি না নাকি ভদ্রলোকদের সাথে, তুই জানিস শালা আমার ছেলেটাও ওই স্কুলে পড়ে, একপ্রকার মারতে মারতে বলে দেবীবাবু !
শালী, ডাক তোর ছেলেকে বলছি শালা বেশ্যার ছেলে হয়ে এত শখ কিসের ওর, ডাক শালী তোর ছেলেকে !
মালতী দেববাবুর পায়ে ধরে কোনো রকমে বোঝাতে সম্মত হয়, যেন ওর ছেলেকে দেবীবাবু ওই ব্যাপারে কিছু না বলে, নাহলে ওর ছেলে যে আর সভ্য জগতে মিশতে পারবে না, তাহলে ওর পড়াশোনায় ক্ষতি হবে !!
যাইহোক সেদিন হয়তো সামলানো গেল দেবীবাবুকে এই মর্মে যে, আজ তাকে বিনি পয়সায় শরীর দিতে হবে !
বেশ্যা তো ! দিতে রাজি হয়ে গেলো মালতী !
এখন মালতী নিজের ছেলের দিকে ঠিকঠাক তাকাতেও পারেনা লজ্জায় !
ছেলে ভদ্রলোকের স্কুলে পড়ে যে, আর সে তো বেশ্যা, কোথাও যেন ভেতর থেকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছিলো মালতীকে !
ভয় ছিল যদি ছেলে ভদ্র হয়ে বেশ্যা মাকে ছেড়ে দেয়, এই সব চিন্তা, ভয় আর মর্ডান স্কুলের খরচ চালাতে গিয়ে হিমশিম খেয়ে গেছে মালতী !
এভাবেই চলতে থাকে মালতীর সংসার !
তবে এই বেশ্যাকেও হয়তো সাথ দিয়েছিলো ভগবান, তার ছেলে পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে যে !
আজ মালতী তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরেছে। আজ ও ধান্দা করেনি, কাউকে ছুঁতেও দেয়নি !
ছেলে বাড়ি ফিরতেই মাকে জড়িয়ে ধরে বলে, মা আমাদের স্কুলে কাল পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান, তোমাকে নেমন্তন্ন করেছে, এই দেখো কার্ড !
তুমি যাবে না মা ?
নারে, তোদের মস্ত স্কুল, সব বড় বড় লোকজন, আমি গরিব মানুষ গিয়ে কী করব বল?
না মা, তোমাকে কাল যেতেই হবে, নাহলে আমিও যাব না !
কোনো রকম জোরপূর্বক মালতী যেতে রাজি !
পরদিন ভোর ভোর উঠে মালতী খুঁজে রেখেছে তার বরের দেওয়া প্রথম উপহারের তাঁতের শাড়িটা। খুব আনন্দ তার। আজ যে সে ভদ্রলোকদের সাথে মিশবে কিছুক্ষণের জন্য, স্বামী মারা যাওয়ার পর প্রথম !
যাই হোক, মর্ডান স্কুলে ছেলের সাথে মালতী, অপূর্ব অনুভূতি হচ্ছে তার, কত লোক, ভদ্রলোক, কত বড় বড় ব্যাপার, কিন্তু সেই ভয়টা পিছু ছাড়েনি, “ছেলে যদি বুঝে যায় আমি বেশ্যা” !
অনুষ্ঠান হলে ঢুকতেই মালতী দেখে সামনের সিটে বসে দেবীবাবু !
মালতী লজ্জায়, ভয়ে পিছনে গিয়ে একটি সিটে মাথা নামিয়ে বসে পড়ে, পাছে দেবীবাবু দেখে ফেলে, দেখলেই আজ হয়তো সব কথা জেনে যাবে সবাই, ছেলের কাছে মালতীও আজ বেশ্যার পরিচয় পাবে হয়তো !
অনুষ্ঠান তখন শুরু হয়ে গেছে, এবার মালতীর ছেলেকে স্টেজে ডাকলো পুরস্কার নেওয়ার জন্য কিন্তু মালতীর চোখ নীচে, মুখ নীচে। সে দেখবে না, কারণ যদি দেবীবাবু দেখে ফেলে !
স্টেজে মালতীর ছেলে, পুরস্কার নেওয়ার পর কিছু বলার জন্য অনুরোধ করলেন প্রিন্সিপল মেম !
“আমি দেহব্যবসায়ীর ছেলে ” হ্যাঁ ম্যাডাম আমি গর্বিত, আমি ওনার ছেলে “। গোটা ঘর নিস্তব্ধ হয়ে গেল মালতীর ছেলের কথায়!
ওই দেখ সবাই, আমার মা!!!
শেষ সিটে মাথা লুকিয়ে বসে আছে।
মাথা তোলো মা, সবাই আজ দেখুক তোমায় তুমি আমার মা, আমি গর্বিত মা তোমার জন্য !
সেদিন যখন দেবীবাবু তোমাকে অপমান করেছিল, সেদিন আমি দরজার পাশে দাঁড়িয়ে সব শুনেছি, সেদিনই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, মা তোমার মাথা উঁচু করব, এটাই তোমার উপহার মা !
আজ আমি প্রথম হয়েছি-এটা সাধারণ ব্যাপার, কিন্তু এক দেহব্যাবসায়ীর ছেলে প্রথম এটাই অসাধারণ কিছু মা ! মালতীর চোখে আনন্দ অশ্রু, সেও আজ গর্বিত, এখন তার লজ্জা নেই, নেই ভয় !
সেদিন সমগ্র ঘর শুনছিল এক বেশ্যার ছেলের চিৎকার !!!
প্রতিবেদক সংগ্রাহক লোকনাথ ভট্টাচার্য, সোনাগাছি, কলকাতা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here