যৌন বিনোদন উপভোগকারীরা যদি সমস্ত সামাজিক অধিকার পান তবে সেই বিনোদন প্রদানের কর্মীরা কেন বঞ্চিত হবে?

0
1496
যৌন বিনোদন উপভোগকারীরা যদি সমস্ত সামাজিক অধিকার পান তবে সেই বিনোদন প্রদানের কর্মীরা কেন বঞ্চিত হবে?-দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি।

যৌন বিনোদন উপভোগকারীরা যদি সমস্ত সামাজিক অধিকার পান তবে সেই বিনোদন প্রদানের কর্মীরা কেন বঞ্চিত হবে?

যৌন বিনোদন উপভোগকারীরা যদি সমস্ত সামাজিক অধিকার পান তবে সেই বিনোদন প্রদানের কর্মীরা কেন বঞ্চিত হবে?-দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি।

মানুষ বিনোদনপ্রিয়। আর সেই বিনোদনের তালিকায় এক নম্বর স্থান যৌন বিনোদনের। পৃথিবীর অতীত ও বর্তমান অন্তত তাই বলছে। যাইহোক মানুষের সেই যৌন বিনোদনের দাবি মেনে দেশে দেশে গড়ে উঠেছে গণিকালয়। তেমনই এক গণিকালয় সোনাগাছি যা ভারত তথা এশিয়ার বৃহত্তম যৌন বিনোদন কেন্দ্র। কত হাজার হাজার নারী ২৪*৭ মানুষকে যৌন পরিষেবা দিয়ে চলেছে। বিনিময়ে কিছু টাকা পেলেও সেই নারীদের স্বাস্থ্য বিশেষ করে যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে কেউ কোনদিনই ভাবে নি। পরিনতি মাঝে মাঝেই মানুষের শরীরে বাসা বাঁধছিল যৌনরোগ। এই বিষয়টা চিন্তিত করেছিল ডঃ শরজিৎ জানা কে এবং সেই চিন্তার পরিনাম হিসাবে তিনি ছুটে এলেন সোনাগাছি। সময়টা তখন ১৯৯২ সাল। শুরু করলেন যৌনকর্মীদের স্বাস্থ্যচেতনা গড়ে তোলার কাজ। আর এইসবের পরিনতিতে ১৯৯৫ সালে গড়ে তুললেন দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি।
আজ ১২ ই জুলাই সেই দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির ২২ তম জন্মজয়ন্তী উৎসব পালন করতে গিয়ে এসব কথায় উঠে আসছিল উপস্থিত সম্মানীয় অথিতিবৃন্দের গলায়। সেই সঙ্গে তাঁরা আরও বলছিলেন দুর্বার কেবলমাত্র সোনাগাছির স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করে না। তার পাশাপাশি যৌনকর্মী ও যৌনকর্মীদের সন্তানদের শিক্ষা, সাংস্কৃতিকচর্চা খেলাধুলা ইত্যাদি সবকিছু নিয়েই কাজ করে। আর সবথেকে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ যৌনকর্মীদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ঊষা কো-অপারেটিভ যা যৌনকর্মীদের জন্য বিশল্যকরনী। তবে দুর্বার শুধু সোনাগাছির উন্নয়নের কাজ করেই থেমে থাকে নি। পৃথিবী জুড়ে দুর্বারের সবথেকে বড় খ্যাতি যেজন্য তা হল মানুষের মারণব্যধি এডস প্রতিরোধে সোনাগাছির মেয়েদের দিয়ে আন্দোলন করানো এবং তার আশাতীত সাফল্য পাওয়া।
বর্তমানে বিভিন্ন সংগঠনের সহযোগিতায় দুর্বার আরও কিছু উল্লেখযোগ্য বিষয় নিয়ে কাজ করছে যেমন কোন নাবালিকা ও সাবালিকা এককথায় কাউকেই যাতে জোর করে এই জীবিকায় নিয়ে আসা না হয় সে ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখা। যৌনকর্মীদের বার্ধক্যভাতার ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের কাছে আর্জি জানানো ইত্যাদি।
সবমিলিয়ে বলা যেতে পারে যৌন বিনোদন মানুষের কাছে যেমন বিনোদনের তেমনই সেই বিনোদনের জন্য যেন কারও চোখে জল না আসে। আর সেই বিনোদন যাঁরা উপভোগ করছেন তাঁরা যেমন সমাজের সমস্ত রকম অধিকার পান তেমনই সেই বিনোদন যাঁরা দিচ্ছেন তাঁরাও যেন কোন অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন। বলা বাহুল্য দুর্বার সেই কাজই করে চলেছেন সোনাগাছি কে সঙ্গে নিয়ে। অথিতিবৃন্দের বক্তব্যশেষে অনুষ্ঠিত হয় দুর্বার-এর সাংস্কৃতিক শাখা কোমল গান্ধারের নৃত্যানুষ্ঠান ও দুর্বার ব্যান্ডের সংগীতানুষ্ঠান।
নিজস্ব প্রতিনিধি, সোনাগাছি, ১২ই জুলাই, ২০১৭

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here