অলিন্দের বার্ষিক উড়ান উৎসবে তৃতীয়লিঙ্গের সংস্কৃতিচর্চা। অংশ নিলেন কয়েকজন নাট্যব্যক্তিত্ব

0
987
অলিন্দের বার্ষিক উড়ান উৎসবে তৃতীয়লিঙ্গের সংস্কৃতিচর্চা। অংশ নিলেন কয়েকজন নাট্যব্যক্তিত্ব

অলিন্দের বার্ষিক উড়ান উৎসবে তৃতীয়লিঙ্গের সংস্কৃতিচর্চা। অংশ নিলেন কয়েকজন নাট্যব্যক্তিত্ব

অলিন্দের বার্ষিক উড়ান উৎসবে তৃতীয়লিঙ্গের সংস্কৃতিচর্চা। অংশ নিলেন কয়েকজন নাট্যব্যক্তিত্ব

তৃতীয়লিঙ্গের সংস্কৃতিচর্চা! যারা তৃতীয়লিঙ্গভুক্ত তারা কি ধরনের সংস্কৃতিচর্চা করেন আবার বাংলা তথা ভারতীয় সংস্কৃতিচর্চায় বিষয় হিসাবে তৃতীয়লিঙ্গ কতখানি গুরুত্ব পেয়েছে বা পাচ্ছে সে বিষয়েই এক মনোজ্ঞ তথা সৃজনশীল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সম্প্রতি। অলিন্দ নামক একটি নাট্যসংস্থা তাদের দ্বিতীয়বর্ষের বার্ষিক উড়ান উৎসবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করেছিলেন যা অনুষ্ঠিত হল কলকাতার প্রোসেনিয়াম আর্ট সেন্টারে। আর এই আলোচনা সভায় অংশ নিয়েছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব জনার্দন ঘোষ, নাট্যপরিচালক রাকেশ ঘোষ, নাট্যকর্মী তথা সমাজকর্মী তিস্তা দাস, নাট্যব্যক্তিত্ব বিভাস মুখার্জী, নাট্যকর্মী ও অভিনেতা সুজয় ভৌমিক, সমাজকর্মী বাপ্পাদিত্য মুখোপাধ্যায় প্রমুখ। আলোচনায় উঠে আসে অভিনয় তথা সংস্কৃতি জগতে এই সো কলড্‌ তৃতীয়লিঙ্গসত্ত্বা প্রতিক্ষণে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় যা একেবারেই কাম্য নয়। লিঙ্গসত্ত্বার কারণে অভিনয় দক্ষতা আদৌ মান্যতা পায় না। এ প্রসঙ্গে রাকেশ ঘোষ বলেন, একজন তৃতীয়লিঙ্গসত্ত্বাধারী ব্যক্তি উচ্চপর্যায়ের অভিনয় করলেও সমালোচকরা বলেন, ও তো ভালো করবেই কারণ ও তো ওই লিঙ্গভুক্ত…সেই কথার রেশ ধরে তিনি প্রশ্ন রাখেন, একজন পুরুষ অভিনেতা পুরুষের চরিত্রে অভিনয় করলে তো একথা বলা হয় না। একজন নারীর ক্ষেত্রেও তাই। তাহলে এক্ষেত্রে কেন অভিনয় সত্ত্বা বিচার্য না হয়ে লিঙ্গসত্ত্বা বিচার্য হয়ে ওঠে। কিন্তু তা যে কতখানি বিচার্য তা দীর্ঘ সময় ধরে টের পেয়ে আসছেন তিস্তা দাস। তিনি বলেন, আজ পর্যন্ত আমি সাধারণ কোন নারী চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগই পেলাম না, যা করেছি সে ওই রূপান্তরিত নারী চরিত্রে যা আমার অভিনয় সত্ত্বাকে মান্যতা দেয় না। আর সুজয় ভৌমিক তো রীতিমতো বিরক্ত। প্রতিক্ষনে তাঁকে লিঙ্গত্বের নিক্তিতে মাপা হয়েছে যার কারণে তিনি অভিনয় জগত থেকে বিদায় নিতে চেয়েছেন। এভাবে সকলের বক্তব্যেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, সংস্কৃতি জগতে তৃতীয়লিঙ্গ ভুক্ত মানুষেরা প্রান্তিক হিসাবেই বিবেচিত হন। যাইহোক আলোচনা শেষে অনুষ্ঠিত হয় অনিরুদ্ধ পরিচালিত নাটক নীল মদ এবং জনার্দন ঘোষ পরিচালিত একটি নাটক যেখানে অভিনয় করেন হল্যান্ড থেকে এক অভিনেত্রী। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নাট্যকর্মী ঋতদীপ আর তত্ত্বাবধানে ছিলেন সুজয় ভৌমিক, বিভাস মুখার্জী সহ অলিন্দের অন্যান্য সদস্য-সদস্যাবৃন্দ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here