রূপান্তরিত নারীর বৈবাহিক জীবন নিয়ে ধ্রুব ও সুনন্দের অসামান্য প্রয়াস শর্টফিল্ম ‘ বাটারফ্লাই’

1
1746
রূপান্তরিত নারীর বৈবাহিক জীবন নিয়ে ধ্রুব ও সুনন্দের অসামান্য প্রয়াস শর্টফিল্ম ‘ বাটারফ্লাই'

রূপান্তরিত নারীর বৈবাহিক জীবন নিয়ে ধ্রুব ও সুনন্দের অসামান্য প্রয়াস শর্টফিল্ম ‘ বাটারফ্লাই’

রূপান্তরিত নারীর বৈবাহিক জীবন নিয়ে ধ্রুব ও সুনন্দের অসামান্য প্রয়াস শর্টফিল্ম ‘ বাটারফ্লাই’

ছবির একটি দৃশ্যের স্থিরচিত্র। অভিনয়ে মুক্তা
ওঁ প্রজাপতেয় নমঃ । বাঙালীদের বৈবাহিক আমন্ত্রণপত্রে প্রজাপতি দক্ষের আশীর্বাদ কামনার জন্য ভাগবত গীতার এই পঙতি লেখা হয়। কেননা প্রজাপতি দক্ষ যথাযথ ভাবে মানবজাতির বৃদ্ধির জন্য ভগবান শ্রীবিষ্ণুর তপস্যা করেছিলেন এবং শ্রীবিষ্ণু তুষ্ট হয়ে প্রজাপতি দক্ষ কে বর প্রদান করেন। আর মানবজাতির বৃদ্ধির সাথে বৈবাহিক জীবনের সম্পর্ক অঙ্গাঅঙ্গি ভাবে জড়িত। যাইহোক আজও বাঙালীর প্রচলিত বিশ্বাস প্রজাপতি গায়ে বসলেই বিবাহ হবে। সেই প্রজাপতি বা বাটারফ্লাই নাম দিয়ে ধ্রুব ও সুনন্দ নির্মান করেছেন এক অন্যধারার শর্টফিল্ম। যার মূল প্রতিবাদ্য বিষয় বিবাহ নামক সম্পর্ক। এক পুরুষের সাথে রূপান্তরিত নারীর বৈবাহিক সম্পর্ক। একদিকে স্বীকৃতি দিতে না পারার প্রসঙ্গ যেমন আছে অন্যদিকে তেমন বিবাহের পর আমাদের সমাজ যে এই বিবাহকে এখনও সানন্দে গ্রহণে প্রস্তুত নয়, সে প্রসঙ্গও আছে। তার দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় এই ছবির অন্তিম লগ্নে। জনৈক এক চরিত্রের সংলাপ শোনা যায়, রূপান্তরিত নারী আবার কি! জন্মসূত্রে তো নয়! যাই বলো, আসলে তো হিজড়া! কিন্তু সেই রূপান্তরিতা নারীকে তার শাশুড়ি যেভাবে আলিঙ্গন করে পাশে থাকবেন বলে নীরব প্রতিশ্রুতি দিলেন তা প্রমাণ করে সমাজ এভাবেই রূপান্তরিত নারীদের বিবাহকেও স্বাভাবিক ভাবে গ্রহণ করবে। আর তখনই সার্থক হবে দক্ষের তপস্যা। উড়ন্ত প্রজাপতি বসুক সবার গায়।
ছবিতে প্রত্যেকেই সাবলিল অভিনয় করেছেন। তার মধ্যে তিস্তা, মুক্তা, মেঘা, সীমা, তৃপ্তি প্রমুখ বেশ প্রশংসার দাবি রাখে। ছবির গল্প, চিত্রনাট্য সংলাপ ও পরিচালনায় ধ্রুব ও সুনন্দ। ১০ মিনিট ২৮ সেকেন্ডের বাটারফ্লাই তাই বেশ উপভোগ্য বলা যেতেই পারে।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here