হিজড়েদের ” ডেভেলপমেন্ট” এর জন্য কি তাদের রাস্তার পাশে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ! – রানি মজুমদার, সাহিত্যিক

0
1510

হিজড়েদের ” ডেভেলপমেন্ট” এর জন্য কি তাদের রাস্তার পাশে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ! – রানি মজুমদার, সাহিত্যিক

খবরের মূল শিরোনামে ছিলো”বৃহন্নলা”, তাঁরাই খবরের বর্ননায় হয়ে গেলেন ” হিজড়ে” ! আনন্দবাজার এবং প্রতিবেদক শিবাজী দে সরকারকে এজন্য ধন্য “বাদ” ! আসলে পাঠক বোধহয় বৃহন্নলা না বুঝলেও ” হিজড়ে” ভালোই বোঝেন…এখন তাঁদের ” দাপট” বন্ধ করতে “পুলিশ ” উদ্যোগী হয়েছে(২,১১,২০১৭ ) এ ভালো কথা…আচ্ছা এই “দাপট ” কে যদি তোলাবাজি নাম দি তাহলে কোনো পক্ষের অস্বস্তির কোনো কারন থাকে কি ? কারন “দাপট” কে কতখানি অপরাধ বলা যাবে সেটা তো লাখটাকার বিতর্ক..তবে যে জনবহুল শহরে কানফাটা হর্ণ বাজিয়ে পুলিশকে চকচকে গাড়ি চেপে যাতায়াত করতে দেখি সেটা কি পুলিশের দাপট ?স্কুলপড়ুয়া, অফিস যাত্রী, বাজার চলতি হাজারো মানুষকে আটকে দিয়ে ” ব্যস্ত ” মন্ত্রীদের গাড়ি পার করিয়ে দিতে দেখি…এটা নিশ্চইই মন্ত্রীর দাপট নয় ! … দাপট যখন মানুষের কষ্টের কারন হয়ে দাঁড়ায় তখনই তো তা অপরাধ বলে চিহ্নিত হয়…..কাজেই ঠান্ডাগাড়িতে বসা কালো কাচের আড়ালে যদি কোনো গাড়ি-যাত্রীর হিজড়েদের এই ” দাপট” অসহ্য ঠেকে, অত্যাচার মনে হয় তবে তা নিশ্চই অপরাধ…আর আমরা সেই কত কাল ধরে কত কত নেতাদের মুখে মুখে শুনে আসছি “আইন আইনের পথে” চলবে….অতএব হিজড়েদের এই তোলাবাজি অন্যায় ,অপরাধ…আইন আইনের পথেই চলুক…কিন্তু তাঁদের ভাত কাপড়ের একটা বিকল্প ব্যবস্থা না করে এই টাকা আদায় বন্ধ করা কতটা যুক্তিযুক্ত সেটাও তো মাথায় রাখতে হবে…ঠিক যেমন দেহ ব্যবসাকে ” যৌন পরিষেবা” নাম দিয়ে আমরা আমাদের ব্যর্থতা, লজ্জার মুখটাকে ঢেকে রাখার নোংরা চেষ্টা করি..হিজড়েদের ক্ষেত্রেও ” ডেভেলপমেন্ট” নামে শুধু ভোট বাক্সের হিসেব কষি….তবু গভীর অন্ধকার থেকে উদ্ধারের কোনো চেষ্টা ( “উদ্যোগ” ) আমাদের নেই….”তাদের এগোতে দেখলেই রাস্তার পাশে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে” ….. রাস্তায় মূলস্রোত, আর হিজড়েদের “প্রান্তে” সরিয়ে দাও পুলিশ দিয়ে….এরকম এক বুকফাটা ছবি যেন মনে আসছে বার বার..নিজে একজন ট্রান্সজেন্ডার বলেই যেন আত্মার অনুভূতিটা এত প্রবল….কিন্তু হিজড়েরা ভয় না দেখালে টাকা আসবে কোত্থেকে ? আর টাকা না পেলে পেটে ভরার উপায় ? মূলস্রোত যদি মানবিক হতো, একটু দরদি হতো, অত্যাচারটা কম করতো তাহলে ছেলে নাচাতে গিয়ে এদের ব্যবহারটাও এতটা খারাপ হতো না এটা বুকে হাত রেখে বলতে পারি….আলোয় থাকা সংখ্যাগুরুদের কাছে এতটুকু সহানুভূতি আশা করতে পারি না ?… তাই হিজড়েদের “দাপট” বন্ধে পুলিশের এই উদ্যোগ যেন অনেকটা খামখেয়ালিপনা, অমানবিক….কিন্তু একজনেরও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা তো নেওয়া হয়নি তবুও কেন লিখছি…কারন আতঙ্ক ! পুলিশি আতঙ্ক ! মিথ্যে মামলা ! বালুরঘাটের ঘটনা এই তো সেদিনের…ভদ্রলোককে দুদিন জেলও খাটতে হয়েছে শুধু পুলিশের বিরুদ্ধে ফেসবুকে লিখেছিলো বলে…এরপর মানুষ কোন সাহসে পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ জানাবে কেউ আমায় বলবেন ? পুলিশ ভ্যানের সঙ্গে সামান্য ধাক্কা লাগায় সুজিত চক্রবর্তী নামে একজনকে পুলিশকর্মীরা কীভাবে রাস্তায় ফেলে পেটায় বিভৎস সে ছবিও তো আমরা আনন্দবাজারেই দেখেছি ( ৩, ১০, ২০১৭ )….শাসনে পুলিশকাকুর চান দেখে ফেলায় এক খুদেকে বেদম মার(৬, ৯, ২০১৭, আঃ বাঃ পঃ )সেটাও তো ভুলতে পারছি না….পূর্বস্থলীর যজ্ঞেশ্বর পুরে পূর্ব বিধায়ককে চাঁদা না দিতে চাওয়ায় এক কিশোরকে পুলিশের বেদম মার (১০ অগস্ট, ২০১৬ )…ওসির কাঁচা ঘুম ভাঙিয়ে দেওয়ার ওপরাধে বাড়িওয়ালাকে ওসির চড় ঘুষি( ২১, ৬, ২০১৭ ) আর এই তো সেদিন ” মহিলাকে নির্লজ্জ মার পুলিশের” সেটাও তো আনন্দবাজার পড়েই জানা ( ১৭ ই জুন ২০১৭) এরপর ‘…বাঁকুড়ার ওন্দায় হেলমেট পড়েনি বলে তিন যুবককে পুলিশ এমন লাঠিপেটা করেছিলো যে তাদের বাঁকুড়া মেডিক্যালে ভর্তি করতে হয়েছিলো ( ২৬, ৭ ২০১৭ )….ভিন ধর্মে বিয়ে করায় পুলিশ এক বধূকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা তিনদিন আগের না?..এ তালিকার শেষ নেই..উল্লেখিত ঘটনায় নির্যাতিতরা কেউই হিজরে নয় তাই তো ?. কিন্তু প্রশ্ন হলো দাপট আর অপরাধ নিয়ে….নাঃ এসব ঘটনাগুলো দাপট নয়, অপরাধও নয়..অত্যাচারও নয়..কক্ষনো নয়… শুধু নাগরিককে চোখ বন্ধ করে থাকতে হবে…আচ্ছা, আমাদের বিচার ব্যবস্থায় কোথাও জানিয়েছে যে পুলিশকে লরি থামিয়ে তোলা তুলতে দেখলে একজন সাধারন নাগরিক কোথায় নিশ্চিন্তে অভিযোগ জানাতে পারবে যেখানে মিথ্যে মামলার ভয় থাকবে না ?… কেউ জানাবেন আমায় ? হিজড়েরা তো দাঁড়ানো গাড়ি থেকে টাকা তোলে…লাঠি উঁচিয়ে জোর করে গাড়ি দাঁড় করানোর আইন তাদের হাতে নেই…..!

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here