ভগীরথ জননীর বাস্তবায়ন সম্ভব কি? জানতে পড়ুন এক এক্সক্লুসিভ কনটেন্ট রাইট

0
674

 ভগীরথ জননীর বাস্তবায়ন সম্ভব কি? জানতে পড়ুন এক এক্সক্লুসিভ কনটেন্ট রাইট 

   কল্পকথন

  ভগীরথ জননীর বাস্তবায়ন

  অবকাশে সঞ্জয়

 

সঞ্চালক-    ডঃ রায় প্রথমেই আপনাকে অভিনন্দন জানাই। আপনার জন্যই আজ  ভগীরথ জননীর বাস্তবায়ন    সম্ভব হয়েছে।
ডঃ রায়-   ধন্যবাদ। তবে এর জন্য আমি কৃতজ্ঞ সেইসব লেসবিয়ান দম্পতিদের কাছে যারা আমার গবেষণায় সাহায্য করেছেন।
সঞ্চালক-  ডঃ. রায় এই গবেষণার প্রসঙ্গে প্রথমেই আপনার কাছে জানতে চাইব যে  হঠাৎ এমন বিষয় নিয়ে রিসার্চ করার কথা ভাবলেন কেন?

ডঃ. রায় – লেসবিয়ান সম্পর্ক নিয়ে সারা পৃথিবীতেই গবেষণা চলছে। আর আমাদের দেশে সেই  রামায়ণের যুগ থেকে এ প্রসঙ্গ আছে। বুঝতেই পারছেন আমি ভগীরথ জননীদের কথা বলছি। তো ভগীরথ জন্মকথা পড়তে পড়তে মনে হয়েছিল ভগে ভগে রতিতে সত্যি কি গর্ভধারণ সম্ভব? সেই ভাবনা আমাকে প্রতিনিয়ত তাড়া করতো। তারই ফলশ্রুতি এই রিসার্চ।

সঞ্চালক- বুঝলাম। তা কিভাবে শুরু করলেন গবেষণার কাজ? মানে দর্শনের ভাবনাকে বিজ্ঞানে প্রয়োগ তো সহজ কাজ  নয়।

ডঃ. রায় – একেবারেই ঠিক কথা। বিজ্ঞানের জগতে কল্পনার স্থান নেই। আবার এও সত্যি কল্পনাকে আশ্রয় করেই ভাবনার বাস্তবায়ন হয় যাকে বিজ্ঞান সত্য বলে দাবি করে। অর্থাৎ দর্শন ও বিজ্ঞান একে অপরের পরিপূরক।

সঞ্চালক- বেশ। তা আপনার গবেষণায় দার্শনিক তত্ত্ব হিসাবে ভগীরথ জন্মকথাকে বেছে নিয়েছিলেন সে তো জানলাম। কিন্তু বিজ্ঞানের আধার কি ছিল?

ডঃ রায়- কেন! মানবশরীরের জন্মবৃত্তান্ত।

সঞ্চালক- সে কি! সেই জন্মবৃত্তান্ত তো নারী পুরুষের শরীরী মিলনক্রিয়া। আর আপনি তো চাইছেন নারীর সাথে নারীর রতিক্রিয়ায় গর্ভধারণ।

ডঃ রায়- বিজ্ঞান জন্মবৃত্তান্ত বলতে রতিক্রিয়া বোঝে না। তার জন্য শুধু শুক্রানু আর ডিম্বানুর মিলনই যথেষ্ট। আর চায় একটা গর্ভাধার।

সঞ্চালক- মানছি। কিন্তু এক্ষেত্রে গর্ভাধার থাকলেও দুই নারী শরীরেই তো ডিম্বানু আছে। তাহলে?

ডঃ রায়- আচ্ছা, আপনারা নারী বলতে কি বোঝেন বলুন তো? স্তন আর যোনি বিশিষ্ট একটি মানুষ তাই তো?

সঞ্চালক- হ্যাঁ। সেটাই তো স্বাভাবিক।

 

 

 

 

 

 

 

                                                                                 ছবিটি প্রতীকি। এই সময়ের এক লেসবিয়ান কাপল্‌ : সোহিনী হালদার ও সম্রাজ্ঞী মন্ডল  

ডঃ রায়- শুনুন যোনি তো শরীরের বাহ্যিক অংশ। এমন মানুষ যদি দেখেন যার অভ্যন্তরে জরায়ু আছে কিন্তু বাহ্যিক অংশে যোনি নেই। পরিবর্তে পুরুষাঙ্গ আছে। তাকে কি নারী বলবেন?  নাকি পুরুষ?

সঞ্চালক-  তাকে তো পুরুষই বলতে হবে!

ডঃ রায় –বেশ। তা সেই পুরুষ কি গর্ভ ধারণ করতে পারবেন?

সঞ্চালক – তাই তো! পারবেন কি?

ডঃ রায়-  আপনার কি মনে হয়?

সঞ্চালক- জানি না। আপনিই বলুন।

ডঃ রায়- যদি বলি পারবে। কিন্তু কিভাবে? আপনাদের মতে তো ওর পুরুষাঙ্গ দিয়ে শুক্রানু নির্গত হওয়া উচিৎ।

সঞ্চালক- উচিৎ। কিন্তু ওনার ক্ষেত্রে মনে হয় তা হবে না।  কারণ আপনি তো বললেন ওই পুরুষটির অভ্যন্তরে জরায়ু আছে।

ডঃ রায়-একদম তাই। এবং ওর অভ্যন্তরে জরায়ু থাকার জন্য উনি গর্ভধারণও করতে পারবেন। কিন্তু তা দেখে আপনারা মিডিয়ায় বলবেন পুরুষ হলেন গর্ভবতী! কারণ আপনারা নারী পুরুষ বিচার করেন বাহ্যিক অংশ দেখে।

সঞ্চালক- বুঝলাম।

ডঃ রায়- ধন্যবাদ। এবার ধরুন এমন মানুষও পৃথিবীতে আছেন যার বাহ্যিক অংশে যোনি আছে কিন্তু অভ্যন্তরে আছে টেস্টিস মানে শুক্রাশয়! আর তিনি আপনাদের বিচারে…

সঞ্চালক- নারী!

ডঃ রায়- জানি। কিন্তু বাহ্যিক অংশে পেনিস না থাকলেও টেস্টিস থাকার কারণে ওই মানুষটির শরীরে শুক্রানু উৎপন্ন হতে পারে আর সেই উৎপন্ন শুক্রাণু গর্ভস্থ করতে পারে তার প্রিয় নারীকে।

সঞ্চালক- কি বলছেন!

ডঃ রায়- ঠিকই বলছি। এখন বলুন এই ঘটনা শুনে আপনাদের মিডিয়া কি বলবে? দুই নারীর শারীরিক মিলনে গর্ভধারন। তাই তো?

সঞ্চালক- হ্যাঁ। তাই বলা হবে। বলা হবে কেন! এখনই তো বলছি আমরা। আজকের অনুষ্ঠানের হেডলাইন তাই ভগীরথ জননীর বাস্তবায়ন যা আপনার ঐতিহাসিক গবেষণায় সম্ভব হয়েছে।

ডঃ রায়- ধন্যবাদ। শুধু একটা কথা। এদের স্বাভাবিক মিলনক্রিয়ায় তা সম্ভব হয় নি। কিছুটা কৃত্রিমতার সাহায্য নিতে হয়েছে।

সঞ্চালক- তা নিতে হোক। দুই নারীর মিলনেই তো তা হয়েছে। যাইহোক, আপনি যেভাবে এই বিষয়ে সাফল্য এনে দিয়েছেন সেক্ষেত্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য নারী পুরুষের চিরাচরিত মিলনক্রিয়ায় কনসেপ্টটাই ভেঙে পড়বে এবার।

ডঃ রায়- আমরা সকলে মানুষ। কি দরকার এই নারী পুরুষের শ্রেণিবিভাগের? মানুষের সৃজনশীলতায় যখন তার পরিচয় তখন শরীরী কিছু চিহ্ন দেখে ভেদাভেদ তুলে দেওয়াই উচিত।

সঞ্চালক-  নিশ্চয়। যাইহোক ডঃ রায় আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ। আপনার গবেষণা সমাজের মঙ্গলসাধন করুক এই কামনা জানিয়ে শেষ করি।

ডঃ রায় – মঙ্গলময় তো হবেই। কারণ ভুলে যাবেন না যে ভগীরথ জননীরা ভগীরথের জন্ম দেবেন যিনি পুণ্য গঙ্গাকে মর্তে এনে সব মলিনতা ধুয়ে দেবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here