যৌনপ্রথা ভাঙার চলচ্চিত্র উৎসব ঘিরে শহরে দর্শকের ঢল

0
719

যৌনপ্রথা ভাঙার চলচ্চিত্র উৎসব ঘিরে শহরে দর্শকের ঢল

কার্যনির্বাহী সম্পাদক, বসুশ্রী, কলকাতা : ক’দিন আগেই নন্দনে শেষ হয়েছে ২৩ তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। বিভিন্ন দেশের সো কলড্‌ মেইনস্ট্রিম ফিচার ফিল্ম, শর্টফিল্ম, ডকুমেন্টারি নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় এই ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। পশ্চিমবঙ্গ সরকার যার আয়োজক।

সেই একই আদলে নানা দেশের ফিচার ফিল্ম, শর্টফিল্ম, ডকুমেন্টারি, ভিডিওগ্রাফি নিয়ে আয়োজিত এই চলচ্চিত্র উৎসবও। তফাৎ শুধু চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তুতে। মানবজীবনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ন বিষয় যৌনতা কে ঘিরে তৈরি চলচ্চিত্র নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এই উৎসব। আয়োজক কলকাতার বিখ্যাত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা স্যাফো ফর ইক্যুয়ালিটি, প্রত্যয় জেন্ডার ট্রাস্ট এবং গ্যেটে ইন্সটিটিউট ম্যাক্সমুলার ভবন আর এর  ভেন্যু পার্টনার বসুশ্রী।

যাইহোক, ‘ যৌনতা ’ নামক বিষয়কে ঘিরে সমাজে এত ট্যাবু, এত স্টিগমা কিংবা এত ছুঁৎমার্গ রয়েছে যে সে বিষয়ে কিছু শুনতে বা দেখতেও যেন ভয়। আর সেই ভয় কাটানোর ব্রত নিয়েই যেন কিছু চলচ্চিত্রকার পরম নিষ্ঠার সঙ্গে তৈরি করে চলেছেন একের পর এক বিভিন্ন মুভি। তাতে যোগ্য সঙ্গত করতেই প্রতিবছর এই চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন যার পোশাকী নাম ‘ডায়লগস্‌’।

                                                           এলজিবিটিকিউ বিষয়ক চলচ্চিত্র উৎসবের শুরু হয়েছিল ২০০৭ সালে। তখন থেকে গতবছর পর্যন্ত এই উৎসব অনুষ্ঠিত হত ম্যাক্সমুলার ভবনে। কিন্তু উৎসবের জনপ্রিয়তার উত্তোরত্তর বৃদ্ধিকে গুরত্ব দিয়ে আয়োজক গোষ্ঠী আরও বড় প্রেক্ষাগৃহের সন্ধান করতে থাকেন। তারই পরিনতি শহরের এক প্রাণকেন্দ্র হাজরা-কালীঘাটের নিকটে বসুশ্রী সিনেমা হলে অনুষ্ঠিত হল এই উৎসব।

এর ফল হল মারাত্মক। চারদিন ধরে চলা এই চলচ্চিত্র উৎসবে একদিকে যেমন এলজিবিটিকিউ কমিউনিটির মানুষ এসেছেন তেমনই বাইরের প্রচুর মানুষও সিনেমা দেখতে এসেছেন যা আয়োজকদের এক পরমপ্রাপ্তি বলে জানিয়েছেন আয়োজক সংগঠনের এক অন্যতম কর্তা।

যাইহোক, চারদিনের এই উৎসবে জার্মানি, আমেরিকা, ফ্রান্স, চিলি, ইটালি,সুইডেন, স্পেন,ব্রাজিল সহ নানা দেশের চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। এর পাশাপাশি ভারতের বিভিন্ন ভাষার যেমন মারাঠী, মালায়লম, বাংলা ইত্যাদি ভাষার ছবিও প্রদর্শিত হয়। সব মিলিয়ে যথার্থই এই উৎসব আন্তর্জাতিক। উৎসবে প্রদর্শিত ছবিগুলির মধ্যে দর্শকমনে বিশেষভাবে দাগ কাটে মাই সন ইজ গে(তামিল), আবু( ইংলিশ), বাটারফ্লাই(স্পানিশ), মাছের ঝোল ( ইংলিশ), নাচ লন্ড্রা নাচ ( ভোজপুরী), মি মাইসেলফ এন্ড হার  ( ইটালিয়ান) দ্য আদার লাভ স্টোরি ( হিন্দী), সিসক ( সাইলেন্ট মুভি) ইত্যাদি।

উৎসবের আরও বড় প্রাপ্তি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার গৌতম ঘোষের উপস্থিতি। বলা বাহুল্য তাঁর উপস্থিতি উৎসবের গরিমা এক অন্যমাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ, ২০১২ সালে এই চলচ্চিত্র উৎসবে উপস্থিত ছিলেন আর এক কিংবদন্তী চলচ্চিত্রকার ঋতুপর্ণ ঘোষ ও অভিনেতা যীশু সেনগুপ্ত। সবমিলিয়ে বলা যেতেই পারে, এই উৎসব এখন আর অপর যৌনতার মানুষদের উৎসব নয়, তা সর্বোতভাবেই সার্বজনীন হয়ে উঠেছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here