ভগীরথের জন্ম বুঝিয়ে দেয় পিতৃতন্ত্রের অপ্রয়োজনীয়তা – বসুন্ধরা মন্ডল

0
1102
ছবি সৌজন্যে ইন্টারনেট

ভগীরথের জন্ম বুঝিয়ে দেয় পিতৃতন্ত্রের অপ্রয়োজনীয়তা – বসুন্ধরা মন্ডল

ছবি সৌজন্যে ইন্টারনেট

ভগীরথের জন্ম মহাকাব্যের এক অতি গুরুত্বপূর্ণ তথা বিষ্ময়কর ঘটনা। আজকের বৈজ্ঞানিক ধ্যানধারনায় এই ঘটনা অবাস্তবও বটে। কিন্তু আমি আজ শুধুমাত্র এই ঘটনাটি নয়, তার সাথে আলোচনা করব কখনো আলোকে না আসা ভগীরথের দুই জননীকে নিয়ে। আমার আলোচ্য বিষয় হল এই দুই নারীর মধ্যে গড়ে ওঠা পিতৃতন্ত্র বিরোধী সম্পর্ক যা চোখে আঙুল দিয়ে পিতৃতন্ত্রের অপ্রয়োজনীয়তা। পাশাপাশি আওয়াজ তোলে সমলৈঙ্গিক সম্পর্কে পক্ষে। প্রথমেই আসা যাক দুই সতীনের মধ্যে গড়ে ওঠা সম্পর্কের প্রসঙ্গে। যখনই দুজন নারী একজন পুরুষকে তাদের স্বামী হিসাবে পায় তখনই ভেবে নেওয়া হয় যে তাদের সম্পর্ক শুধুমাত্র ঘৃণা ও হিংসার হবে। কিন্তু অনেকক্ষেত্রেই ব্যাপারটি সম্পূর্ণ আলাদা হয়। কখনো কখনো দুই সতীনের মধ্যে সুমধুর গভীর সম্পর্কও গড়ে ওঠে। ভগীরথের দুই জননীর মধ্যে তেমনই সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক গভীর প্রেমের সম্পর্ক। স্বামীর মৃত্যুর পর সাধারণত বৈধব্যের জীবন দুর্গতিপূর্ণ হয়ে থাকে; কিন্তু এখানে দুই বিধবা নারী যেন এক মুক্ত জীবন পেয়ে মাতৃতান্ত্রিক পরিবার গড়ে তুলতে সচেষ্ট হয় যার অবিশ্বাস্য ফসল ভগীরথের জন্ম।

ভগীরথের জননীদ্বয় সমলৈঙ্গিক সঙ্গমে লিপ্ত হয়েছেন এবং তার পরিনতিতে ভগীরথের জন্ম। কিন্তু রামায়ণের ন্যায় এক পবিত্র গ্রন্থ কিভাবে সমলৈঙ্গিক সঙ্গমের ন্যায় তথাকথিত অপবিত্র বিষয়কে প্রশ্রয় দিল? হিন্দু আইনগ্রন্থ অনুযায়ী বিভিন্ন মহাকাব্য ও পুরাণে সমলৈঙ্গিক সম্পর্ককে কুরুচিকর অভিহিত করা হয়েছে। সুতরাং, প্রশ্ন উঠেছে যে সমলৈঙ্গিক সঙ্গম পবিত্র নাকি অপবিত্র? এই প্রশ্নের উত্তর হিসাবে আমরা পাই যে সমলৈঙ্গিকতা অপবিত্র হিসাবে বিবেচিত হলেও ক্ষেত্রবিশেষে তা পবিত্র। এমনকি এই ধরনের সঙ্গম হতে ভগীরথের ন্যায় উৎকৃষ্ট মানব সন্তানের জন্ম হতে পারে এবং সেই ভগীরথের জন্মের কারণে তার মাতৃদ্বয়কে কোন অভিযোগের সম্মুখীন হতে হয় নি।

“প্রশ্ন উঠেছে যে সমলৈঙ্গিক সঙ্গম পবিত্র নাকি অপবিত্র? এই প্রশ্নের উত্তর হিসাবে আমরা পাই যে সমলৈঙ্গিকতা অপবিত্র হিসাবে বিবেচিত হলেও ক্ষেত্রবিশেষে তা পবিত্র। “

কিন্তু এখন  সমলৈঙ্গিকতাকে মানুষ নীচু নজরে দেখে এবং সমকামী মানুষদের বেঁচে থাকার অধিকার পদে-পদে লুন্ঠিত হয়। কিন্তু মানুষের মনে রাখা উচিৎ যে সমলৈঙ্গিকতা আজকের আদব কায়দা নয়। ভগীরথের জননীদ্বয়ের সমকামিতা তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

 

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here