রবীন্দ্র কবিতা অবলম্বনে শ্রুতিনাটক খোলা হাওয়া। লিখেছেন অবকাশে সঞ্জয়

0
559

রবীন্দ্র কবিতা অবলম্বনে শ্রুতিনাটক খোলা হাওয়া। লিখেছেন অবকাশে সঞ্জয়

সাহিত্যিক অবকাশে সঞ্জয়  

শ্রুতি নাটক

খোলা হাওয়া 

 অবকাশে সঞ্জয় 

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা বাণিজ্যে বসতে লক্ষ্মীঃ অবলম্বনে শ্রুতি নাটক

 খোলা হাওয়া

               অবকাশে সঞ্জয়

                      চরিত্রলিপি

রকি- বেতার সঞ্চালক

শুভম- শিক্ষিত যুবক

মা- শুভমের মা

সার্থক মিত্র- শিল্পমন্ত্রী

শ্রোতা – জনৈক শ্রোতা

( বাংলা এফ এম নামক এক চ্যানেলে লাইভ শো চলছে। সঞ্চালক ও এক শিক্ষিত যুবক অতিথি হিসাবে উপস্থিত আছেন)

সঞ্চালক – নমস্কার।আপনারা শুনছেন বাংলার এফ এম নাইনটি টু পয়েন্ট থ্রি। বাংলার মান বাংলার প্রাণ।আপনাদের সঙ্গে আমি আছি রকি। আজ রবিবার। ঘড়ির কাঁটা বলছে এখন রাত্রি আটটা।আর আটটা মানেই কেরিয়ার গাইড।তবে আজ আমরা কোন চাকরীর পরীক্ষা নিয়ে কথা বলব না। কথা বলব অন্য একরকম কেরিয়ারের স্বপ্ন নিয়ে।আর সেই স্বপ্নের কথা বলার জন্য আমাদের মধ্যে আজকে পেয়েছি স্পেশাল একজনকে। তবে তার সঙ্গে আলাপের আগে আমাদের একটা ছোট্ট ব্রেক নিতেই হবে। কোথ্‌থাও যাবেন না। ফিরে আসছি এক্ষুনি। 

 (বিজ্ঞাপনের মতো করে নেপথ্য সংলাপ- চাকরীর পরীক্ষায় নিশ্চিত সাফল্য পেতে আজই ভর্ত্তি হন অভিজ্ঞ শিক্ষকমন্ডলী দ্বারা পরিচালিত VICE-এ বিস্তারিত জানতে ডায়াল করুন ৮৬১৭৭৯৪৬৭৩)

সঞ্চালক – ফিরে এলাম ব্রেকের পর। আপনারা শুনছেন বাংলার এফ এম নাইনটি টু পয়েন্ট থ্রি। বাংলার মান বাংলার প্রাণ।কথা হচ্ছে কেরিয়ার গাইড নিয়ে। এ বিষয়ে কথা বলতে আজ আমরা আমাদের মধ্যে পেয়েছি শুভমকে।না, বন্ধুরা শুভম কোন কেরিওলজিস্ট নয়।তাহলে ভাবছেন তো কে এই শুভম। শুনে নেওয়া যাক শুভমের নিজের মুখেই ( শুভমের মুখের দিকে তাকিয়ে)

শুভম – নমস্কার। আমি শুভম। শুভম দত্ত। আজ বাংলার এফ এম এ আসতে পেরে আমি ধন্য। বন্ধুরা, রকিদা একটু আগেই বলেছে আমি কোন কেরিওলজিস্ট নই।সত্যি বলতে কি আমি এখনও কেরিয়ার শুরুই করিনি।সবেমাত্র এডুকেশন লাইফ শেষ করেছি। 

সঞ্চালক- এখনো যারা শুভমকে চিনতে পারেন নি তাদের জন্য বলি ছয় বছর আগে মাধ্যমিকে যে ফার্স্ট হয়েছিল তার নাম মনে আছে কি? হ্যাঁ একেবারে ঠিকই মনে পড়েছে।শুভম।এই সেই শুভম। এখন ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে কেরিয়ার শুরুর প্রতীক্ষায়। (শুভমের দিকে তাকিয়ে)তাহলে শুভম, এখন তোমার লক্ষ্য কি? নিশ্চয় আমেরিকা?

শুভম – ইন্ডিয়া।ওয়েস্টবেঙ্গল।আমার বাংলা।আমাদের বাংলা।কারণ আমি আমার আমিকে এই বাংলায় খুঁজে পাই (গানের শুরে)

সঞ্চালক- হোয়াট!এখানে,চাকরী করবে?এই বেঙ্গলে?

শুভম – চাকরী করব একথা তো বলিনি।বলেছি আমার লক্ষ্য বেঙ্গল।আমার বাংলা।

সঞ্চালক- বুঝতে পারলাম না।আর একটু ক্লিয়ারলি বলো।

শুভম –        নব নব পবন ভরে যাব দ্বীপে দ্বীপান্তরে

              নেব তরী পূর্ণ করে অপূর্ব ধন যত

             ভিখারী তোর ফিরবে যখন ফিরবে রাজার মতো

             যাবই আমি যাবই ওগো, বাণিজ্যেতে যাবই

             তোমায় যদি না পাই তবু আর কারে তো পাবই।  ( আবৃত্তির সুরে )

সঞ্চালক- রবীন্দ্রনাথ। বাণিজ্যে বসতে লক্ষীঃ

শুভম- হ্যাঁ।ঠিক তাই। 

সঞ্চালক- বন্ধুরা শুরুতেই বলেছিলাম, আজ অন্যরকম কেরিয়ারের স্বপ্ন দেখা একজনের সঙ্গে কথা বলব। এতক্ষনে নিশ্চয় বুঝে গেছেন, শুভম আর পাঁচজনের মতো কেরিয়ার গড়তে চায় না। সে কি চায় শুনবো তারই মুখে। তবে তার আগে ছোট্ট একটা ব্রেক নিতেই হবে।শুনতে থাকুন বাংলার এফ এম নাইনটি টু পয়েন্ট থ্রি। বাংলার মান বাংলার প্রাণ। 

(বিজ্ঞাপনের মতো করে নেপথ্য সংলাপ- চাকরীর পরীক্ষায় নিশ্চিত সাফল্য পেতে আজই ভর্ত্তি হন অভিজ্ঞ শিক্ষকমন্ডলী দ্বারা পরিচালিত VICE-এ বিস্তারিত জানতে ডায়াল করুন ৮৬১৭৭৯৪৬৭৩) 

সঞ্চালক- ফিরে এলাম ব্রেকের পর। আপনারা শুনছেন বাংলার এফ এম নাইনটি টু পয়েন্ট থ্রি।বাংলার মান বাংলার প্রাণ।সঙ্গে আছি আমি রকি। কথা হচ্ছে কেরিয়ার গাইড নিয়ে।আর সেজন্য আমাদের সঙ্গে আছে শুভম। এখন আমরা শুভমের কাছে জানতে চাইবো রবীন্দ্রনাথের কবিতা কিভাবে ওকে কেরিয়ার নিয়ে অন্যরকম ভাবতে সাহায্য করেছে। বলো শুভম, বাণিজ্যে বসতে লক্ষ্মীঃ-র প্রভাব তোমার জীবনে কতখানি। 

শুভম – অনেক। আমি তখন সবেমাত্র মাধ্যমিক পাশ করেছি। কবিগুরুর ক্ষণিকা কাব্যগ্রন্থটি পড়ছি। হঠাৎ একটি কবিতায় চোখ আটকে গেল। বাণিজ্যে বসতে লক্ষ্মীঃ। বলতে গেলে কবিতাটি আমার জীবন দর্শনেই পরিবর্তন এনে দিল।

সঞ্চালক- কি রকম?

শুভম – এতদিন ভাবতাম শিক্ষার প্রধান লক্ষ্য চাকরী। যত ভালো রেজাল্ট তত ভালো চাকরী। সেই মন্ত্রকে জপমালা করে একাগ্রচিত্তে পড়াশোনা করেছি। ফার্স্ট হয়েছি প্রতিবছর। একটাই লক্ষ্য, পৃথিবীর সেরা চাকরীটা আমার চাই। একবারও ভাবিনি সেরা চাকুরীজীবীর নাম কেউ লিখে রাখে না। কিন্তু সেই চাকরী প্রদানকারীর নাম সর্বত্র জ্বলজ্বল করে।

সঞ্চালক- তাহলে তুমি এখন বাণিজ্যে বসত গড়তে চাও?

শুভম- হ্যাঁ। ওই কবিতা পাঠ না করলে আমিও আর পাঁচটা বাঙালীর মতো শয়নে-স্বপনে-জাগরণে হয়তো চাকরীর সাধনায় করতাম। ভাবতাম না বাঙালি বাণিজ্যে বসতী গড়ে না বলেই… লক্ষ্মী ক্রমশ বাঙালীর কাছ থেকে দূরে সরে সরে যাচ্ছে।

সঞ্চালক- মানছি তোমার কথা ঠিক। কিন্তু বাঙালীর মূলধন কোথায়? বাণিজ্য করতে মূলধন চায়। এটা তো স্বীকার করবে। 

শুভম- হ্যাঁ, চাকরী করতে শিক্ষা চায়, বাণিজ্য করতে মূলধন। বাজার চলতি এই স্লোগান শুনে শুনে আমরা এতই অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি যে স্লোগান টা ঠিক না ভুল সেটা ভেবেও দেখি না।

সঞ্চালক- তুমি কি ভেবেছো শুনবো। শ্রোতাবন্ধুরাও এই নিয়ে কি ভাবেন তা শোনাতে পারেন। ৮৬১৭৭৯৪৬৭৩ এই নাম্বারে। তবে তার আগে ছোট্ট এক গানের বিরতি। 

( চেনা শোনার কোন্‌ বাইরে       যেখানে পথ নাই নাইরে

                        সেখানে অকারণে যায় ছুটে ।। )

( পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে পাগল আমার মন জেগে ওঠে- গানটির উপরি উক্ত অংশটুকু নেপথ্যে খালি গলায় গাইলেও হবে। রেকর্ডিং থেকে কাট করেও বাজালে হবে।)

সঞ্চালক- চেনা শোনার কোন্‌ বাইরে। যেখানে পথ নাই নাইরে। শুভম বাণিজ্যের জন্য মূলধন ছাড়া অন্য পথ আমাদের ধারনার বাইরে। তুমি বলো কি সেই পথ।

শুভম- বাণিজ্য করতে হলে মূলধন নয়, চাই শিক্ষা আর নতুন কিছু করার সাহস। এই দুটো থাকলে বাকীটার ব্যবস্থা ঠিক হয়ে যাবে। 

সঞ্চালক- বাহ! ঠিক বলেছো শুভম। আমাদের দেশে বাণিজ্য করার জন্য শিক্ষার গুরুত্ব কেউ ভাবেই না। ব্যবসায়ীর শিক্ষাগত যোগ্যতা জানতেও চায় না। সবাই মনে করে মূলধন থাকলেই বাণিজ্য হবে। কিন্তু তুমি আজ চোখ খুলে দিলে।

( ক্রিং ক্রিং ক্রিং। ক্রিং ক্রিং ক্রিং। ক্রিং ক্রিং ক্রিং। )

সঞ্চালক- শুভম কোন এক শ্রোতাবন্ধু আমাদের সঙ্গে তার ভাবনা শেয়ার করতে চান। শুনে নিই তার ভাবনা। নমস্কার। কে বলছেন?

শ্রোতা- নমস্কার। আমি বাগুইহাটি থেকে রূপম বলছি।

সঞ্চালক- হ্যাঁ রূপম, বলো কেমন আছো?

শ্রোতা- আমি ভালো আছি রকিদা। তুমি কেমন?

সঞ্চালক- আমিও খুব ভালো। তারপর রূপম তুমি নিশ্চয় আমাদের আলোচনা শুনছ। শুভম বলছে বাণিজ্য করতে মূলধনের চেয়ে বেশি প্রয়োজন শিক্ষা আর সাহস। তোমার কি মনে হয়? 

শ্রোতা আমিও শুভমের সঙ্গে একমত। তবে দুর্ভাগ্যের বিষয়, আমি বিসনেস ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পাশ করার পর, যখন বিসনেস করার লক্ষ্যে সরকারী সাহায্যের জন্য আবেদন করেছিলাম তখন আমার শিক্ষাগত যোগ্যতা ওই সাহায্য পাওয়ার শর্ত হিসেবে গুরুত্বই পায় নি। একজন মাধ্যমিক পাশ আবেদনকারী আর আমি সেখানে সমতুল্য। তারপরেও বলব, বাণিজ্যের জন্য শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। এবং আমার বিশ্বাস একদিন সরকারও তাকে গুরুত্ব দেবে। কবিগুরু সেজন্যই বলেছেন-

যদি কোথাও কুল নাহি পাই তল পাব তো তবু।

               ভিটার কোণে হতাশ মনে রইব না আর কভু। ( আবৃত্তির সুরে )

শুধু মূলধনরূপী কূল পাব না এই ভয়ে অকূল মাঝে তরী ভাসাব না তাই যদি ভাবি তাহলে ভিটার কোণে হতাশ মনে জীবন কাটাতে হবে।

সঞ্চালক – রূপম, তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। এভাবে সাহসের সঙ্গে তুমিও এগিয়ে চলো। শুভম রূপম যেকথা বলল, এ বিষয়ে তুমি কি বলবে?

শুভম- আমিও রূপমের সঙ্গে একমত। বাণিজ্যের জন্য সাহায্য চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করলে শিক্ষাগত যোগ্যতাকে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ। চাকরীর ক্ষেত্রে যেমন শিক্ষা অগ্রাধিকার পায়, বাণিজ্যেও তেমনই হোক।

সঞ্চালক- শুভম বা রূপমের ভাবনা সম্পর্কে সরকারের মত কি আমরা জানব। তবে তার আগে একটা ছোট্ট বিরতিতে যেতেই হবে। হবে। শুনতে থাকুন বাংলার এফ এম নাইনটি টু পয়েন্ট থ্রি। বাংলার মান বাংলার প্রাণ।

(বিজ্ঞাপনের মতো করে নেপথ্য সংলাপ- চাকরীর পরীক্ষায় নিশ্চিত সাফল্য পেতে আজই ভর্ত্তি হন অভিজ্ঞ শিক্ষকমন্ডলী দ্বারা পরিচালিত VICE-এ বিস্তারিত জানতে ডায়াল করুন ৮৬১৭৭৯৪৬৭৩)

সঞ্চালক- ফিরে এলাম বিরতির পর। আপনারা শুনছেন বাংলার এফ এম নাইনটি টু পয়েন্ট থ্রি। বাংলার মান বাংলার প্রাণ। সঙ্গে আছি আমি রকি। কথা হচ্ছে কেরিয়ার গাইড নিয়ে। আর সেজন্য আমাদের সঙ্গে আছে শুভম। আমরা বিরতিতে যাওয়ার সময় বলেছিলাম, শুভমদের ভাবনা নিয়ে সরকারের মত কি জেনে নেব। আর তার জন্য আমরা যোগাযোগের করেছি ভেরি ভেরি স্পেশাল একজনের সঙ্গে। তিনি আর কেউ নন। তিনি হলেন আমাদের রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী সার্থক মিত্র। ( শিল্পমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে ) নমস্কার স্যার, বাংলার এফ এম নাইনটি টু পয়েন্ট থ্রি তে আপনাকে স্বাগত। আজ আমরা কথা বলছি কেরিয়ার গাইড নিয়ে। সেজন্য স্টুডিও তে আমাদের সঙ্গে আছে বাংলার এক কৃতি ছাত্র শুভম। ও মাধ্যমিকে ফার্স্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ফার্স্ট হয়েছে। তারপরেও শুভম চাকরী না করে বাণিজ্য করতে চায়।

শিল্পমন্ত্রী- গুড। ভেরি গুড। বাংলার পক্ষে এ তো অত্যন্ত সুখবর।

সঞ্চালক স্যার, শুভম আপনাকে কিছু বলতে চায়।

শিল্পমন্ত্রী বলো শুভম, কি বলতে চাও। 

শুভম- স্যার, আমি শুভম বলছি। প্রথমেই আমার প্রণাম নেবেন।

শিল্পমন্ত্রী- তুমিও আমার আশীর্বাদ নিও।

শুভম- স্যার আমার ইচ্ছে, আমি বাণিজ্যেরই করব মহাজনি

শিল্পমন্ত্রী আমার কাছে কি চাও কহো শুনি।

শুভম- একটু সহযোগিতা আর স্নেহের পরশ। 

শিল্পমন্ত্রী- শুভম, তুমি লোভনীয় চাকরীর প্রলোভন থেকে নিজেকে মুক্ত করে বাণিজ্যে বসত গড়তে চাইছ, আর আমরা তোমাকে সাহায্য করব না, তা কি হয়? আমাদের সরকার তোমাকে সবরকম সাহায্য করবে। তুমি এগিয়ে চলো, সাজিয়ে নিয়ে তোমার জাহাজখানি।

শুভম- থ্যাংক ইউ স্যার। থ্যাংক ইউ। আর একটা অনুরোধ? 

শিল্পমন্ত্রী- বলো। 

শুভম- স্যার, আমার মতো অনেকেই উচ্চশিক্ষিত হয়ে বাণিজ্য করতে আগ্রহী। সেজন্য বাণিজ্য বিষয়ক সাহায্যনীতিতে যদি শিক্ষা কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় খুব ভালো হয় স্যার।

শিল্পমন্ত্রী- বাহঃ! খুব ভালো প্রস্তাব। আমি এই নিয়ে মন্ত্রীসভায় কথা বলব।

শুভম – থ্যাংক ইউ স্যার। 

শিল্পমন্ত্রী তোমরা এভাবেই এগিয়ে এসো শুভম। গড়ে তোলো সোনার বাংলা। সরকার তোমাদের পাশে থাকবে।

সঞ্চালক- স্যার, আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমাদের এভাবে এতক্ষণ সময় দেওয়ার জন্য।

শিল্পমন্ত্রী- আপনাদেরও ধন্যবাদ। চাকরীকেই শুধু কেরিয়ার গড়ার লক্ষ্য না বলে বাণিজ্যের কথা বলেও যুবসমাজকে উদ্বুদ্ধ করছেন।

সঞ্চালক- তাহলে শুভম, এখন কি মনে হচ্ছে… 

 শুভম- মনে হচ্ছে, এবার আমি- 

                 কোন্‌ দিকে যে বাইব তরী অকূল কালো নীরে

                 মরব না আর ব্যর্থ আশায় বালুমরুর তীরে।

                যাবই আমি যাবই ওগো, বাণিজ্যেতে যাবই।

            তোমায় যদি না পাই তবু আর- কারে তো পাবই। ( আবৃত্তির সুরে )

সঞ্চালক- অসাধারণ। শুভম, আমাদের খুব জানতে ইচ্ছে করছে শুধুই কি রবীন্দ্রনাথের কবিতা পড়েই এমন প্রেরণা পেয়েছো তুমি? নাকি এর পিছনে অন্য কারও হাতও আছে।

শুভম ( মৃদু হাসির শব্দ ) – আছে। একজন আছে।

সঞ্চালক- কে তিনি? নিশ্চয় স্পেশাল কেউ।

শুভম- হ্যাঁ, খুব স্পেশাল একজন। 

সঞ্চালক- তোমার ঠোঁটের হাসি বলে দিচ্ছে সেই বিশেষ জন কোন এক নারী। 

শুভম – ঠিকই ধরেছেন। 

সঞ্চালক- ওয়াহঃ! শুভমকে বাণিজ্যে বসত গড়ার প্রেরণাদাত্রীর কথা আমরা শুনবো। তবে তার আগে একটা গান শুনে নেওয়া যাক।

সকাল আমার গেল মিছে    বিকেল যে যায় তারই পিছে গো-  

                     রেখো না আর,  বেঁধো না আর কুলের কাছাকাছি।।

                 আমি ডুবতে রাজি আছি  আমি ডুবতে রাজি আছি ।।

( তোমার খোলা হাওয়া- গানটির এই অংশটুকু খালি গলায় গাইতে হবে। রেকর্ডিং থেকে কাট করেও বাজালে হবে। )

সঞ্চালক শুভমের জন্য কার সকাল থেকে বিকেল মিছে হয়ে যায়। তারপরেও কে বলেন আমি ডুবতে রাজী আছি … শুনবো শুভমের মুখেই। ( শুভমের দিকে তাকিয়ে ) বলো শুভম, কে সেই নারী যাঁর প্রেরণা তোমার পাথেয়। 

শুভম- আমার মা।

সঞ্চালক- ও মাই গড! আমি বুঝতে পারছি শ্রোতাবন্ধুরা অন্যকিছু অনুমান করেছিলেন। তবে শ্রোতাবন্ধুরা একদম হতাশ হবেন না। কারণ শুভম আপনাদের হতাশ করবেই না। ও সেই ছেলেই নয়। যাইহোক শুভমের প্রেরণাদাত্রী তার মায়ের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করতে পেরেছি। এখন শুনে নিই, মাসীমা কি বলছেন শুভমের সম্পর্কে। নমস্কার মাসীমা, আমি বাংলার এফ এম থেকে রকি বলছি।

মা- হ্যাঁ, বাবা, বলো। 

সঞ্চালক- মাসীমা আপনার নয়নের মণি শুভম, চাকরীর মতো নিরাপদ আশ্রয় ছেড়ে অকূল মাঝে একা তরী ভাসিয়ে যেতে চাইছে অজানায়। আপনিও কি তাই চান? 

মা- নারিকেলের শাখে শাখে ঝোড়ো বাতাস কেবল ডাকে। আমার শুভমকে। এরপর আমি কি আঁচলে ওকে বেঁধে রাখতে পারি? না বেঁধে রাখা উচিৎ? ওর মন যা চায় ও তাই করুক। আমার আশীর্বাদ সর্বদা ওর সঙ্গে থাকবে। 

সঞ্চালক- মাসীমা, প্রার্থনা করি আপনার মতো মা যেন বাংলার ঘরে ঘরে জন্ম নেন। তাহলে আমরা হাজার হাজার শুভমকে পাব যাদের হাত ধরে এই বাংলায় বসত গড়বে লক্ষ্মীঃ। ভালো থাকবেন মাসীমা। 

মা- তোমরাও ভালো থেকো। 

সঞ্চালক- এতক্ষণ আমরা শুভমের মায়ের সঙ্গে কথা বলছিলাম। আর কথা বলে বুঝলাম, ওর বাণিজ্যে বসত গড়তে চাওয়ার পিছনে ওর মায়ের অবদান কতখনি। এগিয়ে চলো শুভম। আমাদের সবার শুভেচ্ছা রইল তোমার জন্য। 

শুভম- থ্যাংক ইউ। 

সঞ্চালক- তাহলে শ্রোতাবন্ধুরা আজ এখানেই শেষ করলাম কেরিয়ার গাইড। আজকের কেরিয়ার গাইড কেমন লাগলো জানাতে ভুলবেন না। সকলে ভালো থাকুন। আর শুভমের মতো ভাবতে থাকুন- খোলা হাওয়ায়…

তোমার   খোলা হাওয়া লাগিয়ে পালে টুকরো করে কাছি

              আমি ডুবতে রাজী আছি  আমি ডুবতে রাজী আছি ।।

সমাপ্ত

 

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here