ইমানুল হকের শাস্তি ও মানবী বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ দাবি ট্রান্সজেন্ডাদের ধর্নামঞ্চে

0
327
ছবি সৌজন্যে রঞ্জিতা সিনহা। ধর্নামঞ্চে মানবশৃঙ্খল
ইমানুল হকের শাস্তি ও মানবী বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ দাবি ট্রান্সজেন্ডাদের ধর্নামঞ্চে
ছবি সৌজন্যে রঞ্জিতা সিনহা। ধর্নামঞ্চে মানবশৃঙ্খল

নিজস্ব প্রতিবেদন

২১এ এপ্রিল , ২০১৮ রানুছায়ামঞ্চ, কলকাতা

   পর আমাকে আঘাত করুক নেইকো তাতে ক্ষতি / আপন যখন আঘাত হানে দুঃখ লাগে অতি। রূপান্তরকামীদের সেই আপনজন মানবী বন্দ্যোপাধ্যায়, রূপান্তরিত নারী হিসাবে দেশের প্রথম প্রিন্সিপ্যাল,  আঘাত হেনেছেন  রূপান্তরকামী নারী ও পুরুষদের আন্দোলনে। আর তাই ক্ষতবিক্ষত তথা ক্ষুব্ধ রূপান্তরকামী সমাজ। এমনটাই শোনা গেল এটিএইচবি নেটওয়ার্ক আয়োজিত কলকাতার রানুছায়া মঞ্চের  ধর্নাসভায়। গতকাল থেকে চলা এই ধর্নামঞ্চে রূপান্তরকামী সমাজের জন্য আন্দোলনকারী রঞ্জিতা সিনহা, অঙ্কন বিশ্বাস, তিস্তা দাস, অনুরাগ মৈত্রেয়ী, মধুজা নন্দী প্রমুখদের সবার গলায় একটাই সুর ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রান্সজেন্ডার ডেভলপমেন্ট বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে  মানবী বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ চাই। পদত্যাগ চাই। শুধু দাবি জানানো নয়, নানা পোস্টারে সেই দাবি লিখেও তারা প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। জানা গিয়েছে ধর্না শেষে আগামী ২৩শে এপ্রিল এই দাবি নিয়ে তারা ওয়েস্টবেঙ্গল ট্রান্সজেন্ডার ডেভলপমেন্ট বোর্ডে ডেপুটেশনও জমা দেবেন এবং মানবী বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। কেন এ হেন দাবি জানতে চাওয়া হলে, আন্দোলনকারীদের একজন জানান, ঘটনার সূত্রপাত গত ১৫ই এপ্রিল। এই রানুছায়া মঞ্চে ট্রান্সজেন্ডার দিবস পালনের জন্য তারা বৈধ প্রশাসনিক অনুমতি নিয়ে সমবেত হলে ভাষা ও চেতনা নামক একটি সংস্থার সঙ্গে এটিএইচবির সংঘাত লাগে। সেই সংঘাতে বেশ কয়েকজন ট্রান্সজেন্ডার নারী ও পুরুষ যৌনহেনস্থার শিকার হন। আর সেই হেনস্থার বিচার চাইতে এটিএইচবি বোর্ডের দ্বারস্থ হলে বোর্ড কর্ণপাত করে নি। উলটে বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মানবী বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি বলেছেন, ১৫ই এপ্রিল  ট্রান্সজেন্ডার দিবস টিবস বলে কিছু নয়। ওটা একান্তভাবেই এটিএইচবির নিজস্ব অনুষ্ঠান দিবস। এমনটাই দাবি করা হয় ধর্নামঞ্চ থেকে। মঞ্চ থেকে আরও দাবি করা হয়, ট্রান্সজেন্ডার নারী-পুরুষদের উপর এ হেন জঘন্য অত্যাচার করার সব খবর উনি জানার পরেও একেবারে নিশ্চুপ। এ প্রসঙ্গে রাজ্যের প্রথম ট্রান্সজেন্ডার নারী গাড়িচালিকা পল্লবী চক্রবর্ত্তী বলেন, আজ পর্যন্ত বোর্ডের ভাইসচেয়ারম্যান হয়ে উনি ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য একটা কাজও করেন নি। এমনকি ট্রান্সজেন্ডারদের বিপদে পাশে এসে ওনাকে কখনোই দাঁড়াতে দেখা যায় নি। উনি যা করেছেন, যা করেন তা কেবল নিজের জন্য। তাই এমন স্বার্থপর ভাইসচেয়ারম্যানের অবিলম্বে অপসারণ চায়। অন্যদিকে মানবী বন্দ্যোপাধ্যায়ের এ প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানার জন্য ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায় নি। এমনকি হোয়াটাসআপ করেও কোন উত্তর মেলে নি। যাইহোক এখন দেখার এটিএইচবির দাবি মেনে উনি পদত্যাগ করেন কিনা কিংবা ডেপুটেশান দেওয়ার পর বোর্ড কোন কার্যকরী ভূমিকা নেয় কিনা।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here