মা গো, আমি অন্তরে সত্যি নারী,আমার চুল কেটো না। কিন্তু মা শোনে নি- সৃষ্টি দে, রূপান্তরকামী নারী

0
1331

মা গো, আমি অন্তরে সত্যি নারী,আমার চুল কেটো না। কিন্তু মা শোনে নি- সৃষ্টি দে, রূপান্তরকামী নারী

নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: পুঃনর্জন্ম পাই যদি যেন মা গো তোমার কোলেই ফিরে আসি। মাতৃদিবসের প্রাক্কালে নিজের ফেসবুক  ওয়ালে স্ট্যাটাস আপডেট দিতে গিয়ে এটাই লিখেছেন সৃষ্টি দে। যিনি নিজেকে একজন রূপান্তরকামী নারী মনে করেন। ভালোবাসেন নারীর মতো সাজতে। নারীর মতো আকৃষ্ট হন পুরুষের প্রতি। আবার পুরুষের লালায়িত দৃষ্টি তার শরীরে পড়লে নারীর মতো গা ঘিনঘিনও করে ওঠে। চলাফেরায়  হাঁটাচলায় , কথাবলায় , হাসিতে, চাউনিতে ধরা পড়ে সেই নারীত্ব। এতকিছুর পরেও নিজের বাড়িতে তার নারীত্বের স্বীকৃতি মেলে নি। তবু সৃষ্টি বাড়ির অমতেই নিজের নারীত্বকে একটু একটু করে প্রকাশ করছিলেন। তারই ফলশ্রুতি হিসাবে মাথাজুড়ে একরাশ চুল রেখেছিলেন। প্রতিদিন সেই চুলে হাত বুলোতেন আর অনুভব করতেন এক অনির্বচনীয় সুখ। কিন্তু একজন রূপান্তরকামী নারীর জীবনে সুখ যে ক্ষণিকের অতিথি। সৃষ্টির ক্ষেত্রেও তাই হল। নিজ গর্ভধারিনী তো কোনদিনও সৃষ্টিকে নিজের মেয়ে ভাবতে পারেন নি। তাঁর চোখে সৃষ্টি সেই ছোট্টবেলার রানা। তাঁর আদরের পুত্র। আর এই সমাজে ছেলেদের মাথায় বড় বড় চুল একেবারেই বেমানান। তাই মায়ের দৃষ্টি সৃষ্টির সেই বড় বড় চুলে পড়ামাত্রই কড়া হুকুম এল, এই চুল কাটতে হবে। সৃষ্টি অনেক অনুরোধ করলেন। কাঁদলেন। কিন্তু কিছুই লাভ হল না। মা বুঝলেন না সন্তানের অন্তর স্বত্তাকে। জোর করে কাটিয়ে দিলেন সৃষ্টির প্রাণাধিক প্রিয় সেই চুল। কাঁদতে কাঁদতে সেই চুল বিসর্জন দিলেও এখনও সৃষ্টির বিশ্বাস, একদিন তার মা, তার পরিবার ঠিকই বুঝবেন তার নারীত্বকে। সেই আশাতেই ভরসা রেখে সৃষ্টি ফেসবুকে লেখেন যতই ইচ্ছের বিরুদ্ধে অদ্ভুত মানুষ গুলি আমার চুল কাটিয়ে দিক।কিন্তু আমার অন্তরের নারী স্বত্তাকে কেউ মেরে ফেলতে পারবে না। আর নিজের মা তাকে না বুঝলেও তিনি কিন্তু মা কে ভুল বোঝেন নি। তাই সন্তান হিসাবে মায়ের প্রতি তার ভালোবাসা এখনো অটুট। আর তাই তিনি লেখেন, পুঃনর্জন্ম পাই যদি যেন মা গো তোমার কোলেই ফিরে আসি। এখন দেখার মায়ের প্রতি সৃষ্টির এত ভালোবাসার পরে ওর মা ওকে একদিন ওর নারীত্বের স্বীকৃতি দিয়ে কোলে টেনে নেন কিনা।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here