আজ নজরুলজয়ন্তী। এই পুণ্যদিনে অবকাশে-র অঞ্জলি। লিখেছেন অবকাশে সঞ্জয়

0
287

আজ নজরুলজয়ন্তী। এই পুণ্যদিনে অবকাশে-র অঞ্জলি। লিখেছেন অবকাশে সঞ্জয়

অবকাশে সঞ্জয়ঃ কবির ডাক নাম দুখু মিঞা। জনশ্রুতি আছে বাল্যকাল খুব দুঃখে কেটেছে বলে এরূপ নামকরণ। কিন্তু প্রকৃত সত্য হল-কবির জন্মের আগে কবির মায়ের চার চারটি সন্তানের অকাল মৃত্যু হয়। তাই সেই দুঃখী মায়ের পঞ্চম সন্তান নজরুলের ডাকনাম হয় দুখু। শৈশবে পিতামাতাকে হারিয়ে তিনি হয়েছিলেন বাউন্ডুলে। সেই বাউন্ডুলে জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁর প্রথম কলম ধরা সাহিত্যের জন্য। প্রকাশ হয় গল্প’বাউন্ডুলের আত্মকাহিনি’। কবির বয়স তখন কুড়ি। ইতিমধ্যে ছাপাও হয় তাঁর প্রথম কবিতা ‘মুক্তি’।

তারপর কেটে যায় আরও দুটো বছর। কবির বয়স তখন বাইশ। কবি থাকেন কলকাতার তালতলায়। দুর্গাপুজার কাছাকাছি সময়। বাতাসে আগমনীর সুর। কিন্তু কবির মনে অন্য ভাবনা। দেবী দুর্গার অষ্টতর শতরূপ ফুটে উঠছে কবির মানসচক্ষে। এ হেন সময়ে একদিন মাত্র এক রাতেই তিনি লিখে ফেললেন জীবনের শ্রেষ্ঠ কবিতা ‘বিদ্রোহী’ যা ছাপা হল ‘মোসলেম ভারত’ ( ১৯২১ কার্ত্তিক সংখ্যা) পত্রিকায়। সঙ্গে সঙ্গে তীব্র আলোড়ন। চারদিকে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ। কবি সজনীকান্ত দাস তো লিখেই ফেললেন,আমি ব্যাঙ/ লম্বা আমার ঠ্যাঙ/ বরষা আসিলে আমি/ ডাকি গ্যাঙোর গ্যাঙ

অন্যদিকে মোহিতলাল মজুমদার জানালেন, এ কবিতা আমার ‘আমি’ কবিতা ( ১৯১৪ সালে মানসী পত্রিকায় প্রকাশিত) অনুসরণে লেখা। জন্মক্ষণে এত অবজ্ঞা জুটেছিল যে কবিতার কপালে সেই কবিতার জন্যই আজও নজরুল বিদ্রোহী কবি। নজরুল ‘ধুমকেতু’ নামে এক পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। এই পত্রিকার মাধ্যমেই তিনি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেন। ফলস্বরূপ তাঁকে কারাবন্দী করা হয়। শুরু হয় অকথ্য অত্যাচার। প্রতিবাদে কবি অনশন শুরু করেন ( টানা ৪০ দিন অনশন করেছিলেন) আর তা শুনে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ লেখেন- গিভ আপ ইয়োর হাঙ্গার স্ট্রাইক, আওয়ার লিটারেচার ক্লেমস ইউ। সেই রবীন্দ্রনাথ যখন দেহ রাখেন তখন নজরুল লেখেন – ঘুমাইতে দাও শ্রান্ত রবিরে।                                                                                      কবি হিন্দু মুসলিমের মিলন চাইতেন। তাই লেখেন- হিন্দু-মুসলমান দুটি ভাই/ ভারতের দুই আঁখিতারা/ এক বাগানে দুটি তরু/  দেবদারু আর কদমচারা। তাঁর এ চাওয়া শুধু লেখনির মাধ্যমে নয়, বাস্তব জীবন দিয়ে চাওয়া। তাইতো তিনি হিন্দু মেয়ে প্রমীলা সেনগুপ্তকে ভালোবেসে বিয়ে করেন আর তাঁর সম্মানে লেখেন ‘বিজয়িনী’ কবিতা।

কবির সমাধিক্ষেত্র। সৌজন্যে ইন্টারনেট

কবি ছিলেন সুগায়ক। এর পুরস্কার স্বরূপ কবি চাকরী পান কলকাতা বেতার কেন্দ্রে। সেখানেই একদিন এক ‘ছোটদের আসরে’ নামক অনুষ্ঠান চলাকালীন কবি হারিয়ে ফেলেন তাঁর বাকশক্তি        ( ১৯৪২ সাল) সেই থেমে যাওয়া। এরপর ৩৪ টা বছর জীবিত থাকলেও আর কলম ধরতে পারেন নি। অবশেষে বিদ্রোহী বীর মৃত্যুর কাছে নোয়ান তাঁর শির। সকল দুঃখ যন্তনা থেকে মুক্ত হয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here