পৃথিবীতে একটাই জেন্ডার “মানুষ”- বললেন কবি অনুব্রতা গুপ্ত তার LGBT বিষয়ক মুক্তগদ্যে

0
2674

পৃথিবীতে একটাই জেন্ডার “মানুষ”- বললেন কবি অনুব্রতা গুপ্ত তার LGBT বিষয়ক মুক্তগদ্যে  

 

অনুব্রতা গুপ্তা 

প্রথমে টার্মগুলোকে ক্লিয়ার করে দিই যারা নতুন জানছেন বা সব’টা জানেননা তাদের জন্য।

L- লেসবিয়ান (নারী হয়ে নারীর প্রতি যৌন আকর্ষণ অনুভবকারী)

G- গে (পুরুষ হয়ে পুরুষের প্রতি যৌন আকর্ষণ অনুভবকারী)

B- বাই sexual (যে লিঙ্গেরই হন,নারী ও পুরুষ উভয়ের প্রতি যৌন আকর্ষন অনুভবকারী)

T- Transgender (রূপান্তরকামী)

ছেলের প্রতি মেয়ের এবং মেয়ের প্রতি ছেলের যৌন আকাঙ্ক্ষার বাইরেও উপরিউক্ত যৌন আকর্ষন ও যৌন চাহিদার অস্তিত্ব রয়েছে।
এবং দুটি বিপরীত লিঙ্গের যৌন আকর্ষন ও অস্তিত্বের মতো এগুলিও সাধারণ।এরমধ্যে বিকৃতকাম বা abnormality নেই।
বিজ্ঞানসম্মত নির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।তবে বেশ কিছু অনুমান নির্ভর তথ্য তৈরী হয়েছে।গবেষণা চলছে আরো অনেক।
কিন্ত আমরা যারা মেজরিটি’র আওতায় পড়ি তাদের এদের সম্পর্কে বেশ একটা ভ্রান্ত এবং আক্রমণকারী মনোবৃত্তি আছে।আমরা মেয়েদের মধ্যে ছেলেদের মতো আচরণ বা ছেলেদের মধ্যে মেয়েদের মতো আচরণ মেনে নিতে পারি না।হাসি ঠাট্টা করি।টোন কাটি।পাশ কাটিয়ে চলি।আর এই ভয়ে,লজ্জায় প্রচুর মানুষ নিজেদের অরিজিনাল Sexual Identity কে চেপে রাখে।এবং মনে মনে যারা নিজেদের অন্য লিঙ্গের সাথে একাত্মতা অনুভব করে বা সমলিঙ্গে যৌনতা আকর্ষণ করে তারা জোর করে যা নয় তাই সেজে থাকে।
এই জীবনটা কিন্তু খুব কষ্টের এবং হতাশার।
যেমন হয়তো কেউ বায়োলজিকালি পুরুষ হয়ে জন্মেছেন অর্থাৎ পুরুষ শরীর বহন করছেন কিন্তু মনে,চেতনায় সে একজন মেয়ে।তার হয়তো মেয়েদের মতো সাজতে ভালোলাগে,মেয়েদের মতো পোষাক পরতে ভালোলাগে,মেয়েদের মতো হাঁটতে ভালোবাসে।এবং এই সব’টা কিন্তু শখে করে ন তা নয় এই নারী সত্তা তাদের বায়োলজিকাল অরিয়েন্টেশনের মধ্যে আছে।এই প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথের “চিত্রাঙ্গদা” নৃত্যনাট্যের একটা রেশ টানবো।সেখানে চিত্রাঙ্গদাকে রাজা মেয়ে হয়ে জন্মানোর পরেও একজন ছেলের মতো আচরণ,পোষাক ও চালচলনে আটকেছিলেন এবং বড় করেছিলেন।এখানে ছিলো সে শরীরে মেয়ে অথচ ছেলেদের বর্ম গায়ে ছেলে করে তোলার গল্পো।চিত্রাঙ্গদাও সেটাই মেনে নিয়ে চলতো কিন্তু অর্জুনের সংস্পর্শে এসে সে অনুভব করে তার পুরুষের প্রতি আকর্ষন ও অনুভবের কথা।অর্থাৎ আমি যা বলতে চাইছি চিত্রাঙ্গদা’র মতো অনেককেই বাড়ি,সমাজের চাপে নিজেদের sexual identity লুকিয়ে রাখতে হয়।
ঋতুপর্ণ ঘোষ তার নিজের “চিত্রাঙ্গদা” মুভিটিতে দেখিয়েছেন একজন পুরুষ আরেকজন পুরুষের প্রতি কিভাবে আসক্ত এবং তার শরীরে ও মনে মেয়ে হয়ে ওঠার গল্পো।রূপান্তরকামী থেকে রূপান্তরের গল্পো।এই হোমোসেক্সুয়ালিটি খুব সাধারণ একটা ব্যাপার।সায়েন্স বলে প্রতিটি মানুষই কম/বেশী হোমোসেক্সুয়াল।এই পারসেন্টেজ কম/বেশীর ওপর তার যৌন চাহিদা বা সঙ্গী নির্বাচনের ঝোঁক তৈরী হয়।আবার এটাও সত্যি প্রতিটি পুরুষের মধ্যে অল্প হলেও feminine সত্তা ও নারীর মধ্যে masculine সত্তা থাকে।প্রকট বা প্রচ্ছন্ন অবস্থায়।এর বাড়াবাড়িই একটা এক্সট্রিম পোল নির্ধারণ করে।

আর হিজড়ের সাথে ওপরের কোনো সেক্সুয়ালিটিকে মেশাবেন না।এটা শুধু তাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য যারা একে হাতিয়ার করে ট্রেনে বাসে টাকা রোজগার করে।

সবশেষে এটাই বলার মানুষকে মানুষ হিসেবে গ্রহণ করুন।তাদের ব্যক্তিগত জীবন,চলাফেরা,সাজগোছ,পোষাক,সঙ্গী নির্বাচনের প্রতি কুরুচিকর আচরণ,হাসিঠাট্টা,ঘেন্না প্রদর্শন বন্ধ করুন।কেউ ইচ্ছাকৃত কিছু হয় না,এসবের ওপর নিজের কোনো কন্ট্রোল থাকে না কারোর।আপনি মেনে নিতে না পারলেই তারা কেউ “abnormal” হয়ে যায় না।বরং জোর করে একটি নির্দিষ্ট শ্রেণিভুক্ত করার দরুন ভবিষ্যতে এদের নিজেদের জীবন ও পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।এদের নিজেদের ইচ্ছা এবং স্বাভাবিকতা অনুযায়ী বাঁচতে দিন।কে বলতে পারে ভবিষ্যতে আপনার ছেলে বা মেয়ে,দাদা বা দিদি #L_G_B_T ভুক্ত হবে না!
আপনি কি চাইবেন সমাজ তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ুক?তারা প্রত্যেকে মানুষ এবং আপনার মতো তাদেরও সমস্ত স্বাভাবিক অধিকার পাওয়ার অধিকার আছে।Indian Psychiatric Society সম্প্রতি রিপোর্ট পেশ করেছে যে homosexuality কোনে অসুখ নয় তাই তা “cure” করার বিষয়ও নয়।কোনে স্ট্রেট ছেলে বা মেয়ে’কে জোর করে গে বা লেসবিয়ান বানানো যায় না।

পৃথিবীতে একটাই জেন্ডার হয় “মানুষ”।
তার আলোকে সবাইকে দেখতে এবং ভালোবাসতে শিখুন।মানুষ আলাদা হয় তার কাজে,ব্যবহারে,চেতনায় বাদবাকি সবকিছুতে সবাই সমান।আপনার না পোষালে এবার থেকে নিজের মানসিক জড়তাকে প্রশ্ন করুন।এই অন্তরায় আপনার।তাদের নয়।

* “Danish girl”, ” memories In March”, “আরেকটি প্রেমের গল্পো” মুভি দু’টো দেখার অনুরোধ করলাম।আশা করি মনের আর বোধের অন্ধকার দূর হবে।আর হ্যাঁ এদের জীবনের struggle টা অনেক কঠিন।পারলে সহযোগী হোন।সহযোদ্ধা হন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here