সমকামী-রূপান্তরকামীদের প্রাপ্য মর্যাদা আদায়ের লড়াই প্রসঙ্গে সেমিনার আমেরিকা সেন্টারে আয়োজক প্রান্তকথা

0
400
Click & Edited By Abakaashe Sanjoy

সমকামী-রূপান্তরকামীদের প্রাপ্য মর্যাদা আদায়ের লড়াই প্রসঙ্গে সেমিনার আমেরিকা সেন্টারে আয়োজক প্রান্তকথা

Click & Edited By Abakaashe Sanjoy

অবকাশে সঞ্জয়ঃ যৌন পরিচয়ে প্রান্তিকসীমায় অবস্থান করেন যারা, তাদের সামাজিক মর্যাদা,দৈনন্দিন লড়াই তথা রাষ্ট্রীয় অবস্থান বর্তমান সময়ে কোন্‌ জায়গায় দাঁডিয়ে তা জানার জন্য এবং তার থেকে ভবিষ্যতের এলজিবিটিকিউ আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করার উদ্দেশ্য নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির প্রধান প্রধান শহর এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিলেন গতকাল অর্থাৎ ২০.০৬.১৮ তারিখে  কলকাতার আমেরিকান সেন্টারে।সমাজের নানা ক্ষেত্রে যারা প্রান্তিক তাদের নিয়ে কাজ করা শহরের এক নামী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রান্তকথা এর মূল আয়োজক।কলকাতার আমেরিকান সেন্টারের সহযোগিতায় এই আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয় দুটি পর্যায়ে। প্রথম পর্যায়ে ‘সাউথ এশিয়ান ইয়ং কুইয়ার অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্ক এর  বিভিন্ন দেশ যথা ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল, মায়ানমার প্রভৃতি দেশের গুরুত্বপূর্ণ নয়টি শহর এই ভিডিও কনফারেন্সে নিজ নিজ শহর তথা দেশের এলজিবিটিদের সামাজিক অবস্থান ও আন্দোলন সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন এবং প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন।সায়নের এই দ্বিতীয় কনফারেন্সে কলকাতা আমেরিকান সেন্টারে মার্কিন কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন  মিঃ এল.হল(CRAIG L.HALL), মি.জে. ট্রেলর ( JAY TRALOR)প্রমুখ।

আলোচনাসভায় প্যানেলিস্ট বাঁদিক থেকে সমপর্ন মাইতি, ডঃ শুভাগতা দাশগুপ্ত, জে ট্রেলার, সমিত বাজোরিয়া, রঞ্জিতা সিনহা, বাপ্পাদিত্য মুখোপাধ্যায়

কনফারেন্সের দ্বিতীয় পর্যায় ছিল উপস্থিত শ্রোতাদের নিয়ে এক অন্যধারার আলোচনা পর্ব। আলোচনার জন্য প্যানেলিস্ট হিসাবে ছিলেন মিঃ গে অফ ইন্ডিয়া এবং মিঃ গে ইন ওয়ার্ল্ড রানার আপ-২০১৮ সমর্পন মাইতি, স্যাফো ফর ইকুয়ালিটির পক্ষ থেকে ডঃ শুভাগতা দাশগুপ্ত, কুচিনা ফাউন্ডেশানের কর্নধার সমিত বাজোরিয়া,এটিএইচবি এর কর্ণধার তথা ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রান্সজেন্ডার ডেভলপমেন্ট বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যা রঞ্জিতা সিনহা এবং প্রান্তকথা-র কর্ণধার বাপ্পাদিত্য মুখোপাধ্যায়।প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে এই আলোচনা পর্বে এলজিবিটিদের বিশেষ করে ট্রান্সজেন্ডারদের দৈনন্দিন জীবন যাপনের ক্ষেত্রে যে ধরনের বৈষমের শিকার হতে হয়,তা উঠে আসে।উঠে আসে শিল্প সংস্কৃতির মাধ্যমে বিনোদনের নামে ট্রান্সজেন্ডার চরিত্র নিয়ে যে ধরনের ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করা হয় সে প্রসঙ্গও। এবং এসব থেকে পরিত্রান পাওয়ার উপায় প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়। সচেতনতা যে একমাত্র উপায় সে নিয়ে দ্বিমত না থাকলেও কিভাবে সচেতন করা হবে এবং কারা তার দায়িত্ব নেবে তা নিয়েও আলোচনা হয়। অর্থাৎ কমিউনিটির আন্দোলনের মুখ বা যোগ্য নেতৃত্বের অভাব প্রসঙ্গে কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন।এ প্রসঙ্গে আলোচনা চক্রের মূল আয়োজক প্রান্তকতা-র কর্ণধার বাপ্পাদিত্য মুখোপাধ্যায় বলেন, নেতৃত্বের অপেক্ষায় থাকবেন না। নিজেই নিজেকে নেতৃত্ব দিন।আওয়াজ তুলুন। দেখবেন আপনি আনতে পারছেন কাঙ্খিত পরিবর্তন।অন্যদিকে এই নেতৃত্ব প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রঞ্জিতা সিনহা বলেন,আমাদের কমিউনিটি আন্দোলনের নেতৃত্ব নিয়ে সত্যি ভাবনা চিন্তা করা উচিৎ। কার দেখানো পথে আমরা চলব।এ প্রসঙ্গে তিনি ক’দিন আগের ১৫ই এপ্রিল অর্থাৎ ট্রান্সজেন্ডার দিবস পালনের প্রসঙ্গ উথাপন করেন।তিনি বলেন, যে দিনটি টিজি বোর্ডের পক্ষ থেকে সরকারী ভাবে পালন করা উচিৎ তা তো করেই না, উলটে অন্যরা পালন করতে গেলে তা নিয়ে কটাক্ষ করেন।এই যখন অবস্থা তখন নিজেদের শিক্ষা-স্বাস্থ্য-কর্মসংস্থান ইত্যাদি আবশ্যিক প্রয়োজনের জন্য নিজেদের আন্দোলনে নামতে হবে।ধর্নায় বসতে হবে।এর জন্য তিনি সবাইকে সঙ্ঘবদ্ধ হওয়ার আহবানও  জানান। যাইহোক, একটা প্রত্যাশা নিয়েই সাউথ এশিয়ান ইয়ং  কুইয়ার অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের অনুষ্ঠানের ইতি হয় যে যুবসমাজ যেভাবে সমকামী-রূপান্তরকামীদের প্রাপ্য মর্যাদা আদায়ের লড়াই প্রসঙ্গে ভাবছেন, আন্দোলন করছেন তাতে আগামী দিন সুসকাল অপেক্ষা করছে বলাই যায়।

http://pinterest.com/pin/create/button/?url=http://dreamnews.in/2018/06/18/an-international-seminar-of-lgbtq-at-kolkata-markin-consulate/&media=http://dreamnews.in/ 

পুনশ্চঃ যৌনতায় প্রান্তিক মানুষদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক সেমিনার কলকাতার মার্কিন কনস্যুলেটে, আয়োজনে প্রান্তকথা ও সায়ন শীর্ষক হেডলাইনে গত ১৮ ই জুন যে সংবাদ পরিবেশিত হয় সেখানে সায়ন কে পৃথক সংগঠন হিসাবে দেখানো হয়েছিল যা ভুল। সায়ন প্রকৃতপক্ষে প্রান্তকথা-র সাউথ এশিয়ান ইয়ং কুইয়ার অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্ক। অনিচ্ছাকৃত এই ত্রুটির জন্য আমরা আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here