এক অন্যধারার তথ্য-চিত্রের পুস্তিকা কিন্নরপরব। লেখা ও ছবিওয়ালা অবকাশে সঞ্জয়

0
289
Front & Back Cover Of The Book

এক অন্যধারার তথ্য-চিত্রের পুস্তিকা কিন্নরপরব। লেখা ও ছবিওয়ালা অবকাশে সঞ্জয় 

                     Front & Back Cover Of The Book, Kinnar Parab 

সর্বধর্ম সমম্বয়ের উদাহরণ যদি কোন গোষ্ঠীর মধ্যে খোঁজা হয়, তবে তা সর্বাগ্রে খোঁজা উচিৎ কিন্নর গোষ্ঠীর মধ্যে। এখানে হিন্দু-মুসলিম- শিখ-জৈন-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান সবার সন্ধান পাওয়া যায়। এঁরা সব ধর্মের উৎসবে সামিল হন। আবার এঁদের নিজস্ব দেবদেবীও আছেন।

এঁরা একদিকে যেমন হিন্দুর দেবী মা কালীর পুজো করেন ধুমধাম করে, আবার মুসলিমদের মাজারগুলিতেও ছুটে যান চাদর চড়াতে। অন্যদিকে নিজস্ব কুলদেবী মুরগামাঈ তথা দেবী বহুচেরার আরাধনাও করেন। এমনকি মহাভারতের অর্জুন-উলুপী পুত্র আরবনকে নিজস্ব দেবতা জ্ঞানেও পুজো করেন।

সবমিলিয়ে এককথায় বলতে গেলে, কিন্নর বা হিজড়া সমাজের ধর্মবিশ্বাস মিশ্রধর্মের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। সেই বিশ্বাসের পরম্পরা আজও অটুট।

এখনো প্রতিবছর  গুজরাটের বরোদার সম্বলপুরে দেবী বহুচেরার মন্দিরে  শ্রাবনী পূর্নিমায় কিন্নর সমাজ নিজস্ব আরাধ্য দেবীর পুজো উপলক্ষ্যে উৎসব করেন। তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুরে আরবনের মন্দিরেও প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে ( তামিলদের নিজস্ব ক্যালেন্ডার অনুযায়ী প্রথম মাস চিত্তিরাই-এর পূর্নিমা তীথিতে) হাজার হাজার হিজড়া সমাগমে আরাবনী উৎসব পালিত হয়। এই উৎসবের বিশেষ একটি রীতি হল  হিজরাদের বিবাহ অনুষ্ঠান। এখানে হিজরারা আরাবনকে একরাতের জন্য স্বামী মেনে তার নামে মঙ্গলসূত্র পরেন। যেমনটি করেছিলেন স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ। মহাভারতের কুরুক্ষেত্রের প্রান্তরে শ্রীকৃষ্ণ নারী সাজে সজ্জিত হয়ে মোহিনী রূপ ধারন করে আরবনকে স্বামী রূপে গ্রহণ করেছিলেন এবং পরদিন প্রভাতে আরবনের মৃত্যু হলে বৈধব্য বেশ ধারন করে স্বামী হারাবার যন্ত্রণায় কান্নায় ভেঙে পরেছিলেন। সেই প্রথা মেনে আজও হিজরা সমাজ আরবন উৎসবে বিবাহাচার পালন করেন এবং উৎসব শেষে বৈধব্যবেশ ধারন করেন।

যাইহোক ভারতবর্ষের গুজরাট এবং তামিলনাড়ুতে  হিজরাদের সমাবেশে প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট সময়ে উৎসব অনুষ্ঠিত হলেও আমাদের রাজ্যে তেমন কোন উৎসব নেই।

মাতা বহুচেরা ওরফে মুরগামাঈ

একসময় পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন মাজারে যেমন দক্ষিন চব্বিশ পরগনার ঘুটিয়ারী শরিফ, বীরভূমের পাথরচাপড়ি সহ বিভিন্ন মাজারে হিজরারা চাদর চড়াতে যেতেন নিজস্ব মনস্কামনা নিয়ে। এখনো যান। তবে তা কোন নির্দিষ্ট দিনে দল বেঁধে নয়। সারাবছরই অল্পবিস্তর আনাগোনা লেগে থাকে। যদিও একসময় এই মাজারগুলিতে হিজরারা খুব ভীড় করতেন। কিন্তু নানা কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়।

তবে একমাত্র ব্যতিক্রম হুগলীজেলার বাসুবাটীর মাজার। এখানে এখনো প্রতিবছর চৈত্রমাসের প্রথম শনিবার মেলা বসে। আর সেই মেলায় নানা মহল্লা থেকে সহস্রাধিক হিজরার আগমন ঘটে। এককথায় বলতে গেলে, বর্তমানে  বাসুবাটীর মাজারের মেলা আমাদের রাজ্যে হিজরাদের একমাত্র নিজস্ব মেলা।

এই পুস্তিকা সেই মেলার খন্ডচিত্র সহযোগে রচিত।

মেলা সম্পর্কে প্রদত্ত তথ্যাদি কিছু বইপত্র থেকে নেওয়া হয়েছে। কিছু স্থানীয় প্রবীন  মানুষের সঙ্গে কথা ব’লে সংগ্রহ করা হয়েছে। আর কিছু প্রবীন হিজরা মায়েদের  সঙ্গে কথা ব’লে জেনে নিয়েছি। তাই প্রিয় পাঠকদের কাছে অনুরোধ, যদি কিছু ভুল বা অসম্পূর্ণতা থেকে থাকে তা অনুগ্রহ করে জানাবেন। জানানোর জন্য ৮৬১৭৭৯৪৬৭৩ নম্বরে কল্‌ করতে পারেন। এছাড়া পুস্তিকাটি সম্পর্কে মতামতও জানাতে পারেন।

বাসুবাটী বড় হুজুর দরবার শরীফ

বড় হুজুর দরবার শরীফ

হুগলী জেলার বলরামবাটী স্টেশন থেকে দক্ষিণে কিমি দুয়েক দূরে বাসুবাটী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় অবস্থিত। হজরথ খাজা সৈয়দ শাহ জালালউদ্দিন পীরসাহেবের দরগা। ষোড়শ শতকের শেষ দিকে তিনি আরব থেকে ভারতে আসেন। তারপর তিনি ভারতের  বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে ঘুরে অবশেষে এই বাসুবাটীতে আশ্রয় নেন। যতদূর জানা যায় তিনি জীবনের শেষদিন পর্যন্ত এখানেই ছিলেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ সুফিবাদে বিশ্বাসী  পীরসাহেবদের উদার মনোভাব সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছিল। আসলে সুফী ধর্ম সমম্বয়ের ধর্ম। যে কোন রকম সংকীর্নতার উর্ধে উঠে কেবল মানুষকে ভালোবাসার ধর্ম। সেই বিশ্বাসে বিশ্বাস রেখে জালালউদ্দিন পীরসাহেবও  সব মানুষকে সমানভাবে ভালোবাসতেন। তাঁর দুয়ার সকলের জন্যই খোলা ছিল। আর তাই তথাকথিত মন্দির-মসজিদে অপাঙক্তেয় প্রান্তিক গোষ্ঠী হিজরা সমাজ এই দরগায় আসতে শুরু করেছিলেন। পীরসাহেবও সাদরে এদের গ্রহণ করেছিলেন।

বাসুবাটী মাজার

বাসুবাটী মাজার

এই মাজার ঘিরে এক জনশ্রুতি আছে। শোনা যায় পক্ষাঘাতে আক্রান্ত এক হিজড়া লোকমুখে পীরসাহেবের কথা শুনে অনেক কষ্ট করে এই মাজারে আসেন। পীরসাহেবও তাঁকে ওষুধ দেন ও তাঁর দেওয়া তাবিজ ধারন করতে বলেন। ওই হিজরা সেই কথামতো তা মেনে চলেন এবং আশ্চর্যজনকভাবে তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন। পীরসাহেবের এই ওষুধ ও তাবিজ দেওয়ার কাহিনি মুখে মুখে সব হিজড়া মহল্লায় ছড়িয়ে পড়ে। যথারীতি বাঁচার তাগিদে তাঁরা এখানে ভীড় জমান। পীরসাহেব দেহ রাখলেও তাঁর সন্ততিরা এখনো তাবিজ দেন। আর তা নেওয়ার জন্য সারা বছরই এখানে সাধারণ মানুষের আনাগোনা লেগে থাকে। তবে এখন আর তাবিজ নেওয়ার জন্য হিজড়াদের আসতে দেখা যায় না বলে জানালেন স্থানীয় এক প্রবীন মানুষ সেখ সিরাজ। তিনি বলেন, এখন হিন্দু-মুসলমান সব ধর্মের সাধারণ মানুষরাই আসেন তাবিজ নিতে। আর হিজরারা আসেন বছরের এই বিশেষ দিনটিতে। চৈত্র মাসের প্রথম শনিবারে।

 পথনৃত্য- সন্দল  

                         পথনৃত্য সন্দল

হাওড়া থেকে তারকেশ্বর লোকালে উঠে সিঙ্গুর স্টেশন অথবা বর্ধমান কর্ড লাইনের ট্রেনে উঠে বলরামবাটী স্টেশন যে কোন একটিতে নেমে  ভ্যান- অটো-ট্রেকার-বাস যোগে যাওয়া যায় বাসুবাটী মাজার। দূরত্ব দুকিমির মতো। স্থানীয় মানুষরা জানান, কিছু বছর আগেও এই দুকিমি পথ অর্থাৎ বলরামবাটী স্টেশন থেকে আগত হিজড়ারা তাসা-বাজা-ব্যঞ্জন সহযোগে নাচতে নাচতে মাজারে যেতেন। হিজড়াদের এইভাবে যাওয়াকে ওদের নিজস্ব ভাষায় ‘সন্দল’ বলে। তবে এখন আর আগের মতো প্রচুর পরিমানে হিজরা সমাগম হয় না ব’লে স্টেশন থেকে সন্দল দেখা যায় না। তবে বলরামবাটী ফেলে বাসুবাটী পঞ্চায়েত এলাকায় ঢোকার পর থেকেই সন্দল দেখা যায়। বলা বাহুল্য সেই সন্দল বা নৃত্য দেখার জন্য পথের দুধারে মানুষের ভিড় জমে খুব। পিছনে বাজনা। আর সামনে হিজড়াদের সন্দল নৃত্য। এই দৃশ্য দেখতে দেখতেই মেলায় প্রবেশ করেছিলাম।

মসাফির খানা 

মুসাফির খানা

সারা পথ নাচতে নাচতে আসার পর বাসুবাটী বড় দরবার শরীফের মসাফির খানা তেই সকলে বিশ্রাম নেন। আগে প্রচুর হিজড়া আসতেন ব’লে আশেপাশে অস্থায়ী তাঁবু তৈরি হত। তবে এখন তাঁবু তৈরি হয় না। কংক্রিটের ছাদবাড়ির এই মসাফির খানাতেই সকলে আশ্রয় নেন। এর ভিতরেই চলে খাওয়া দাওয়া, গল্পগুজব। হাসি ঠাট্টা। মেলায় ঘুরতে বের হওয়ার আগে সাজগোজও এই মসাফির খানার ভিতরেই সেরে নেন সকলে। বেশ বড় এই ঘরটিতে একসঙ্গে ছ’সাতশো লোক ঘেঁষাঘেঁষি করে বসতে পারেন। সেভাবেই সকলে বসেছিলেন। তবে হিজড়া ছাড়া অন্যদের  এই মসাফির খানায় প্রবেশ নিষেধ। এক হিজড়া মাসিকে জিজ্ঞেস করে জানা যায় যে, এই মসাফির খানা একমাত্র তাদের জন্য সংরক্ষিত। প্রতিবছর তারা এসে এখানেই বিশ্রাম নেন। তবে বাইরের মানুষের ভিতরে প্রবেশ নিষেধ হলেও জানলা দিয়ে উঁকি দেওয়া নিষেধ ছিল না। সারাদিন তাই মসাফির খানার জানলাগুলোয় ভিড় ছিল চোখে  পড়ার মতো।

  মসাফির খানার বাইরে 

                    মুসাফির খানার বাইরে 

মসাফির খানার ভিতরে প্রবেশ নিষেধের অলিখিত বোর্ড ঝোলানো থাকলেও বাইরেটা ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত। মাজারের এ মেলা যেন মহামিলনের মেলা। হিজড়া সমাজও সেই মিলনে সামিল হতে নিজেদের মেলে ধরেছেন মুক্তমনে। তেমনই দুইজনকে   ক্যামেরায় বন্দী করা। ধরে রাখা জীবন্ত প্রোট্রেট হিসেবে।

   ধূপ জ্বেলে যাই

                       ধূপ জ্বেলে যাই 

মাজারের সম্মুখে খানিকটা জায়গা জুড়ে ধূপ জ্বালাবার স্থান। সেখানে সকলেই একে একে নিজস্ব মনস্কামনা জানিয়ে ধূপ জ্বলে দিচ্ছিলেন। আর সেই ধূপের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছিল আশপাশে। সে দৃশ্যও ক্যামেরা বন্দী হয়েছে।

 চাদর চড়ানোর জন্য

                  চাদর চড়ানোর জন্য 

মাজারে এসে চাদর আর ফুল চড়ানো, গোলাপ জল ছেটানো, ধূপ জ্বালানো এসবই নিজস্ব রেওয়াজ। প্রথা। আর তাই মাজারের প্রবেশ পথের রাস্তার দুপাশে ফুল-চাদরের পসরা সাজিয়ে দোকানীরা বসেছিলেন। তেমনই এক দোকানের সামনে চাদর কেনার জন্য ভিড় জমিয়েছেন কয়েকজন কিন্নর।

   মনস্কামনা পূরণের প্রার্থনা

                মনস্কামনা পূরণের জন্য 

চাদর চড়ানো বা ধূপ জ্বালানোর সাথে একমনে নিজস্ব মনস্কামনা জানিয়ে প্রার্থনা করা হবে না তা কি হয়। সেই প্রার্থনারত এক বিশেষ মুহুর্ত। এ এমন এক মুহুর্ত যার কাছে সময়ও থমকে দাঁড়ায়।

ঢোলের পসরা 

ঢোলের পসরা

এই একটি মাত্র পসরা। যা বাসুবাটী মাজারের মেলাকে অন্য সব মেলার থেকে পৃথক করে দেয়। ঢোলের পসরা। এ ঢোল ঢাকীর ঢোল নয়, অন্য কোন বাদকের বাদ্যযন্ত্রও নয়। একমাত্র ভারতের হিজড়া সমাজের বাদ্য। এই বাদ্য হিজড়ার কাছে অতি পবিত্র এক বাদ্য। শুধু তাই নয়, এই বাদ্য দেখেই সমগ্র সমাজ রূপান্তরাকামী নারীদের জীবিকার পরিচিতি জেনে যায়। এ হেন বাদ্যের পসরা নিয়ে মেলার একেবারে সম্মুখ পথে বসেছিলেন এক বয়স্ক দোকানী। আর তা ক্যামেরা বন্দী হয়ে থেকে গেল এক অনন্য ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে।

       নিশ্চিন্তের নিরাপত্তা 

                       নিশ্চিন্তের নিরাপত্তা 

চৈত্রের চড়া রোদ মাজার প্রাঙ্গন জুড়ে। তাই মাজার কমিটি মাজারের সামনেটার কিছু অংশ জুড়ে সামিয়ানা খাঁটিয়ে মাথার উপর একটু ছায়া দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। আর মেলা উপলক্ষ্যে আগত হিজড়া সহ সকলের নিশ্চিন্তের নিরাপত্তা দিতে পাশেই তৈরি হয়েছিল অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প। এছাড়াও অন্যান্য সহযোগিতার জন্য স্বেচ্ছাসেবকরাও ছিলেন। সব মিলিয়ে মেলা প্রাঙ্গনে যাতে কোন অবাঞ্ছিত ঘটনা না ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা দেখা দিলেই তা নিয়ন্ত্রণ করা যায় তার জন্য সবরকম ব্যবস্থায় করা হয়েছিল।

আপন হয়ে ওঠার মুহুর্ত 

                    আপন হয়ে ওঠার মুহুর্ত 

আমাদের রাজ্যের বর্তমানে একমাত্র কিন্নর পরব, বাসুবাটীর মাজারের পরব। সেই পরবে ফি বছর কত কিন্নরের আগমন ঘটে তার হিসাব সেভাবে রাখা না হলেও আমার আই এস্টিমেট এবছর মেলায় সহস্রাধিক কিন্নর বন্ধু এসেছিলেন। অনুমেয় বিগত কয়েক বছরেও সংখ্যাটা তার আশপাশেই থাকবে। যদিও সংখ্যা গুরুত্বহীন। মেলার প্রাচীনত্ব ও মাহাত্ম্য যেভাবে লোকমুখে জেলা থেকে জেলান্তরে ছড়িয়েছে, তাতে করে প্রতিবছরই এ মেলা নির্দিষ্ট দিনে হবেই।  এবং কিন্নর সমাগমও ঘটবে। তার পাশাপাশি যেটা লক্ষ্যনীয় কিন্নরদের পাশাপাশি রূপান্তরকামী নারীরাও ধীরে ধীরে আপন করে নিচ্ছেন এই মেলা। তারাও  আসছেন। এবং আসামাত্রই উভয়ে উভয়ের আপন হয়ে উঠছেন। সেই আপন হওয়ার এক বিশেষ মুহুর্তের সাক্ষী স্বয়ং আমি।

    সেলফি সেশান 

                    সেলফি সেসান

বাসুবাটীর মাজারের কিন্নর পরবে যেমন প্রচুর কিন্নরদের সমাগম ঘটে, তেমনই আসে বহু রূপান্তরকামী নারী। আসলে কোথাও গিয়ে কিন্নর আর রূপান্তরকামী নারী এক হয়ে যায়। মিলেমিশে যায়। ঠিক যেমন দুধ আর জলের মিশে যাওয়া। সমাজ বাইরে থেকে তাদের দেখতে গিয়ে কিছুতেই আলাদা করে দেখে না। আর তাই রূপান্তরকামী নারীরাও নিজস্ব আপনজন পেতে অনেক সময় কিন্নর সমাজের কাছে ছুটে যায়। যাইহোক, এই কিন্নর পরবে আসা অনেক রূপান্তরকামী নারীদের মধ্যে এই দুই রূপান্তরকামী নারী নিজেদের আনন্দ মুহুর্তকে ধরে রাখতে মেতেছিলেন সেলফি সেশানে। কাছে গিয়ে আলাপ জমিয়ে জানলাম ওদের একজন কুসুম ও অন্যজন শিবাঙ্গী। দুজনেই অভিনয় শিল্পে যুক্ত। যাইহোক ওদের সেই নিজস্বী মুহুর্তও মেলার এক বিশেষ মুহুর্ত হিসাবে রয়ে গেল।

 বিশেষ সাজে

                বিশেষ সাজে

হিজড়াপন অত সহজ নয়। শুধু নারী সাজ সাজলেই হয় না। অনেক লড়াই, অনেক যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়। আর সারাটা বছর প্রায় প্রতিদিনই সেই লড়াই চলে। তবে তারই মধ্যে একটা দিন যেন সব ভুলে হিজড়াগিরি না করে একটু অন্যরকম করে কাটানো। একটু শান্তিতে কাটানো। সেই শান্তির প্রতীক সাদা পোশাকে নিজেদের সাজিয়ে মাজার প্রাঙ্গনে ঘুরে বেড়াতে বেড়াতে ক্লান্ত একটু বিশ্রাম নেওয়া। আর সেই বিশ্রামরত অবস্থায় এদের সাথে আলাপ জমাতে গিয়ে শুনেছিলাম উপরের কথাগুলি। বলা বাহুল্য কোন উত্তর দিতে পারি নি।

 গল্প-গুজব- ছবি 

                             গল্প গুজব ছবি

সারাদিন ঘোরার পর, একেবারে শেষ প্রহরে আলাপ হয়েছিল অঞ্জলিদির সাথে। একথা সেকথা হতে হতে অঞ্জলি দি শোনাচ্ছিল নানা গল্পকথা। হিজড়া জীবনের কথা। বলতে বলতে তিনি একটা কথাই বলেছিলেন, আমাদের জীবন সম্পর্কে অনেক ভুল ধারনা মানুষের মনে আছে। আর তাই মানুষ আমাদের প্রতি কোন সহানুভুতি দেখায় না। সেই ভুল ভাঙার জন্য আপনাদেরই এগিয়ে আসতে হবে দিদি। এই আহ্বান জানিয়ে আমাকে এগোতে হয়েছিল স্টেশনের পথে। তবে তার আগে দিদির সঙ্গে কাটানো মুহুর্তটাকে ক্যামেরার সাহায্যে বন্দী করেছিলাম।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here