অপুষ্ট নাকি কন্যাসন্তান বলে হত্যা? রক্তস্নাত মায়ের আর্তি। লিখেছেন সুস্মিতা সিং

0
846

অপুষ্ট নাকি কন্যাসন্তান বলে হত্যা? রক্তস্নাত মায়ের আর্তি। লিখেছেন সুস্মিতা সিং

বিয়ের রাত,পরিবারের সকলেই খুব খুশি, ফুলশয্যার রাত ছেলের বন্ধুরা মজা করে মদের বোতল ধরিয়েছে ছেলে বেশ আনন্দে তা গ্রহন করেছেন, মাঝরাত্রি ছেলে ঘরে ঢুকেছেন,পণ এ পাওয়া খাট টা বেশ রজনীগন্ধা গোলাপ দিয়ে সাজানো, নতুনমাখা গন্ধে সারাদিন না খেয়ে থাকা আমি(নববধূ)ক্লান্তি মেটাতে শরীরটা বিছানায় চাদর এর মতো মেলেছিলাম জাস্ট,ছেলেটি(স্বামী?)এসে হাত টি ধরে আছড়ে তুলল,শরীর থেকে গয়নাপত্র এমন ভাবে খুলে ফেললো যেমন নতুন উপহার পেলে প্যাকেট যে ভাবে আছড়ে ফেলা হয়,মাথার থেকে ঘোমটা সরিয়ে ফেললো, শরীর থেকে শাড়ির আচ্ছাদন সরিয়েছে,শুরু হলো স্তনবৃন্তের মৃদু ছোয়া, ধীরেধীরে অন্তর্বাসের নাপ নেওয়া, যোনি খনন করে রক্তছেদন। কেটে গেল রাত।  আমি আর নেই নববধূ, আজ একমাস পর আমার মাসিকবন্ধ ডাক্তারবাবু বললেন মা হতে চলেছে,বেশ কলহল বাড়িতে আনন্দের পরিবেশ,খুব দেখাশুনা শুরু হল আমার এক শিশুর ন্যায়,দেখতে দেখতে ছয়টি মাস পার করে এসেছি সেদিনের নববধূ(আমি),আমার পাকস্থালী তে ভ্রুনের জন্ম লক্ষ্য করলাম,আমার টক খাওয়া দেখেই পাড়া-প্রতিবেশিরা শুরু করলো সমালোচনা। মেয়ে হবে অবশ্যই,তাই দেখে বাড়ির কর্তা মা,আমার কর্তা বেশ হম্বিতম্বি করে হাসপাতাল নিয়ে যাচাই করে দেখলো ভ্রুন এ জন্মেছে কন্যে,বাড়ি ফিরে আচরণও বদলে গেলো সকলের আমাকে নিয়ে যাদের ছিল এত মাতামাতি আজ আমি ঘরের কোনে না খেয়ে পরে থাকলেও কেউ ঘুরে তাকাই নি।জ্বালা-যন্ত্রনা সহ্য করে শেষমেশ কাটিয়ে উঠলাম নয়টা মাস,সন্ধ্যে ৭টা, আমার তলপেটে যন্ত্রণাবোধ অনেক বলার পরে নিয়ে যাওয়া হল হাসপাতাল,রাত শেষে ভোর থেকে সকাল ঘড়িতে বাজে আট টা আমার হুশ ফিরে চাতক চোখে তাকিয়েছিলাম যে মেয়েটিকে কখন হাতের তালুতে ছুঁতে পারবো, কখন তাকে  আমার বক্ষের পাঁজরে ধরবো আঁকড়ে,কিন্তু নার্স কে জিজ্ঞেস করাই সে মুখ ফিরিয়ে চলে গেলো অন্য এক পেসেন্ট কে দেখতে,ডাক্তার এসে আমাই জানালো আমি মৃত সন্তান জন্ম দিয়েছি তার পুষ্টকরণ এ খামতি থেকে যাওয়াই তার ব্রেন এর বিকাশ হইনি আর শারীরিক বিকাশ ঘটেনি। আমি শুনে তখন কান্নাই ভেঙে পরেছি আমার স্বামী কর্তা মা কেউ আমাই এগিয়ে এসে প্রতিশ্রুতি দেইনি বরং তারা এসে আমায় জানিয়েছে বেশ ভালই তো হয়েছে,মেয়ে বাড়ি আসেনি।পরের বার কিন্তু আমাদের বংশ বৃদ্ধির জন্য ছেলে চাই, আমি আশর্য হলাম যখন আমাকে শুনতে হল মেয়ের নামের কলঙ্ক থেকে আমরা বেচে গেলাম। হায়রে মুখোশধারী সমাজ,যে দিকে তাকাই সেদিকেই মুখোশের অন্তরালে ভালো মানুষের বসবাস। অদ্ভুত এই সমাজ; অদ্ভুত এই সমাজের নিয়ম নীতি। যে সমাজে মেয়ে এক মা মেয়ে এক বধু,মেয়ে এক প্রেমিকা,মেয়ে ছাড়া যে সমাজ চলেনা সেই সমাজেই মেয়ে কে কলঙ্ক বলে দাবি করে,ধিক্কার সেই সমাজনীতি কে।

@ সুস্মিতা

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here