আমায় শক্ দিয়োনা বড্ড কষ্ট হয়- শুভ ওরফে শুভা। লিখেছেন রচনা পারভীন

0
1028
গ্রাফিক - Abakaashe Sanjoy

আমায় শক্ দিয়োনা বড্ড কষ্ট হয়- শুভ ওরফে শুভা।  লিখেছেন রচনা পারভীন

গ্রাফিক – Abakaashe Sanjoy

দুই মেয়ের পর আমি জন্মেছিলাম। বাবা মা খুশি হয়ে আমার নাম রেখেছিলেন শুভ।। কিন্তু আমি কিছু দিন পর ই বুঝতে পারি আমি বোধহয় বাবা মা র জন্য খুব একটা শুভ ন ই। I knew from a early age that I was different from everyone else.My problems were another joke for the society. I was lost; confused;unhappy. I was a women stuck in a man’s body. ..A horrible state of mind…… আমার শরীর ছিল ছেলের।আর আত্মা মেয়ের।ছোট থেকেই আমার মেয়ে বন্ধু দের ভালো লাগত। মেয়েদের খেলা ; মায়ের শাড়ি ‌।।।অন‍্য বন্ধু রা যখন প্রেম ভালোবাসায় মত্ত আমার নিজেকে তখন বড্ড একা লাগত। ভাবতাম এই মুহুর্তগুলো আমার হয়ত কোনদিন ই আসবে না। আমি যখন আরো একটু বড় হলাম আমায় বন্ধু প্রতিবেশী রা”ছক্কা”;”মামু” “হিজরে” বলে ডাকত।। বাবা মা ভাবল এটা আমার একটা ফেজ। কেটে যাবে কিছুদিন পর। দিল্লির একটা নামী নার্সিং হোম এ নিয়ে গিয়ে আমায় শক্ দেওয়া হল সাতদিন ধরে।।। কষ্ট হল ভীষণ। মনে হল আমার অস্তিত্ব কে কেউ টেনে হিঁচড়ে মিথ্যে করে দিতে চাইছে। বারবার মনে হল শিব যদি অর্ধনারীশ্বরের রূপ ধারণ করতে পারেন ভগবান হয়ে আমি কেন ন ই।এ জন্মের জন্য তো আমি দায়ী নই। তারপর একদিন বাড়ি থেকে পালিয়ে গেলাম।হাতে মাত্র ১৬টাকা। দুই দিন পরেই তা ফুরিয়ে গেল। বেশিদূর যেতে পারিনি।বাড়ি থেকে দুটো স্টেশন পর রেলস্টেশনেই জ্ঞান হারিয়েছিলাম।আমি তখন সবে ১৪ বছর। যখন জ্ঞান ফিরল মা কাঁদছেন।আমি বললাম “আমার এই ফেজ টা আর কাটবে না মাগো। আমায় শক্ দিয়োনা বড্ড কষ্ট হয়।” মা আমায় জড়িয়ে ধরে বললেন।আজ থেকে তুই আমার শুভ নয় শুভা। হ্যাঁ, তারপর আমার অপারেশন হল।আমি নতুন নাম পেলাম। পেলাম নতুন পরিচয়। পেলাম আমার অস্তিত্ব।আজ আমার ২৪।আমি একজন নামকরা মডেল। I am acceptable today.but I know that happened because I accepted myself first and because I believed in myself… কিন্তু যতটা সহজ শুনতে লাগছে রাস্তা টা ততটা সহজ ছিল না। LGBT মানুষ দের শুধু মাত্র হীন চোখে দেখি তার নয়।এদের ওপর নানারকম অত‍্যাচার ও হয়।আর বেশীরভাগ হয় পরিবারের ভিতরে। প্রশ্ন কারা করে? শুভ সৌভাগ্যবান ছিল ওকে ওর মা বাবা বুঝছিল।সবার তা হয়না।কোন কোন মা বাবা বলেন”তুই জন্মেই মরে গেলিনা কেন?শুভ কে স্কুলে চারজন ছেলে মিলে যৌন অত্যাচার করে।শুভ যখন প্রিন্সীপাল কে বলে উনি বলেন “তুমি আগে শুধরে যাও তাহলে ওরা ও শুধরে যাবে “।আমি যেগুলো লিখছি সেগুলো কোন মনগড়া গল্প নয়।।তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের সাথে কথা বলে তাদের ব্যক্তিগত জীবনের কথা;লড়াইয়ের কথা লিখছি। ধরুন আপনাকে বলা হল আপনি মেয়ে। কিন্তু আপনাকে সর্বক্ষণ একজন ছেলের রোল প্লে করতে হবে। পারবেন? এদের ক্ষেত্রে ও ঠিক এটাই হয়। কখনো এদের ঠিক করার জন্য ঘরে ছেলে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। কি অদ্ভুত এটা কোন অসুস্থতা নয় যে একে ঠিক করতে হবে।এটা প্রাকৃতিক সেটা বুঝতে হবে আগে। পরিবারের অত‍্যাচার ; সমাজের ব‍্যঙ্গ;শোষন;রেপ;আর কানুনের এক প্রাকৃতিক বিষয় কে অপরাধ ঘোষণা করা। আমাদের সমাজে র ই এক অংশীদার দের ওপর ক্রমাগত এই অন‍্যায় হচ্ছে।সভ‍্য সমাজ হিসেবে আমাদের কি সেটা মেনে নেওয়া উচিৎ?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here