অনশনরত মেডিকেল ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়ে ডেপুটেশনের সই সংগ্রহে তৃতীয়লিঙ্গের রঞ্জিতা সিনহারাও

0
685
বাঁদিকে রঞ্জিতা সিনহারা ডানদিকে অনশনের কিছু ব্যানার

অনশনরত মেডিকেল ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়ে ডেপুটেশনের সই সংগ্রহে  তৃতীয়লিঙ্গের রঞ্জিতা সিনহারাও   

বাঁদিকে রঞ্জিতা সিনহারা ডানদিকে অনশনের কিছু ব্যানার

নিজস্ব প্রতিবেদনঃ দশ দশটা দিন পার হয়ে গেল। মানে ২৪০ ঘন্টারও বেশি সময়। মানে ১৪, ৪০০ মিনিট! এই সুদীর্ঘ সময় ধরে একটানা অনশনরত শতাব্দী প্রাচীন কলকাতা মেডিকেল কলেজের ছাত্র অনিকেত, অয়ন, অর্নব, আপন, সৌমদীপ, সুমিতরা। তাদের দাবী, পড়াশোনার শুরু থেকেই হোস্টেল পাওয়া, হোস্টেলের বিপদজ্জনক সিলিং-এর ঠিকঠাক মেরামতি করা যাতে আগের মতো আবার  ভেঙে না পড়ে… ইত্যাদি। একটু ভালো পরিবেশ যা তাদের সুস্থভাবে ডাক্তার হতে সাহায্য করবে সেই দাবীতে আমরণ অনশনে অনিকেতরা। কিন্তু এই দীর্ঘসময় অনশনের পরেও মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ দায়সারা আলোচনা সেরে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। সরকারও কোন সদর্থক পদক্ষেপ নেন নি। ফলত, অনশনরত ছাত্ররাও অনড়। তারা এর শেষ দেখেই ছাড়বে। তাদের সেই অনড় মনোভাবের পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে অনিকেতের ফেসবুক প্রোফাইলের কভার পেজে লেখা দুটো লাইন থেকেও। সেখানে লেখা আছে,

অনশনের সমর্থনে আগত বহুজন

  সেপাই পাঠাও, লাঠি চালাও,  রক্ত মেখেই দাঁড়াবো রুখে

   ভাঙবো তবু মচকাবো না শিড়দাঁড়া যার এমসিকে ( MCK) 

যাইহোক,  কলেজ কর্তৃপক্ষ এই অনশনকে তেমন গুরুত্ব না দিলেও সোস্যাল মিডিয়া কিন্তু ইতিমধ্যেই উত্তাল হয়েছে। যেমন রচনা পারভীন লেখেন, কি চেয়েছে ওরা!!!!মাথার ওপর একটা ছাদ।সেতো সবাই চায়।আপনি চাননি। চাননা? আপনাদের মত আমার ক্ষমতা থাকলে আমি করতাম কিছু। করতামই। আমার শিড়দাড়া আমায় করাতো। দশ দিন। না খেয়ে আছে ছেলেমেয়ে গুলো। মেডিক্যাল কলেজের স্টুডেন্ট। যারা আমাদের প্রাণ বাঁচাবে তাদের আজ প্রাণ সংশয়। রাতের অন্ধকারে দুর্বলের ওপর সবলের ক্ষমতা প্রদর্শন। আচ্ছা আপনি তো অমর নন।।!! আপনার অসুস্হার সময় ঐ অনিকেত যখন আপনাকে চিকিৎসা করে সুস্থ করবে আপনার লজ্জা করবে না? যাদের মাথার ছাদের জন্য আপনি একটুও পাশে দাড়াননি।।

অন্যদিকে অনুব্রতা গুপ্ত লেখেন, হোস্টেলের দাবীতে একটা শান্তিপূর্ণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছে ছাত্রগুলো। দেশে ভালো ভালো ডাক্তার তৈরী হোক চান না? এদিকে তাদের মিনিমাম নিডটুকুর দাবীকে পূরণ করার দায় নেই? একটু ভালো পরিবেশের প্রয়োজন নেই? কতো দূর দূর থেকে কত মেডিকাল স্টুডেন্টরা পড়াশোনার জন্য,ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে আসে তাদের প্রতি সত্যিই কোনো দায় নেই? দিনের পর দিন হোস্টেল পাওয়ার দাবী নিয়ে,ভেঙে পড়া বিপদজনক সিলিং সারানোর প্রয়োজনে ছাত্ররা মুখর হয়েছে।আর বর্তমানে তারা অনশনরত।তার মধ্যে রাতের বেলায় পুলিশ ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে অনশন তোলার জন্য।মার খাওয়ানো হচ্ছে।একটা যুক্তিযুক্ত,প্রয়োজনীয় দাবীকে এভাবে অগ্রাহ্য করা যায়?কলেজ কতৃপক্ষের কোনো দায়িত্ব নেই? আর সরকার?তার ভূমিকা?বাহ এরপর তবে আর কোনো ডাক্তারকে স্বার্থহীন আর সহৃদয় হতে বলবেন না প্লিজ! ২০০ ঘন্টার ওপর অনশন পেরিয়ে গেছে তাও টনক নড়ে না।সত্যিই জীবন বড্ড সস্তা!

অনশনরত ছাত্রদের শারীরিক অবস্থার অবনতির পোস্টার

এরকম বহুজন নিজস্ব প্রোফাইলে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। পাশে এসে দাঁড়াচ্ছেন। তেমনই পাশে এসে দাঁড়ালেন, তৃতীয়লিঙ্গের অধিকার আদায়ের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনে রত ট্রান্সজেন্ডার অ্যাক্টিভিস্ট রঞ্জিতা সিনহা, শ্রেয়া কর্মকার, অনুরাধা সরকার প্রমুখরা।

এ প্রসঙ্গে রঞ্জিতা সিনহাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমরা কেবল আমাদের অধিকারের জন্য আন্দোলন করি না, সমাজের যারাই প্রাপ্য ও ন্যায্য অধিকার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়, তাদের জন্য লড়াই করি। খবর পেলেই ছুটে যাই। আসলে অধিকারের লড়াইয়ে লিঙ্গ, যৌনতা কোনকিছুরই ভেদ থাকে না। থাকা উচিৎও নয়। প্রসঙ্গত  রঞ্জিতা সিনহা কেবল মেডিকেল কলেজে গিয়েই থেমে থাকেন নি। তিনি গণ ডেপুটেশান দেওয়ার জন্য নিজস্ব ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিঙ্ক শেয়ারের মাধ্যমে সই সংগ্রহে নেমে পড়েছেন।

আসলে অধিকারের লড়াইয়ে লিঙ্গ, যৌনতা কোনকিছুরই ভেদ থাকে না। থাকা উচিৎও নয়। প্রসঙ্গত  রঞ্জিতা সিনহা কেবল মেডিকেল কলেজে গিয়েই থেমে থাকেন নি। তিনি গণ ডেপুটেশান দেওয়ার জন্য নিজস্ব ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিঙ্ক শেয়ারের মাধ্যমে সই সংগ্রহে নেমে পড়েছেন।

এইভাবে সবাই ধীরে ধীরে অনশনরত ছাত্রদের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছেন।  ফলত, জোরালো হচ্ছে প্রতিবাদ। তীব্র আকার ধারণ করছে আন্দোলন। যা বোধহয় সাফল্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন অপেক্ষা সেই সাফল্যের ইঙ্গিত বুঝে মেডিকেল কলেজ ও সরকার কি পদক্ষেপ নেয় তা দেখা।

 

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here