তৃতীয় ধারার নাটক ‘ওরে বিহঙ্গ’ মোহিত মঞ্চের প্রাঙ্গণে শ্রাবণী সন্ধ্যায়- বিভাস মুখার্জী, নাট্যকার

0
438
ওরে বৃহঙ্গ-র একটি দৃশ্য

তৃতীয় ধারার নাটক ‘ওরে বিহঙ্গ’ মোহিত মঞ্চের প্রাঙ্গণে শ্রাবণী সন্ধ্যায়- বিভাস মুখার্জী, নাট্যকার 

ওরে বৃহঙ্গ-র একটি দৃশ্য

নাগরিক সমাজ LGBT বলতে কি বোঝে? কিছু দায়িত্বজ্ঞানহীন মানুষ, যারা তাদের ভিন্ন যৌনতার উৎসব পালন করবে বলে, যেন-তেন-প্রকারেণ নিজের জীবনকে অবাধ্য নৈ্রাজ্যবাদী করে তুলেছে। না পরিবারে, না সমাজে, না সংস্কৃতিতে, না শিল্পে, কোথাও  তার কোনোরকম দায়িত্বের পরিচয় সে রাখে না। ভাবনাটির ন্যায্যতাও যে একেবারে নেই, তা বলা যাবে না। সমাজে এদের অন্তর্ভুক্তির পথে এটাই বড় বাধা। ‘থিয়েটারে দায়িত্ব, সমাজে দায়িত্ব’- এটাই অলিন্দ-র মূল কথা। বছর তিন আগে যখন তিনশো সাতাত্তর ধারা চালুর বিরুদ্ধে LGBT সম্প্রদায় প্রতিবাদে মুখরিত হয়েছিল, তখন থেকে একটা ভাবনা মাথার মধ্যে কাজ করতে শুরু করল, কি করে থিয়েটারে এই প্রান্তিক সমাজকে দায়িত্বশীল অভিনেতা/নেত্রী, পরিচালক/পরিচালিকা, অথবা নাট্যকার করে তোলা যায়। এটাই হবে আমাদের প্রতিবাদের ভাষা। আমার প্রাথমিক প্রকল্পে পরিকল্পনা ছিল বাদল সরকার কৃত তৃতীয় ধারার নাটকে তৃতীয় লিঙ্গের অভিনেতার অন্তর্ভুক্তি, কারণ একমাত্র তৃতীয় ধারার নাটকই পারে এই সম্প্রদায়কে সমাজের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত করতে। সেই লক্ষ্য পরিপূরণ করবার জন্য আমি বাদল সরকার রচিত নাটক ‘ওরে বিহঙ্গ’ পছন্দ করি। নাটকটি নির্দেশনার পাশাপাশি পোষাক, অঙ্গনমঞ্চ পরিকল্পনার কাজ শুরু করি আমি। আমরা নাটকের প্রথম অংশেই দেখি, নাটকটি শুরু হয় একটি পোড়ো বাড়িতে বা পুরোনো বাড়িতে। একটি চরিত্র রাজলক্ষ্মী বলছে, ‘এ কোন পোড়োবাড়িতে নিয়ে এলে গো মোক্কদি’। এর জন্য আমরা নাটকটি স্থান নির্দিষ্ট (space specific) করে তোলার চেষ্টা করেছি। আমরা প্রথম অভিনয়টি করি ২৭ এপ্রিল, ২০১৫, কমলা কুটির-এ। রানি রাসমনির স্মৃতিবিজড়িত এই জীর্ণ পুরোনো বাড়িটি দক্ষিণ কলকাতায় অবস্থিত। ওই পরিবেশের সঙ্গে একাত্ব হওয়ার জন্য ওখানে আমরা কিছুদিন মহড়াও দিয়েছি। এবং দ্বিতীয় অভিনয়ের স্থান হিসাবে নির্বাচন করেছি উত্তর কলকাতার শতাব্দীপ্রাচীন এক পুরোনো বাড়িতে, গৌরীবাড়ি লেন-এ। সামাজিক ভাবে যেমন ওই চরিত্রটি পিছিয়ে পড়া অবহেলিত, সেইভাবে আজকের সমাজে রূপান্তরকামীরা অবহেলিত। এই নাটকের বিষয় হচ্ছে, সমাজের এইসব পিছিয়ে পরা মানুষের স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা, এবং শেষপর্যন্ত ডানা মেলে ওড়ার প্রয়াস। একটা স্বপ্ন নিয়ে এই নাটক শেষ হয় যেখানে সমস্ত মানুষ তাদের ‘রুদ্ধ দুয়ার’ ভেদ করে তাদের ডানা দুখানি মেলে দিতে পারবে, স্বাধীন হতে পারবে, মুক্ত হতে পারবে। এই নাটকে লিঙ্গ নির্বিশেষে ওড়ার কথা বলা হয়েছে। যেখানে নিজের সত্ত্বাটা বদ্ধ করে রাখা হচ্ছে তাকে খুলতে বলা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here