হাওড়ার দুই নারীর রেজিস্ট্রি ম্যারেজের পোস্ট ঘিরে তোলপাড় ফেসবুক

0
526
এই সেই কোর্ট পেপার যাকে ঘিরে বিতর্ক

হাওড়ার দুই নারীর রেজিস্ট্রি ম্যারেজের পোস্ট ঘিরে তোলপাড় ফেসবুক

অবকাশে সঞ্জয়ঃ এখনো রাজপথে কান পাতলে শোনা যায়, কোন্‌ সা কানুন সব সে বত্তর/ তিনশো সাতাত্তর, তিনশো সাতাত্তর। কারন টা আর কিছু নয়। এখনো ভারত সরকারের কঠোর নিষেধাজ্ঞাই নিষিদ্ধ সমলিঙ্গের বিবাহ। সেখানে হাওড়ার এক তরুনী গতকাল নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে স্ট্যাটাস আপডেট করতে গিয়ে লিখেছেন, আজ আমরা আমাদের ভালোবাসার বন্ধন সারা জীবনের জন্য বেঁধে নিলাম। তিনি আরও লিখেছেন, আই অ্যাম সো ভেরি ভেরি হ্যাপি। আই লাভ ইউ সো মাচ মাই সুইট লাইফ পার্টনার লাভার। এই পর্যন্ত ঠিকই আছে। এমন অনেক কাপেলই আছেন  যারা তিনশো সাতাত্তরকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিবাহ করেছেন। তবে সে সব বিবাহই সামাজিক বিবাহ।

কিন্তু ওই তরুনী তাঁর স্ট্যাটাসে আরও একটি বাক্য লিখেছেন। আমরা আজ কোর্টে ম্যারেজ করেছি ( ২৭/০৭/২০১৮)। লিখে প্রমাণ স্বরূপ কয়েকপাতার কোর্ট পেপার ইমেজ আকারে আপলোডও করেছেন।

আর যত গোল দেখা দিয়েছে এই আপলোডেড কোর্ট পেপারকে ঘিরেই। উক্ত কোর্ট পেপার প্রচলিত ম্যারেজ সার্টিফিকেটের মতো নয়। বরং তা নিছকই নোটারি। তবে তা নোটারি হোক বা ম্যারেজ সার্টিফিকেট। আপলোড হওয়ার পরেই ফেসবুকের ধর্ম অনুযায়ী হু হু করে শেয়ার হতে করে। আসতে থাকে কমেন্টও। বলা বাহুল্য বেশির ভাগ কমেন্টেই ওই পেপারের আইনি বৈধতা কে ঘিরে। কেউ লিখেছেন, আমার মনে হয় উকিল এনাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। আবার কারও মন্তব্য, এটি একটি মৌ বা চুক্তিপত্র একসঙ্গে বসবাসের। যদিও পেপারের এক জায়গায় স্পষ্ট লেখা আছে, whereas both the parties are (in) love to each and other…. they will live together as husband and wife under the same roof…… যার অর্থ এরা যেহেতু একে অপরকে ভালোবাসে তাই এরা এক ছাদের তলায় স্বামী-স্ত্রী-র মতো বসবাস করতে পারবেন। বলা বাহুল্য বিতর্ক এই বাক্যবন্ধকে ঘিরেও। তবে অনেকেই দ্ব্যর্থহীনভাষায় জানিয়েছেন, It is neither a Marriage Registration Certificate nor a Proper contract of Civil Partnership এটি কোন বৈবাহিক নিবন্ধীকরণপত্রও নই, আবার চুক্তিপত্রও নয়।

এই সেই কোর্ট পেপার যাকে ঘিরে বিতর্ক

যাইহোক, আইনি বৈধতা থাক বা না থাক অনেকেই এই যুগলকে অভিনন্দন জানিয়েও মেসেজ করেছেন। তবে সতর্কও করে দিয়ে লিখেছেন, এই ধরনের চুক্তিপত্র তা যতই কোর্ট পেপারে হোক না কেন তার কোন আইনি বৈধতা নেই। বরং তা একপ্রকার প্রতারণা। তবে সবথেকে আশ্চর্যের যে তরুনী এই পোস্ট দিয়েছেন, তিনি কিন্তু আছড়ে পড়া কমেন্টের কোন উত্তর দেন নি বা এখনো পর্যন্ত পোস্ট রিমুভ করেন নি। তাই অনেকেরই সন্দিগ্ধ জিজ্ঞাসা, এটি ক্রিয়েটেড পোস্ট নয় তো? জেনে বুঝে ইচ্ছাকৃত ভাবে মিথ্যে পোস্ট দিয়ে মিথ ছড়াতে চাইছেন যে, সমলিঙ্গে বিবাহ সম্ভব।

তবে, মিথ হোক, প্রতারণা হোক, চক্রান্ত হোক বা আর যাই হোক, সমপ্রেমী যুগলদের অনেকেই পোস্টে ঢুঁ মেরেছেন। জানতে চেয়েছেন, কোন আইনের ফাঁক গলে এমনটা সত্যি সম্ভব কিনা। একটাই উদ্দেশ্যে, তাহলে তাঁরাও হয়তো এইভাবে গোপন ইচ্ছে প্রকাশ্যে পূরণের জন্য এগিয়ে আসবেন। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে তিনশো সাতাত্তর নিয়ে দীর্ঘ শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। কোর্টের পর্যবেক্ষণে কিছু ইতিবাচক মন্তব্যও শোনা গিয়েছে। তাই অনেকেই আশায় বুক বেঁধেছেন, হয়তো খুব শ্রীঘ্রই সুখবর পাবেন। যতদিন সেই সুখবর না পাওয়া যাচ্ছে, ততদিন হয়তো এমন নোটারি সার্টিফিকেটকে আঁকড়েই সমলিঙ্গের যুগল এক ছাদের তলায় এক ঘরে এক বিছানায় স্বপ্ন দেখে যাবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here