রূপান্তরকামী সংগীতশিল্পী শুভায়ু থেকে শুভশ্রী হতেই অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণে ভাঁটা

0
834
শুভায়ু ওরফে শুভশ্রী Click by Abakaashe Sanjoy

রূপান্তরকামী সংগীতশিল্পী শুভায়ু থেকে শুভশ্রী হতেই অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণে ভাঁটা

শুভায়ু ওরফে শুভশ্রী Click by Abakaashe Sanjoy 

অবকাশে সঞ্জয়ঃ এতদিন তিনি কেবল কন্ঠে নারী ছিলেন। আসরে আসরে গাইতেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের গান। সে গান শোনার জন্য নানা আসর থেকে নিয়মিত ডাকও আসত। ক্রমশ হয়ে উঠছিলেন জনপ্রিয় শিল্পী। কিন্তু সেই জনপ্রিয়তায় হঠাৎই ভাঁটা পড়তে শুরু করেছে। তবে সেই ভাঁটার কারণ গান খারাপ গাওয়া নয়। কারণ তাঁর যৌনস্বত্তা। তিনি শরীরে পুরুষ হলেও অন্তরে নারী। এতদিন অন্তরের সেই নারীত্বকে গানের মধ্য দিয়ে প্রকাশ করতেন। হাঁটাচলায় প্রকাশ করতেন। ব্যবহারে প্রকাশ করতেন। অবশেষে চাইলেন শরীরী পোশাকে প্রকাশ করতে। ব্যাস, তখনই রে রে রব উঠল। পাজামা-পাঞ্জাবী পরে যে শুভায়ু সেনগুপ্ত আসরে গাইতেন, যদি সত্যি আমি গান ভালোবেসে থাকি… সেই তিনি শাড়ী পরে শুভশ্রী হয়ে যতই আরও ভালো করে গেয়ে উঠুন, একটানা বরষায় ক্লান্তির মেঘ কত ঘিরবে/ আলোর আকাশপথে আবার রঙীন দিন ফিরবে… শ্রোতারা নাকি তা শুনতে চান না। নাকি এমনই অভিযোগ অনুষ্ঠানের আয়োজকদের একাংশের।

সে কথা বলতে বলতে শুভায়ু ওরফে শুভশ্রী সাফ জানিয়ে দিলেন, তবে যাই হোক আর পিছু হটব না। অনেক লড়াইয়ের পর আজ সারা অঙ্গে এই শাড়ী জড়িয়ে নিতে পেরেছি। সামাজিক দুঃশাসনরা শত চেষ্টা করলেও সেই শাড়ী আর খুলে নিতে পারবে না। কারণ তাঁর পরাণসখা শ্রীকৃষ্ণ তাঁর সঙ্গে আছেন। বলা বাহুল্য একজন সংগীতশিল্পীর কাছে সেই পরাণসখার নাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

শুভায়ু সন্ধ্যাকন্ঠী সংগীতশিল্পী হিসাবে বেশি জনপ্রিয় হলেও রবীন্দ্রগান তাঁর প্রাণ। সেই গানে তিনি নিজেকে খুঁজে পান। নিজস্ব দুঃখ গোপন ব্যথা যখন বলে প্রকাশ করতে পারেন না, তখন তিনি তা গানের মধ্য দিয়েই প্রকাশ করেন। তাই তো কথা বলতে বলতেই গেয়ে উঠেছিলেন

কিছুই তো হল না ।
সেই সব— সেই সব— সেই
হাহাকাররব,
সেই অশ্রুবারিধারা, হৃদয়বেদনা ॥
কিছুতে মনের মাঝে শান্তি
নাহি পাই,
কিছুই না পাইলাম যাহা কিছু চাই।
ভালো তো গো বাসিলাম,
ভালোবাসা পাইলাম,
এখনো তো ভালোবাসি— তবুও কী
নাই ॥

রবীন্দ্রগানে সেই নিজস্ব হাহাকার প্রকাশ করতে করতে তাঁর দুচোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছিল জল। বাঁধ না মানা সেই জলে ভেজা কন্ঠে তিনি পরক্ষণেই গেয়ে ওঠেন,

কেহ কারো মন বুঝে না,   কাছে এসে সরে যায়।

সোহাগের হাসিটি কেন      চোখের জলে মরে যায়।।

এতদিন যে স্বত্তাকে একান্ত গোপনে লালন করে এসেছেন, লুকিয়ে রেখেছিলেন অন্যদের কাছ থেকে হঠাৎ তা প্রকাশ করার কি এমন প্রয়োজন পড়ল? এ প্রশ্ন করামাত্রই তিনি দুচোখের কোণ মুছে বলে ওঠেন, কে বলল আপনাকে গোপন ছিল? লুকিয়ে রেখেছিলাম? সকলেই সব জানত। জানতেন। আমার হাঁটাচলা, কথাবলা, শরীরী গঠনে সবই ধরা পড়ত। হাফলেডিস বলে ক্ষ্যাপাতোও তো। কিচ্ছুটি গোপন ছিল না। সবার হাসি তার প্রমাণ। তাই ভাবলাম, সেই যখন সবাই হাসাহাসি করে, তাহলে মিছে এত কষ্ট পুষে রেখে কি লাভ! কেন নিজের ইচ্ছেমত বাঁচতে পারব না আমি। সেই বাঁচার ইচ্ছেতেই শুভায়ু থেকে শুভশ্রী হতে চাওয়া। অবশ্য মনে ম নে শুভশ্রী হয়ে গিয়েছি যৌবনে পা রাখতে না রাখতেই। শুধু মনকে সান্ত্বনা দিতাম-

ধীরে ধীরে ধীরে বও ওগো উতলা হাওয়া,

নিশীথরাতের বাঁশি বাজে – শান্ত হও গো শান্ত হও।।

এই গেয়ে গেয়ে। তবে আর নয়।  এবার শরীরেও হব শুভশ্রী। এসআরএস করাব। ভালো রাখব নিজেকে। আর গানকে আঁকড়েই কাটিয়ে দেব সমস্ত জীবন। সে জীবন যদি একার হয় তাও সই। তবে আমার বিশ্বাস,

প্রতিদিন যার নানা কাজ থেকে মন সরিয়ে

দেবে আমার কোন গানের কলিকে মনে করিয়ে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here