পুরাণের দেবী ইন্দ্রানী থেকে এখনের রূপান্তরকামী নারীদের রাখী পরানো রাষ্ট্রনায়কদের

0
524
মাঝে উত্তরপ্রদেশের এক রূপান্তরকামী নারী যিনি চিঠিতে সই করছেন সৌজন্যে হিন্দুস্থান টাইমস্‌। গ্রাফিক্স- অবকাশে সঞ্জয়

পুরাণের দেবী ইন্দ্রানী থেকে এখনের রূপান্তরকামী নারীদের রাখী পরানো রাষ্ট্রনায়কদের

মাঝে উত্তরপ্রদেশের এক রূপান্তরকামী নারী যিনি চিঠিতে সই করছেন সৌজন্যে হিন্দুস্থান টাইমস্‌। গ্রাফিক্স- অবকাশে সঞ্জয়

অবকাশে সঞ্জয়ঃ পৃথিবীর প্রাচীনতম সভ্যতার গর্বে গর্বিয়ান ভারতবর্ষ। যেখানে গড়ে উঠেছিল মেহেরগড় সভ্যতা। হরপ্পা সভ্যতা। ইতিহাসবাদীরা সভ্যতার সূচনাকাল হিসাবে এই সময়ে আটকে থাকলেও ভারতবর্ষের বহু মানুষ বিশ্বাস করেন পৌরানিক সভ্যতায়। সেই পৌরানিক সভ্যতায় দেবী ইন্দ্রানী দেবরাজ ইন্দ্রের হাতে বেঁধেছিলেন প্রথম রাখী। তারপর দেবী লক্ষ্মীও রাখী বেঁধেছিলেন দৈত্যরাজ বলীর হাতে। সেই শুরু। ইতিহাসকালে পৌঁছে আমরা দেখি গ্রীকবীর আলেকজান্ডারের স্ত্রী রোশানক রাখী পাঠাচ্ছেন ভারতবীর রাজা পুরু-র জন্য। এভাবেই এগিয়েছে ভারতবর্ষ। এগিয়েছে ভারতীয় রক্ষাবন্ধনের পালা।

এরপর ভারতবর্ষ সাক্ষী থেকেছে এক অন্যধারার রাখীবন্ধন উৎসবের। সময়টা বিংশশতাব্দীর প্রথমার্ধ। চলছে নিষ্ঠুর ব্রিটিশ শাসন। দিকে দিকে তার জন্য গর্জেও উঠছে ভারতবাসী। আর সেই গর্জন থামাতে ব্রিটিশরা ঘোষণা করলেন ভারতবর্ষ দ্বিখন্ডিত হবে। ঘোষণামত হয়েও গেল যা ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত। সেই বঙ্গভঙ্গ রোধ করতে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রাখী বেঁধেছিলেন আপামোর বাঙালীর হাতে। বাঙালীর আবেগকে ঐক্যবদ্ধ করতে। বলাবাহুল্য সেই অকাল রাখীবন্ধন উৎসবের বছর ছয়েক পরে রোধ হয়েছিল তখনকার মতো বঙ্গভঙ্গ। যদিও ভারত তার স্বাধীনতা লাভ করেছিল সেই বঙ্গকে আবার ভঙ্গ করে।  আর তা রোধ করতে কোন রবীন্দ্রনাথ রাখী নিয়ে ছুটে আসেন নি তখন। এমনকি পরবর্তীকালেও অক্টোবরের সেই অকাল রাখীবন্ধন কেবলই ইতিহাসে রয়ে গিয়েছে। পাঠ্য হয়ে।

কিন্তু উপরিউক্ত সবকটা রাখীবন্ধনের মূল উদ্দেশ্য  রাষ্ট্রনায়কদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা। সাধারণ মানুষের কাছে যে রাখীবন্ধন ভাইবোনের পবিত্র বন্ধন, বোন ভাইয়ের হাতে রাখী বেঁধে দেবে একটাই প্রার্থনা জানিয়ে যে ভাই যেন তার বোনকে যে কোন  বিপদ থেকে রক্ষা করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে।

এখানেও সেই নীরব প্রার্থনা। রাষ্ট্রনায়করাও যেন ভাইয়ের ভূমিকা পালন করেন।

তেমনই প্রার্থনা নিয়ে কিছু রূপান্তরকামী নারী রাখী পাঠালেন বর্তমান রাষ্ট্রনায়ক তথা ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। সঙ্গে এক অনুরোধপত্র যেখানে তারা লিখেছেন, রূপান্তরকামীদের জন্য তৈরি ট্রান্সজেন্ডার প্রোটেকশান বিল যত দ্রুত সম্ভব পাশ করানোর অনুরোধ। সেইসঙ্গে আরও লিখেছেন, আপনি  তো দেশের উন্নয়নের জন্য বলেন, ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ।’ সেই সবার মধ্যে কি আমরা পরি না? যদি পরি তাহলে আমদের জন্যও ভাবুন। যাইহোক এমন অভিনব কায়দায় রাখী ও পত্রপ্রেরণ করেছেন দিল্লীর এলজিবিটিকিউ কমিউনিটির কিছু রূপান্তরকামী নারী যারা এইচআইভি/এইডস নিয়ে কাজ করছেন।  এখন দেখার সেই রাখী  পৌঁছোনোর পর প্রধানমন্ত্রী কোন বার্তা দেন কিনা। তবে  এ হেন চিঠি যা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে রাখীর সঙ্গে পাঠানো হয়েছে তা রাখীবন্ধনের রাষ্ট্রীয় তাৎপর্যকে নতুন মাত্রা দিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here