বাংলায় ট্রান্সজেন্ডার সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান প্রথম কোন সরকারী স্কুলে উদ্যোগে শোভন

0
621
প্রধান শিক্ষকের মাঝে তিন প্রাক্তনী বাঁদিক থেকে জয়িতা মন্ডল, অভিজিৎ ব্যনার্জী, শ্রেয়া কর্মকার ও শোভন মুখোপাধ্যায়

বাংলায় ট্রান্সজেন্ডার সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান প্রথম কোন সরকারী স্কুলে উদ্যোগে শোভন

প্রধান শিক্ষকের মাঝে তিন প্রাক্তনী বাঁদিক থেকে জয়িতা মন্ডল, অভিজিৎ ব্যনার্জী, শ্রেয়া কর্মকার ও শোভন মুখোপাধ্যায়  Click By Abakashe Sanjoy

অবকাশে সঞ্জয়ঃ ট্রান্সজেন্ডার। মেল ও ফিমেলের পাশে এই শব্দটি এখন বিভিন্ন ফরমে দেখা যায়। তা সে আধারকার্ডে হোক, কিংবা প্যান কার্ডে। রেলের টিকিটে বা ভোটার কার্ডে। এমনকি স্কুল-কলেজের অ্যাডমিশান ফরমেও। কিন্তু ট্রান্সজেন্ডার কারা? সামাজিক মানুষের এ সম্পর্কে মিশ্র ধারনা আছে। তবে তার চেয়েও বড় কথা ট্রান্সজেন্ডার মানুষ দেখলে সমাজের একটা বড় অংশ এখনো হাসি-ঠাট্টা-কটুক্তি করে থাকেন। তার একাধিক কারণ থাকলেও মূল কারণ কিন্তু প্রকৃত শিক্ষার অভাব। বলা বাহুল্য সেই শিক্ষা স্কুলস্তর থেকেই প্রয়োজন। কিন্তু সেই প্রয়োজনীয়তার কথা সকলে স্বীকার করে নিলেও  কি সরকারী স্তরে কিংবা বে-সরকারীভাবে কোথাও তেমন উদ্যোগ চোখে পড়ছিল না।

সেকথা মাথায় রেখেই সেই শুরুটা করল কলকাতার নেতাজীনগর বিদ্যামন্দির যার প্রধান উদ্যোক্তা শোভন মুখোপাধ্যায় নামে এক উদ্যোমী যুবক। যিনি কলকাতার বেশকিছু টয়লেটে ‘ত্রিধারা’ লোগো লাগিয়ে ট্রান্সজেন্ডারদের শৌচাগার সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হয়েছিলেন। সেই উদ্যোগের রেশ ধরে রেখেই নিজস্ব প্রাক্তন স্কুলে প্রথম ট্রান্সজেন্ডার সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান করেন।

এই অনুষ্ঠানের তিনি নামকরণ করেছেন ত্রিবন্ধন উৎসব। নারী-পুরুষ-তৃতীয়লিঙ্গ তিনের বন্ধন ত্রিবন্ধন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ট্রান্সজেন্ডার অ্যাক্টিভিস্ট তথা অলবেঙ্গল ট্রান্সজেন্ডার/হিজড়া অ্যাশোশিয়েশান  (এটিএইচবি নেটওয়ার্ক) এর কর্ণধার রঞ্জিতা সিনহা, শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ার পারসন অনন্যা চক্রবর্তী, হিউম্যান রাইটস ল নেটওয়ার্কের অপারিজতা গাঙ্গুলী, রূপান্তরকামী পুরুষ হিসেবে রাজ্যের প্রথম আইনজীবী অঙ্কন বিশ্বাস, রূপান্তরকামী নারী হিসেবে প্রথম নার্স জিয়া দাস, রূপান্তরকামী নারী হিসেবে প্রথম আইনজীবী তথা নৃত্যশিল্পী মেঘ সায়ন্তন ঘোষ এবং যুবসমাজের জন্য নিরন্তর কাজ করে যাওয়া সমাজকর্মী তথা প্রান্তকথা-র কর্ণধার বাপ্পাদিত্য মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।

স্কুলছাত্রদের মাঝে অতিথিবৃন্দ

এককথায় নানা গুনীজনের উপস্থিতিতে রাজ্যের প্রথম কোন সরকারী স্কুলে করা  এমন ট্রান্সজেন্ডার সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হল। তবে এর পাশাপাশি উক্ত অনুষ্ঠানের আরও একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল, অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয় এই স্কুলেরই প্রাক্তন দুই ছাত্র যারা রূপান্তরকামী ছিলেন এবং বর্তমানে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে রূপান্তরকামী নারী হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত । তারা হলেন লোক আদালতের সাম্মানিক বিচারক জয়িতা মন্ডল এবং  ট্রান্সজেন্ডার মডেল তথা ডান্সার  শ্রেয়া কর্মকার।

সবমিলিয়ে এ হেন অনুষ্ঠান এক ঐতিহাসিক রূপ পায়। সেকথা বলতে গিয়েই নেতাজীনগর বিদ্যামন্দিরের প্রধান শিক্ষক অভিজিৎ ব্যানার্জী বলেন, যে সমাজে নারীদের সুরক্ষাই এখনও সুরক্ষিত নয়, সেখানে নারীসুলভ আচরণকারীদের সুরক্ষা নিয়ে তিনি খুবই আশঙ্কিত। তবে তিনি এও বলেন, আজ যেভাবে অনেকেই এদের সুরক্ষার জন্য কাজ করছেন  তাতে  তাঁর সেই আশঙ্কা কিছুটা হলেও কমেছে এবং তিনি তাঁর দুই প্রাক্তন ছাত্র তথা রূপান্তরকামী ছাত্রীর জন্য গর্ববোধও করেন বলে জানান। সমগ্র অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন স্কুলেরই এক দিদিমনি যাঁরা ট্রান্সজেন্ডার সচেতনতা গড়ে তুলতে আগামীদিনের কারিগর হবেন বলে আশা রাখেন অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা শোভন মুখোপাধ্যায়।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here