ইতি তোমার পারিক/ পঞ্চম পর্ব // অবকাশে সঞ্জয়

0
109

ইতি তোমার পারিক/ পঞ্চম পর্ব // অবকাশে সঞ্জয়

                        পাঁচ

প্রিয় স্বপ্নপুরুষ,

প্রথমেই মাপ চাইছি। খুব ভুল হয়ে গিয়েছে। তোমার উদ্দেশ্য নিয়ে আর কোন সন্দেহ নেই। সত্যিই তুমি যৌনসাম্য প্রতিষ্ঠার পক্ষে।

আমাকে এক পলক দেখতে চেয়েছো তুমি। কি সৌভাগ্য আমার! হ্যাঁ, ঠিক বলেছো, আমি তোমাকে রোজ দেখি আর চোখে হারায়।

কিন্তু তোমায় কেন দেখা দিই নি বলো তো! ভয়ে। আমাকে দেখার পর, যদি আর পছন্দ না করো। আর কথা না বলো। তবে এখন আর রক্ষে নেই। এবার ধরা দিতেই হবে। স্বয়ং স্বপ্নপুরুষ দেখতে চেয়েছে আমায়, তাকে দেখা না দিলে যে পাপ হবে। একেই তো পাপীজন্ম আমাদের। তা আর বাড়াতে চাই না।

এই লেখার সাথে আমার একটা ছবি অ্যাটাচ করে পাঠালাম। দেখো। আমার শারীরিক চেহারা এমন জানি দেখলেই  হাসি পাবে তোমার। হেসো। দুঃখ নেই তার জন্য। কিন্তু অন্যদের মতো ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ বা টিপ্পুনী কেটো না যেন।

যদিও এখন সার্জারি করিয়ে আমি স্তনবতী। সারা শরীরে নারী নারী ভাব। কিন্তু নারী নই। ও ভুলেই গেছিলাম, তুমি তো আমাদের নাম দিয়েছো  যোনিহীনা নারী। তুমি পারোও বটে।

জানো, তখন আমি সদ্য যৌবনে পা দিয়েছি। শরীরে মেয়ে নই, তবু নিজেকে মেয়ে ভাবি। সারাক্ষণ সে এক অদ্ভুত টানাপোড়েন। প্রতিদিন শরীরে আর মনে দ্বন্দ্ব নিয়ে দাঁড়াতাম আয়নার সামনে। তো একদিন দুপুরে, বাড়িতে একা ছিলাম। সেই সুযোগে নিজেকে নগ্ন করে দেখছিলাম, আর ভাবছিলাম আমি কে?

ঠিক তখনই, পাড়াতুতো সুমনদা এসেছিল আমাদের বাড়ি। দাদার খোঁজে। সাড়া না পেয়ে চলেও যাচ্ছিল। হঠাৎ আমার ঘরের জানলায় চোখ গিয়েছিল। হাওয়ায় ওড়া পর্দার ফাঁক দিয়ে সেই চোখের দৃষ্টি গিয়ে পড়েছিল আমার উপর। আমাকে পিছন থেকে দেখে, ক্ষণিকের জন্য হলেও নারী ভেবেছিল মনে হয়। নইলে এদিক ওদিক তাকিয়ে সুমনদা আমার ঘরের দরজায় টোকা দিয়েছিল কেন?

শুধু কি তাই! দরজা খুলতে না খুলতেই ঘরে ঢুকে কোন রকমে কপাটটা ভেজিয়ে দিয়েই জাপটে ধরেছিল আমাকে। তারপর, একজন পুরুষ যেমন করে একজন নারীকে আদর করে আমাকেও তেমন আদর করতে লাগল। ওর আদরে আদরে এতটাই ভেসে  গিয়েছিলাম সেদিন যে ওর দাবি মেনে উপুরও হয়েছিলাম। আর ও আমার পায়ুকে যোনি ভেবে…। মিথ্যে বলব না। প্রচন্ড যন্ত্রনা আর রক্তে ভিজে কাতর হলেও খুব সুখ পেয়েছিলাম।

সুমনদার আদরে আমি যেন পুর্ন নারী হয়ে গেলাম। মাথায় চুল রাখতে শুরু করলাম। নখে নেলপালিশ, ঠোঁটে লিপস্টিক দিতে লাগলাম। কান ফুঁড়োলাম। নাক ফুটো করালাম। উফফ্‌, বাড়িতে সেসব নিয়ে কী অশান্তিই না হত।

দাদার হাতে প্রায় দিন মার খেতাম। বাবাও প্রচন্ড বকাবকি করত। পাড়া পড়শিরা সুযোগ পেলেই মাকে বলতো, কি গো তোমার ছেলে দিনদিন অমন মেয়েলি হয়ে যাচ্ছে কেন! আর আড়ালে বলতো, দ্যাখ হিজড়ে হয়তো…।

এমনি করেই কলেজে উঠলাম। বাড়িতে রীতিমতো ঝগড়া করে প্যাডেড ব্রা আর সালোয়ার কামিজ পরে কলেজ গেলাম।

ততদিনে লেজার থেরাপি করিয়ে নিয়েছিলাম। তাই দাড়ি-গোঁফ বা পুরুষালি লোমের চিহ্ন শরীরের কোথাও ছিল না। তবু আমি নিজেকে লুকোয় নি। আমি যে রূপান্তরকামী নারী সেকথা সবাই জানতো। আর জানতো বলেই বেশির ভাগ আমার সঙ্গে মিশতো না।

যে ক’জন মিশতো নিছক কৌতুহলে। বন্ধু হিসাবে না। কলেজ ক্যান্টিনে বা ক্লাসের ফাঁকে আমার সঙ্গে কথা বলতে এলেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একটাই প্রশ্ন করত, অ্যাই তোর সত্যি সত্যি স্তন আছে? নাকি পুরোটাই মিছিমিছি? কেউ কানের কাছে মুখ এনে বলতো, তোর ওখানটা কেমন রে। একদিন দেখাবি।

আর ছেলেরা তো এককাঠি বাড়া। কিছু একটা অছিলা পেলেই আমার স্তনে হাত দিত। আমি প্রতিবাদ করলেই বলে উঠতো, বাব্বা, এমন করছিস যেন তুই সত্যিকারের মেয়ে! পাশ থেকে কেউ টিপ্পুনী কাটতো, ওরে আমাদের হাত পড়লে তোর স্তন হবে। ইয়া বড় বড়। ছেলেদের কাছে মেয়েরা দুমুঠো মাংস ছাড়া আর কিছুই নয়।

ওরই মধ্যে একটা ছেলেকে অন্যরকম মনে হয়েছিল। একদিন প্রেমের প্রস্তাব দিল। আমিও বোকার মতো রাজী হলাম। ছেলেটি যে আমাকে নিয়ে শুধু বাথরুমে যাওয়ার জন্য এমন প্রস্তাব দিয়েছিল প্রথমে বুঝতে পারিনি। বুঝলাম, কলেজ ফেস্টের দিন। হঠাৎ কানে এল, ওর গার্লফ্রেন্ড অভিমানী সুরে বলছে, খুব তো হিজড়েটার সাথে ঘুরছিলে। আজ কেন আমার কাছে এসেছো। যাও ওর কাছেই যাও। উত্তরে আমার বয়ফ্রেন্ড স্পষ্ট বলল, আরে ডিয়ার, রাগ করো কেন! তোমায় তো বলেছিলাম, আমার  স্বপ্ন কলেজের লেডিস টয়লেটে দুজনে একা হব একদিন। তুমি রাজী হলে না। তাই নকল নারীকে নিয়েই…।

এবার বুঝছ আমাদের যৌনজীবন কেমন। যাইহোক এভাবেই কলেজ লাইফ শেষ করলাম। একা একা। আর সেই আমার একা হওয়া শুরু।

এখনো তেমন একাই আছি। একাই থাকব।                                                                                             ইতি

তোমার রূপকথা

পুনশ্চঃ ৮৬১৭৭৯৪৬৭৩ আমার হোয়াটাস্‌আপ নাম্বার। তোমায় দিলাম। অ্যাড  করে নিও। কথা হবে। দেখাও হবে। জানিও আর কি কি ইচ্ছে আছে। পূরণ করে দেব। হি হি হি। ( চলবে )

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here