ইতি তোমার পারিক/ষষ্ঠ পর্ব // অবকাশে সঞ্জয়

0
69

ইতি তোমার পারিক/ষষ্ঠ পর্ব // অবকাশে সঞ্জয়

ছয় 

আদরের রূপকথা,

তোমায় দেখলাম। আমার ফ্রেন্ডলিস্টে যারা আছে তাদের কারও প্রোফাইলে এই ছবি নেই। তার মানে তুমি ফেসবুকে তোমার ছবি আপলোড করো নি। এখনো। যাক গে। তোমায় দেখে হাসি পাবে বলেছিলে। তাই ওমন হাসিমুখের ছবি পাঠিয়েছো। ভালো।  দেখার পর কি মনে হচ্ছে বলো তো?

কোনকিছুই হয় নি বলা

কথা ছিল এক রাশি।

সবকিছু ভুলিয়ে দিল

তোমার ওই মুখের হাসি।

কাষ্ঠল গদ্যের লোক কেমন ছড়া কাটছি। খুব বিপদ সংকেত। কি বলো!

কারও শারীরিক চেহারা দেখে হাসাহাসি করা এক ধরনের অসুখ। কতজন তো প্রতিবন্ধী মানুষদের দেখেও হাসে। তাই কেউ হাসছে দেখেই নিজেকে হাসির পাত্র ভাবতে যাও কেন!

তোমার প্রথম যৌবনের কথা, কলেজ জীবনের কথা জানলাম। আমি যে ক’জন রূপান্তরকামী নারীর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আলাপচারিতার সুযোগ পেয়েছি, তাদের প্রায় প্রত্যেকের জীবনই কম বেশি এরকম। কি বলবো বলো তো। তোমার তো তবু ভাগ্য ভালো, কলেজে তুমি তোমার মতো ড্রেস পরে, যাওয়ার সুযোগ পেয়েছো। আমি একজনের কথা জানি, যাকে প্রিন্সিপ্যাল স্পষ্টভাষায় বলেছিলেন, চুল কেটে, লিপস্টিক মুছে, প্যান্ট-শার্ট পরে যদি আসতে পারো, তো আসবে। নইলে নো এন্ট্রি।

এমনটাই চলছে। ২০১৪ এর সুপ্রিম কোর্টের রায়ে তোমরা ঐতিহাসিক ভাবে জয় পেয়েছো বলে যতোই দাবি করো বাস্তবে কিচ্ছুটি হয় নি।

আরও মজার কথা কি জানো, ওই রায়ে তো বলা হয়েছে যে রূপান্তরকামী বা ট্রান্সজেন্ডারদের ‘তৃতীয়লিঙ্গ’ হিসাবে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং লিঙ্গভিত্তিক প্রাপ্য সকল অধিকার এদের দিতে হবে। তো লিঙ্গভিত্তিক প্রাপ্য অধিকারের মধ্যে বৈবাহিক অধিকারও পড়ে। কিন্তু সেই অধিকার নৈব চ নৈব চ। কারণ টা কি? না ওরা যৌনক্ষমতাহীন। আর থাকলে যে যৌনাচার করে তা বিকৃত যৌনাচার। এই তো দেশের আইন ব্যবস্থাপকদের ধারনা।

যৌনাচারের কথায় মনে পড়ল, সম্প্রতি এক লেখক একটি অদ্ভুত বই লিখেছেন। মানুষ কিভাবে যৌনক্রিয়া শিখল। ভাবতে পারো? যৌনক্রিয়াও শেখার বিষয়! অনেকেই হয়তো ছি ছি করবে, আবার কেউ কেউ বলবেন,

কী সুন্দর করে লিখেছেন।

যাক গে, তিনি কি লিখেছেন শোন। প্রথমেই বলেছেন, মানুষ ‘মানুষ’ হয়ে ওঠার আগে অন্য আর পাঁচটা প্রাণীর মতোই ছিল। তাদের সাথেই জঙ্গলে-গুহায় বসবাস করতো। আর অন্য প্রাণীদের দেখে দেখে সবকিছু শিখত। যৌনাচারও তাদের দেখে শিখেছে। এবং সন্তান উৎপাদন করেছে।

তারপরেই লেখক একগুচ্ছ প্রশ্ন করেছেন।

যেমন একটি প্রশ্ন হল, অন্য কোন প্রাণী তো যৌনাচার হিসাবে চুম্বন করে না; তাহলে চুম্বনে যে যৌনসুখ মেলে তা মানুষ জানল কিভাবে?

আবার একটি প্রশ্ন স্তন নিয়ে। কটা প্রাণী যৌনমিলনের সময় একে অপরের স্তনে হাত রাখে? কেউই না। তাহলে মানুষ কেন রাখে? আর তা শিখল কিভাবে?

এসবের উত্তরও তিনি তাঁর মতো করে দিয়েছেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় লিখেছেন, অন্যপ্রাণীরা পরস্পর মিলিত হয় কেবল সন্তান উৎপাদনের জন্য। সেই মিলন তাদের নিছকই শরীরী ক্রিয়া। কোন শারীরিক সুখ অনুভব করে না।

কিন্তু মানুষ শুধু শারীরিক সুখ অনুভব করেই না, সেই সুখ তার বাঁচার রসদ।

শুধু তাই নয়, তিনি আরও লিখেছেন, একটা বাঘ বা সিংহ বা অন্য কোন প্রাণী তার যৌবনদশায় ক’বার সংগিনীর সাথে মিলিত হয়? হাতে গোনা কয়েকবার এবং তা একটি মাত্র উদ্দেশ্যে।

আর মানুষ অসংখ্যবার পরস্পরের সাথে মিলিত হয়। সেই মিলন শরীরের তাড়না থেকেই। সেই তাড়না, কামনা মানুষকে যৌনক্রিয়া শিখিয়েছে। প্রথমদিকে মানুষও অন্য প্রাণীদের মতো পিছন থেকে জাপটে ধরে যৌনক্রিয়া করেছে। ক্রিয়ারত অবস্থায় শরীরের অন্যান্য অঙ্গে স্পর্শ থেকে অনুভব করেছে ভালোলাগা। সেই ভালোলাগা মানুষকে বাহুবন্ধনের আলিঙ্গন শিখিয়েছে। এইভাবে এক এক করে মানুষ সমস্ত শরীর দিয়ে যৌনক্রিয়া করতে শিখেছে।  এবং তা রীতিমতো একটা সু-দীর্ঘ সময়কাল ধরে শিখেছে। আর শেখার পরেই শুরু হয়েছে যৌনশাসন।

শুধু দুঃখের বিষয়, বেশিরভাগ মানুষের যৌনক্রিয়ার সাথে তোমাদের যৌনক্রিয়া যেহেতু মেলে না তাই যৌনশাসনের নামে তোমাদের যৌনজীবন যাপন থেকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে।

নইলে যৌনশাসনকাল শুরুর পূর্বে তোমাদের যৌনাচার নিষিদ্ধ ছিল না। তার বহু প্রমাণ ছড়িয়ে আছে ইতিহাসের পাতায় পাতায়। এখন সময় এসেছে সেই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে লড়াই করার। আর সেই লড়াই তোমাদেরই করতে হবে।

শুরু করো তোমরা। সঙ্গে আছি।

ইতি

তোমার স্বপ্নপুরুষ

হোয়াটসাপে অ্যাড করেছি। মধ্যরাতে আমি যখন আমার সাধনঘরে একা হব তখন কথা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here