হাত কেটে একফোঁটা রক্তে রাঙিয়ে দিলাম সিঁথি। কিন্তু কেন। জানতে পড়ুন কবিতা কল্পনা-র লজ্জাবস্ত্র

0
116

হাত কেটে একফোঁটা রক্তে রাঙিয়ে দিলাম সিঁথি। কিন্তু কেন। জানতে পড়ুন কবিতা কল্পনা-র লজ্জাবস্ত্র

আমার সখের শাড়ি আজ ধূলায় মিশে ওর শরীরে চাপা। ও বলেছিল পিঁয়াজী রং এর শাড়ি খুব পছন্দ । লজ্জাবস্ত্রের শাড়ি টা যেন ঐ রঙের হয়,আর সঙ্গে ম্যাচিং ব্লাউজ আর গোল্ডেন ওড়না ওর দারুন পছন্দ। একমাস পরেই যে আমাদের বিয়ে, এই কদিনেই কত নতুন স্বপ্ন দেখেছি ও কে নিয়ে । পাগলী একটা,আমার ফ্লাটে একদিন বেড়াতে এনে ছিলাম। বললাম ,এই চলো বেড রুম্ টা কেমন দেখবে এসো।কিছুতেই আসতে চায়ছিল না । যদি আবার অন্য কিছু চেয়ে বসি। ও বলে বেডরুমে একে বারেই ফুলসজ্জার রাতেই দেখা হবে ,ভীষণ লাজুক আর আত্মসম্মানবোধ নারী । একটা আদর করে ছোট্ট চুমু খেতে চাইলাম ইশারায় । তাও রাজী হল না ,ভীষন রাগ হলেও এই ব্যাপারটাই আমার খুব পছন্দ । বাড়ির সবাই কে শ্রদ্ধা জানিয়ে বিদায় নিল। আমাকে দমদমে এয়ারপোর্টে পৌঁছে দিতেগিয়ে ছিল আর বলে ছিল আবার দেখা হবে যেদিন ফিরবে ,একটা রজনীর স্টিকার নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে। কিছুতেই কাজে মন লাগছিল না,কবে আসবে সেই দিন,যেদিন দেখা হবে আমার প্রিয়ার সাথে। অবশেষে এলো সেই দিন,আমি ফিরছি ,সঙ্গে পিঁয়াজী রং এর লজ্জা বস্ত্র আর ওড়না । ভেতরটা ছটপট করছিলএকবার দেখার জন্য। একবার বুকে জড়িয়ে ধরে আদর করার জন্য। না ,সব আশা তো সবার জন্য নয়। প্লাটফর্মে সবাই কে দেখলাম ফুল হাতে , শুধু রুমা ই এলো না । বারবার জানতে চাইলাম ,কোথায় সে,আসবে বলেছিল,কেন এলো না?কালও ফোনে ম্যাসেজ,আমি আসছি। গাড়িটা সোজা ক্যাওড়া তোলা শ্মশান। বুকের ভেতর টা ঢিপ ঢিপ করে উঠল। এখানে কেন গাড়ি আসছে?চোখের সামনে দেখলাম একটা ডেডবডি। সাদা কাপড়ে মোড়া। চোখে কি কম দেখছি ,এ কে? এ যে রুমা । জানতে পারলাম, বাড়ি থেকে এয়ার পোর্ট আসার পথেই গাড়িতে গাড়িতে ধাক্কা। ওভারটেক করার পরিনতি। প্রাণ গেল কত নিরপরাধ মানুষের । তারই মধ্যে রুমা একজন। আর পরা হলো না লজ্জাবস্ত্র  আর ওড়না । পিঁয়াজী রং এর শাড়িটা বিছিয়ে দিলাম রুমার গায়ে,মাথায় দিল ওড়না আর হাত কেটে একফোঁটা রক্তে রাঙিয়ে দিলাম সিঁথি। মনে হলো রুমা হাসছে আর বলছে আমি এবার দেখব তোমার বেডরুম । আজ যে আমাদের ফুল সজ্জা ! নিয়ে যাবে না?আদর করবে তো!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here