ইতি তোমার পারিক/ দশম পর্ব// অবকাশে সঞ্জয়

0
44
ছবি সৌজন্যে- ইন্টারনেট

ইতি তোমার পারিক/ দশম পর্ব // অবকাশে সঞ্জয়

ছবি সৌজন্যে- ইন্টারনেট
  •                           দশ
  • আদরের রূপকথা,
  •                 বৃহন্নলাদের দাপট রুখতে উদ্যোগী হবে পুলিশ। আনন্দবাজারে বেরিয়েছিল নিউজটা। পরদিনই সন্ধ্যায় বেশ কয়েকজন ট্রান্সজেন্ডার অ্যাক্টিভিস্ট রবীন্দ্রসদনের পাশে রানুছায়া মঞ্চে এক প্রতিবাদ সভা ডেকেছিলেন। আমিও গিয়েছিলাম সামিল হতে। ভেবেছিলাম শহরের সব বৃহন্নলা ঝাঁপিয়ে পড়বে প্রতিবাদে। তালিতে তালিতে মুখরিত হয়ে উঠবে শহরের আকাশ, বাতাস। কিন্তু কই! গুটিকয়েক জন যারা এসেছিলেন তাদের কেউই বোধহয় হিজড়াবৃত্তি করেন না। এই যদি হাল হয়, কি হবে বোঝ!
  •                 তুমি শ্রীরামচন্দ্রের দেওয়া আশীর্বাদের কথা লিখেছো। ভালো। কিন্তু  শ্রীকৃষ্ণের কথা তো বললে না! তিনি কি শিখিয়েছেন? আপন অধিকার পেতে যুদ্ধক্ষেত্রে অবতীর্ন হতে হবে। সেই বার্তা দিতে শিখন্ডীকে পাশে নিয়ে তিনি অবতীর্ন হয়েছিলেন কুরুক্ষেত্রের প্রান্তরে, মহাধর্মযুদ্ধে। শুধু কি তাই? যুদ্ধের শেষপ্রান্তে পৌঁছে, যখন তিনি জানলেন যুদ্ধ জিততে মাকালীর আশীর্বাদ প্রয়োজন এবং তা পাওয়ার জন্য এক নিখাদ যুবককে মায়ের চরণে বলি দিতে হবে আর অর্জুনপুত্র আরবন এলেন সেই বলি হতে, তখন আরবন  স্ত্রীসুখ পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে,স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ নারীবেশ পরে মোহিনী সাজে সজ্জিত হয়ে আরবনকে সেই সুখ দিয়েছিলেন।
  •               কৃষ্ণের এই লীলার অর্থ বোঝ নি? তিনি সবার কল্যানের কথা ভেবেছিলেন। তাইতো তোমাদের পূর্বসূরী শিখন্ডীর মধ্য দিয়ে যুদ্ধজয় শেখালেন। আর নিজে তোমাদের মতো মোহিনী সেজে তোমাদেরই একজন হয়ে গেলেন।
  •                শুধু কি তাই? অর্জুনের বৃহন্নলা রূপে নৃত্যশিক্ষা দান তো সেযুগে পরম সাদরে গৃহীত হয়েছিল। স্বর্গের ঊর্বশী-রম্ভাদের কি নামে ডাকা হত জানো তো? কিন্নর। আর এ যুগে কাদের কিন্নর বলে? তোমাদের। তোমরা যে ঈশ্বরের এক অপূর্ব সৃষ্টি।
  •           ভারতে প্রাচীন রাজরাজাদের দরবারে তোমরা ছিলে সবথেকে বিশ্বস্ত কর্মচারী। অর্থশাস্ত্র, সুশ্রুতসংহিতা, হর্ষচরিত ইত্যাদি গ্রন্থে তোমাদের কথা লেখা আছে জানো তো। এমনকি মধ্যযুগেও রাজপ্রহরীর কাজে তোমাদের পাওয়া গিয়েছে। যত গন্ডগোল পাকিয়ে গেল ব্রিটিশরা। বিকৃত যৌনতার দোহাই দিয়ে তোমাদের প্রান্তিক করে গেল। কিন্তু তা মেনে নিয়ে চুপ থাকলে হবে? শিখন্ডীর মতো যুদ্ধজয়ের প্রতিজ্ঞা করতে হবে।
  •           সিগন্যালে ভিক্ষাবন্ধের প্রতিবাদে তোমরা সবাই সামিল হও নি সে নিয়ে খুব বেশি আক্ষেপ নেই আমার। সত্যি বলতে কি ভিক্ষাবৃত্তিতে আমারও ব্যক্তিগত সায় নেই। তাছাড়া ভিক্ষাবৃত্তির জীবন যাপনে অভ্যস্ত হলে প্রাপ্য অধিকার পাওয়া যায় না।
  •          তবে এটাও ঠিক হিজড়াবৃত্তি অন্য আর পাঁচটা ভিক্ষাবৃত্তির মতো নয়। তাইতো ভিক্ষুক যেমন দয়া করে দুটো ভিক্ষা দেবেন বলে প্রার্থনা করেন, কোন হিজড়া তেমন বলেন না। আসলে কোথাও যেন সমাজ বনাম হিজড়া সম্প্রদায়ের মধ্যে একটা বিশ্বাসের চুক্তি রয়েছে। সেই চুক্তি মোতাবেক যে অনুচ্চারিত বক্তব্য আছে। হে সমাজ তোমরাই আমাদের জন্ম দিয়েছো, কিন্তু কোন কাজ দাও নি। তাই তোমাদেরই দায়িত্ব আমাদের সাহায্য করার। কি তাই তো?
  •        কিন্তু এই বিশ্বাসের চুক্তি যে বড়ই নড়বড়ে। যে কোন সময় ভঙ্গ হতে পারে। তাই সময় থাকতে লড়াই শুরু করো।
  •       নিশ্চয় লক্ষ্য করেছো, যৌন স্বাধীনতাকামী বহুমানুষ নিজেদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সামিল হচ্ছেন। তোমরা আর খোলে আটকে থেকো না। বেরিয়ে এসো। নামো পথে। পথেই এবার নামো সাথী। আমরাও সাথে আছি।
  •                                                           ইতি
  •                                                    তোমার স্বপ্নপুরুষ    ( চলবে )

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here