ট্রান্সজেন্ডার প্রোটেকশান বিল পাশ করিয়ে কি তৃতীয়লিঙ্গের রক্ষাকবচ কেড়ে নিল সরকার?

0
118
ফাইলচিত্র

ট্রান্সজেন্ডার প্রোটেকশান বিল পাশ করিয়ে কি তৃতীয়লিঙ্গের রক্ষাকবচ কেড়ে নিল সরকার?

ফাইলচিত্র

অবকাশে সঞ্জয়, ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ : চার বছর আগেকার কথা। ১৫ ই এপ্রিল ২০১৪ সাল। সুপ্রিম কোর্ট এক মামলার রায় ঘোষণা করতে গিয়ে বলে, অল ট্রান্সজেন্ডারস আর থার্ডজেন্ডারস। শুধু এইটুকু বলেই থেমে থাকে নি সেদিন সুপ্রিমকোর্ট। কোর্ট আরও বলেছিল, থার্ডজেন্ডারস বা তৃতীয়লিঙ্গ ভুক্ত মানুষদের লিঙ্গভিত্তিক প্রাপ্ত সমস্তরকম নাগরিক অধিকার দিতে হবে। সেই রায়কে রূপান্তরকামী সমাজ ঐতিহাসিক রায় হিসেবে মান্যতা দিয়েছিলেন। স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন, এবার নিশ্চয় তারা সমস্ত রকম নাগরিক অধিকার পাবেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবরূপ নিতে শুরু করল ২০১৬ সালে তৈরি ট্রান্সজেন্ডার প্রোটেকশান বিলের মধ্য দিয়ে।

কিন্তু বিলের খসড়া দেখেই আশাহত হয়েছিল রূপান্তরকামী সমাজ। গর্জে উঠেছিল প্রতিবাদে। ভুলে ভরা সেই বিল তাঁরা মানতে রাজী হন নি। বেশ কিছু সংশোধনীর কথা বলতে শুরু করেন  রূপান্তরকামীদের অধিকার রক্ষার জন্য আন্দোলনকারী বহু সংগঠন। আন্দোলনের ঢেউ আছড়ে পড়েছিল, দিল্লীতেও। তার তীব্রতা আঁচ পেয়ে সেইসময় আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, বিলে সংশোধনী আনা হবে। আশ্বাস মোতাবেক সংশোধনী আনাও হয়। এবং অবশেষে গতকাল তা লোকসভায় পাশও হয়ে যায়।

তবে পাশ হওয়া সেই বিলে মূল যে সংশোধনীর কথা বলা হয়েছিল তা করা হয় নি। অর্থাৎ সুপ্রিমকোর্ট রূপান্তরকামীদের যে সংজ্ঞা দিয়েছিল (কোন মানুষকে কেউই পুরুষ , নারী বা রূপান্তরকামী বলে ডাকতে পারবে না যতক্ষন না তিনি নিজে ঠিক করে দিচ্ছেন তাঁকে কি বলে ডাকা হবে ।       As per the NALSA judgment, no one could call a person woman, man or transgender, except the person themselves. ) তা মানা হয় নি এই বিলে।

এর পাশাপাশি কোর্ট আরও বলেছিল, নিজেকে ট্রান্সজেন্ডার প্রমান করার জন্য কোন মেডিকেল সার্টিফিকেট দিতে হবে না । জাস্ট সেলফ ডিক্লারেশান ও সাইকোলজিক্যাল অ্যাসেসমেন্ট  নিয়ে একটি কোর্ট এফিডেফিট দিতে হবে যাতে লেখা থাকবে I, aged… having my date of birth as ………….. resident of …………………………and so far known as Mr…………………, have changed my gender and name  ( from male to transgender ) and will henceforth be known as Mx .…………………”. এবং  কমপক্ষে দুটি সংবাদপত্রে এফিডেফিটের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সরকারী গেজেটি নোটিফিকেশান পেয়ে গেলেই কাজ শেষ । কোর্টের এই নির্দেশও রক্ষিত হয় নি বিলে। সবমিলিয়ে বলা যেতে পারে, সুপ্রিমকোর্ট ২০১৪ সালে রূপান্তরকামীদের যে স্বপ্ন দেখিয়েছিল, তা ২০১৮ সালে চুড়ান্তভাবে ভেঙে গেল।

এ যেন মহাভারতের কর্ণের মতো সব যোগ্যতা থাকা স্বত্তেও ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে পরাজিত হওয়া। ট্রান্সজেন্ডার প্রোটেকশান বিল(২০১৬) এর নামে সরকার যেন দেবরাজ ইন্দ্রের মতো ছদ্মবেশে এসে রূপান্তরকামীদের কাছ থেকে তাদের রক্ষাকবচ কেড়ে নিয়ে গেল। প্রোটেকশান বিলে জেলায় জেলায় গড়ে তোলা স্ক্রিনিং কমিটির কাছ থেকে সার্টিফিকেট নিতে হবে আর না পুরুষ না নারীরাই কেবল তৃতীয়লিঙ্গ বিলের এই দুটি অংশই সেকথা স্পষ্ট করে দেয়।

এখন আশার আলো একটাই।  শ্রীকৃষ্ণ যেমন মৃত্যুর পর পান্ডবপক্ষকে দিয়ে কর্ণের অন্তেষ্টিক্রিয়া করিয়ে প্রাপ্য সম্মান দিতে চেয়েছিলেন, সুপ্রিমকোর্টও তেমনই আবার রূপান্তরকামীদের ন্যায্য প্রাপ্য দেওয়ার জন্য অগ্রণী ভূমিকা নেবেন। সেই আশাতেই আবার গড়ে উঠুক প্রতিবাদ। গর্জে উঠুক রূপান্তরকামী সমাজ।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here