ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়েই অধ্যাপক হওয়ার পরীক্ষা দিলেন ডবল এম.এ. অমিত মন মুখার্জী

0
2593
নিজস্ব অ্যাডমিট সহ অমিত মন মুখার্জী

ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়েই অধ্যাপক হওয়ার পরীক্ষা দিলেন ডবল এম.এ. অমিত মন মুখার্জী

নিজস্ব অ্যাডমিট সহ অমিত মন মুখার্জী

বিশেষ প্রতিবেদন, ২১শে ডিসেম্বর, ২০১৮, বারাসাতঃ একদিকে যখন টিজি বিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে, সেলফ আইডেনটিফিকেশানের তত্ত্ব ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে, তখন ইউজিসি নেট পরীক্ষায় ট্রান্সজেন্ডার পরিচয় দিয়েই পরীক্ষায় বসলেন উত্তর চব্বিশ পরগনার বারাসাতের অমিতাভ ওরফে অমিত মন মুখার্জী। ইউজিসি জেন্ডার ক্যাটাগরিতে ট্রান্সজেন্ডার অপশান এনেছিলেন। আর তা দেখেই নিজস্ব পরিচয় না লুকিয়ে সেই অপশান বেছে নেন অমিত। পরীক্ষাকেন্দ্রে তাঁর প্রতি পরীক্ষকদের ব্যবহার কেমন সে প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে অমিত বলেন, সকলের আন্তরিক ব্যবহারে তিনি মুগ্ধ। সবার মধ্যেই ইতিবাচক মনোভাব দেখেছেন।

প্রসঙ্গত অমিতাভ ২০০৭ সালে বাংলায় এম.এ. পাশ করেন এবং ২০১৩ সালে সোস্যাল ওয়ার্ক-এ মাস্টার্স ডিগ্রি করেন। তবে ২০১৮ এর নেট-এ তিনি সোস্যাল ওয়ার্ক ক্যাটাগরি বেছে নেন। এখন স্বপ্ন অধ্যাপিকা হিসাবে কাজে যোগ দেওয়ার। তবে তার জন্য এখনো তাঁকে অনেক পথ পের হতে হবে এবং সে পথ মোটেও মসৃন নয়। অবশ্য জীবনে চলার পথ কবে আর মসৃন হয়েছে। প্রতিপদেই তো লড়াই। এখন দেখার সেই লড়াইয়ে জয়ী হয়ে অমিত মন মুখার্জী সাফল্য আনতে পারে কিনা। পারলে তিনিও মানবী বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো রাজ্যের আরও এক রূপান্তরকামী অধ্যাপিকা হবেন।

তবে তা যদি নাও হয়, অমিতাভ-র এই নেট পরীক্ষায় বসা, ডবল এম.এ. করার সাফল্যও কোন অংশে কম নয়। প্রতিপদে সমাজের তাচ্ছিল্য, হাসি ঠাট্টার প্রতি উদাসীন থেকে নিজস্ব লক্ষ্যে স্থির থাকা কতখানি কঠিন তা কেবল ভুক্তভোগী জানেন। অমিতাভ সেই লক্ষ্যকে পাখির চোখ করে এগিয়ে যাচ্ছেন। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। সেই সময় বলবে, লক্ষ্যভেদ করে অমিতাভ অর্জুন হয়ে উঠবে, নাকি তাকেও একলব্যের মতো সমাজের কাছে গুরুদক্ষিনা দিয়ে নিজস্ব অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে হবে। মহাকাল তার উত্তর দেবে। আমরা তারই অপেক্ষায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here