ক্ষুব্ধ বিচারক, নির্দেশ স্বত্তেও সিভিল সার্ভিসে নেই ‘তৃতীয়লিঙ্গ’! আবার আদালতে অত্রি কর

0
407

ক্ষুব্ধ বিচারক, নির্দেশ স্বত্তেও সিভিল সার্ভিসে নেই ‘তৃতীয়লিঙ্গ’!  আবার আদালতে অত্রি কর

নিজস্ব প্রতিবেদন, ১২ই মার্চ, ২০১৯ঃ পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হতে চলল। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, অল ট্রান্সজেন্ডারস আর থার্ডজেন্ডারস। এবং থার্ডজেন্ডারদের নাগরিক ভিত্তিক প্রাপ্য সমস্ত অধিকার দিতে হবে(২০১৪ সাল ১৫ই এপ্রিল)। সেই ঘোষণার পর কিছু কিছু ক্ষেত্রে তৃতীয়লিঙ্গ বা অন্যান্য অপশান আনা হয়েছে। কিন্তু যাদের উপর ভারতবর্ষ শাসনের ভার ন্যস্ত সেই সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় এখনো তৃতীয়লিঙ্গ অপশান নেই। অথচ এই পরীক্ষায় বসার জন্য যোগ্য তৃতীয়লিঙ্গের পরীক্ষার্থী অনেকেই আছেন। তাদের মধ্যে একজন হলেন অত্রি কর। যিনি গতবছর আদালতের দ্বারস্থ হন এই পরীক্ষায় বসার জন্য এবং আদালতের নির্দেশে পরীক্ষায় বসতে পারেন।

প্রথমবার পরীক্ষার বসার পর তিনি ভেবেছিলেন, পরবর্তী বছরে এউপিএসসি(UPSC) স্বাভাবিক ভাবেই জেন্ডার অপশানে তৃতীয়লিঙ্গ দেবে।কিন্তু গত ১৯/০২/২০১৯ নোটিফিকেশানের পর এবার ফরম ফিল আপ করতে গিয়ে দেখেন, এবারও নিজস্ব পছন্দের জেন্ডার অপশান নেই। না থাকায় বিরক্ত হন অত্রি কর।

তবে বিরক্ত হলেও তিনি হাল ছাড়ার পাত্রী নন। এবারও তিনি ক্যাটের দ্বারস্থ  হন। সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিসট্রেটিভ ট্রাইবুনালে কেসটি ওঠার পরই আলোড়ন পড়ে যায়। মাননীয় বিচারক রীতিমতো ক্ষুব্ধ। সূত্রের খবর, তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশ স্বত্তেও কেন ইউপিএসসি এবার থার্ডজেন্ডার অপশান আনল না? তিনি ক্ষুব্ধ ভাবে আরও বলেন, এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে আদালত নোটিস পাঠাতে বাধ্য হবেন। এরপর বিচারক অত্রি করকে এবারও পরীক্ষায় বসতে দেওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য নির্দেশ দেন। প্রসঙ্গত তিনি জানান, তাঁর স্মৃতিতে অত্রি কর নামটি পর্যন্ত এখনো রয়েছে, সেখানে ইউপিএসসি কেন এখনো কোন ব্যবস্থা করে উঠতে পারল না?

বিচারকের এ হেন পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি অত্রি করের এই সাফল্যের পিছনে যার অবদান বিশেষ ভাবে উল্লেখ তিনি হলেন ঐন্দ্রিলা চ্যাটার্জী, হিউম্যান রাইটস্‌ ল নেটওয়ার্কের বিশেষ আইনজীবী। এঁর সহযোগিতা না থাকলে অত্রি করের পক্ষে আদালতে যাওয়া আরো কঠিন হয়ে পড়ত। অত্রি তাই বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ঐন্দ্রিলা ও এইচআরএলএন কে।

এ প্রসঙ্গে অত্রি করকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বারবার আদালতের নির্দেশ নিয়ে কেন তাঁকে পরীক্ষায় বসতে হবে? কেন স্বাভাবিক ভাবে আমরা নিজস্ব অপশান পাব না? সকলে তো আর আদালতে আসতে পারেন না। তাই এই অপশান থাকলে অনেকেই পরীক্ষায় বসতে পারবেন।

যাইহোক, ভারতের প্রথম তৃতীয় স্বত্তার সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার্থী অত্রি কর কি পারবেন মহাভারতের তৃতীয় স্বত্ত্বা ধারণকারী অর্জুনের মতো বর্তমান ভারতের লড়াইয়ে বিজয়ী হতে? সময় তার উপায় দেবে।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here