রূপান্তরকামী নারী মেঘ সায়ন্তন সহ ১১ জনের নৃত্যায়নে মহাভারতীয় নারীদের উপস্থাপন

0
322

অবকাশে সঞ্জয়ঃ মহাভারত মানেই কেবল কুরুক্ষেত্র নয়, পুরুষোত্তম শ্রীকৃষ্ণ নয়, পঞ্চপান্ডব নয়, শত কৌরব নয়, নয় হস্তিনাপুর। মহাভারত মানে আরও আরও অনেক কিছু। সেই অনেককিছুর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য মহাভারতে নারী। এত এত নারীচরিত্রের সমাগম কেবল মহাভারতেই দেখা যায়। সেই নারীচরিত্র কেবল নয়নজলে ভাসতে ভাসতে ভাগ্যকে দোষারোপ করতে করতে ভবিতব্যকে মেনে নিয়েছে তা কিন্তু নয়। বরং তেজস্বী সব পুরুষদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদী হয়েছেন।

তেমনি ১১ জন তেজস্বিনী মহাভারতীয় নারীকথা নৃত্যায়নে উপস্থাপন করে ইতিহাস সৃষ্টি করলেন রূপান্তরকামী নারী মেঘ সায়ন্তন ঘোষ ও রুদ্রপলাশ নৃত্যগোষ্ঠী। ভারতীয় নৃত্যকলার ইতিহাসে এই প্রথম এগারোজন রূপান্তরকামী নারী নৃত্যায়নের মাধ্যমে মহাভারতীয় নারীদের প্রতিবাদ-প্রেম-আকাঙ্খা- পরিনতি তুলে ধরলেন।

       মহাভারতের হস্তিনাপুরের রাজসভায় দাঁড়িয়ে দ্রৌপদী সেদিন যেমন প্রতিবাদী হয়েছিলেন, এই ভারতের আইসিসিয়ারের মঞ্চেও যেন তেমনই এক বলিষ্ঠ প্রতিবাদ মেঘ সায়ন্তনদের। নিজস্ব নৃত্যকলার মাধ্যমে। সামাজিকভাবে রূপান্তরকামীদের সসম্মানে গ্রহণের জন্য। শিল্পকলা সহ সমস্তক্ষেত্রে যথাযথ প্রাপ্য মর্যাদার জন্য।

     প্রেক্ষাগৃহে উপস্থিত সকল দর্শক করতালি দিয়ে যেভাবে সেই গ্রহনযোগ্যতা ও সম্মান প্রদর্শনের নজির রাখলেন তা অবশ্য বুঝিয়ে দেয় রুদ্রপলাশের প্রচেষ্টা একশ শতাংশ সফল।

   মভাভারতীয় নারী গঙ্গা, সত্যব্রতী, অম্বা, কুন্তি, মাদ্রী, গান্ধারী, দ্রৌপদী, চিত্রাঙ্গদা, সুভদ্রা, উত্তরা, এবং শিখন্ডিনী-র চরিত্রায়ন দেখা যায় ‘মহা-মানবী’ নামক এই নৃত্যনাট্যে। যার ভাষ্য লিখেছেন ভাস্বতী দত্ত। সহ লিখনে মেঘ সায়ন্তনী, নৃত্য পরিকল্পনায় মেঘ সায়ন্তন ঘোষ, সহ পরিকল্পনায় ইন্দ্রাণী গাঙ্গুলী। এবং সর্বোপরি উল্লেখ যে এগারো জন রূপান্তরকামী নারী নৃত্যায়নে এই উপস্থাপন তারা হলেন শশী হাজরা, সন্দীপ্তা ছেত্রী, সোমনাথ ময়রা, প্রতিমা মন্ডল, সাগর গায়েন, দীপ হালদার, রমা মন্ডল, সুজিত মন্ডল, আকাশ পাল, সৌরদীপ চক্রবর্তী এবং মেঘ সায়ন্তন ঘোষ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here