বেদব্যাসের জন্মতিথি পালন ভারতের প্রথম শিক্ষক দিবস উদযাপন

0
101
ছবি সৌজন্যে – ইন্টারনেট

অবকাশে সঞ্জয়ঃ

পৃথিবীর প্রাচীনতম সভ্যতার গর্বে গর্বিয়ান আমার দেশ ভারতবর্ষ। সেই দেশ যেখানে জন্মেছিলেন কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন বেদব্যাস। যার লেখা মহাভারত আমাদের জীবনের পাঠ শেখায়। আর তাই সেই মহাভারতের রচয়িতা বেদব্যাস-এর জন্মতিথি তার শিষ্যরা পালন করে আসছেন শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে। ভারতবর্ষে সেই বেদব্যাসের জন্মদিবস পালনই প্রথম শিক্ষক দিবস যা বর্তমানে গুরুপূর্ণিমা নামে পরিচিত। যদিও আধুনিকবাদীদের অনেকে বেদব্যাসকে কাল্পনিক আখ্যা দিয়ে তার জন্মতিথি শিক্ষক দিবস হিসাবে পালিত হওয়ার পরম্পরাকে মানতেই চান না। তবে আশার কথা সেই আধুনিকবাদীদের কথায় কথায় যে ইন্টারনেট-গুগুল করার কথা উঠে আসে, সেই গুগুলে সার্চ করতে গিয়ে উইকিপিডিয়া ওপেন করলেই শিক্ষক দিবসের  হিসাবে এখনো প্রথমেই জ্বলজ্বল করে যে নাম তা হল বেদব্যাস। তার জন্মতিথি অর্থাৎ গুরুপূর্ণিমা আধ্যাত্মিক ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষকদের মঙ্গল কামনায় নিবেদিত।

    আর এই আধুনিক যুগে এসে শিক্ষক দিবস পালনের সূচনা হয় বিংশ শতাব্দীতে। সমগ্র বিশ্বজুড়ে। উদ্দেশ্য শিক্ষকদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, সম্মান প্রদর্শন। বিশ্বের নানা দেশে নানা তারিখে পালিত হয় শিক্ষক দিবস। তবে বিশ্বজুড়ে শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করা সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো ১৯৯৫ সালে ৫ ই অক্টোবরকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসাবে পালন করে। পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশ অক্টোবরের ৫ তারিখকেই শিক্ষক দিবস হিসাবে পালন করে।

তবে স্বাধীনত্তোর ভারতবর্ষ প্রথম উপ রাষ্ট্রপতি তথা দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন এর জন্মদিবসকেই শিক্ষক দিবস হিসাবে পালন করা শুরু করে। সময়টা ১৯৬২ সাল। ব্রিটিশ ভারতে কর্মজীবনে রাধাকৃষ্ণন ছিলেন শিক্ষাকতা করতেন। রাজনীতিবিদ, দার্শনিক ও অধ্যাপকহিসাবে তাঁর খ্যাতি ছিল বিশ্বজুড়ে। সেই হিসাবে তাঁর কিছু গুণমুগ্ধ ছাত্র তাঁর জন্মদিন পালনে উদ্যোগী হলে তিনি তাঁদের বলেন,‘জন্মদিনের পরিবর্তে ৫ই সেপ্টেম্বর যদি শিক্ষক দিবস উদ্‌যাপিত হয় তবে আমি বিশেষরূপে অনুগ্রহ লাভ করবো।’

       সেই পরম্পরা মেনে আজও আড়ম্বরে দেশজুড়ে পালিত হয় শিক্ষক দিবস। এই ছাত্রসমাজ তার প্রিয় শিক্ষককে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে, তেমনই নানা প্রাতিষ্ঠানিক ভাবেও শিক্ষকদের সম্মানিত করা হয়।

   পরিশেষে যেটা বলার, ভিন্ন ভিন্ন দিনে হোক ক্ষতি নেই। শিক্ষকদের প্রতি বিশ্বজুড়ে এই শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অত্যন্ত প্রয়োজন কেননা দেশ গঠনে যারা ভূমিকা নেন তাদের ভিত কিন্তু গড়ে ওঠে এই শিক্ষকদের হাত দিয়েই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here