৩৭৭ অবলুপ্তির বর্ষপূর্তিতে প্রশ্ন সমকামী বিবাহ আইন কবে হবে?

0
60
সৌজন্যে- ইন্টারনেট

অবকাশে সঞ্জয়ঃ যদিদং হৃদয়ং তবঃ / তদিদং হৃদয়ং মমঃ। বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার মুহুর্তে যুগ যুগ ধরে উচ্চারিত এই মন্ত্রে কোথাও শরীরের কথা বলা নেই। হৃদয়। মন। সম্পর্কের শেষ কথা। তাই উঠে এসেছে চিরন্তনী এই মন্ত্রে। কিন্তু ভারতীয় বৈবাহিক আইন ব্যবস্থায় মনের কোন দামই নেই। শরীরই সেখানে শেষ কথা। সে আইনে কেবল একটি পুরুষ শরীর বৈবাহিক বন্ধনের জন্য পেতে পারে একটি নারী শরীর। যুক্তি বিবাহের এক এবং একমাত্র উদ্দেশ্য যেন জনন। যদিও সমাজের কাছে সে যুক্তি ধোপে টেকে নি। তাই অনেক আন্দোলন অনেক লড়াইয়ের পর অবলুপ্তি হয়েছে ৩৭৭ ধারা। যে ধারা মোতাবেক দুটি পুরুষ শরীরের বা দুটি নারী শরীরের মিলন ছিল আইন বিরুদ্ধ।

    গত বছর ঠিক আজকের দিনে ভারতীয় সুপ্রীম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায় দিয়ে ৩৭৭ ধারার অবলুপ্তির ঘোষনা করেন। দ্ব্যার্থহীন ভাষায় সমকাম কে স্বাগত জানান। সেই ঘোষনা সমকামী তথা সমগ্র এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের কাছে ছিল স্বাধীনতা প্রাপ্তির সমান।

সেই স্বাধীনতা প্রাপ্তিকে স্মরণে রেখে আজ সারা দেশ জুড়ে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায় পালন করছে নিজস্ব স্বাধীনতা দিবস। সোস্যাল মিডিয়ার ওয়াল জুড়ে রামধনু রঙ। তবে তার সঙ্গে প্রায় সবার কন্ঠে প্রশ্ন, ৩৭৭ ধারা অবলুপ্তি তো হল। কিন্তু সমকামী বিবাহ আইন??? কবে হবে? কবে আইন সম্মত উপায়ে দুই পুরুষ শরীর বা দুই নারী শরীর মিলিত হওয়ার আইনি ছাড়পত্র পাবে? বৃষ্টিশেষে আকাশ জুড়ে রামধনু উঠলেও অনেকের আশঙ্কা, আবার না মেঘ ঘনিয়ে আসে। অন্ধকারে ঢেকে দিতে সমকামী সমাজকে।

 তবে কেউ কেউ বলছেন, ১৫৭ বছর ধরে লড়াই করে আমরা যদি ৩৭৭ ধারা রিমুভ করাতে পারি, তবে আমাদের আন্দোলনের মাধ্যমে সমকামী আইনও করাতে পারব। রাষ্ট্রকে তা করতেই হবে। যতদিন না সেই আইন হয় সে আন্দোলন চলবে। তবে তার আগে উৎসব চলুক। ৩৭৭ ধারা বিলুপ্তির মাধ্যমে মুক্তি পাওয়ার উৎসব। নিজস্ব পছন্দ অনুযায়ী মিলিত হওয়ার উৎসব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here