বাঁশঝাড়ের দেয়াল//খুকু ভূঞ্যা

0
83

বাঁশঝাড়ের দেয়াল

খুকু ভূঞ্যা

২রা ডিসেম্বর।শীতমাখা ঘুম ঘুম চোখে দিনমণি। আড়মোড়া ভাঙছে। হেঁটে চলেছি একা।ধান কাটা মাঠ পেরিয়ে।পানের বরজ, মাদুর কাঠি বন পেরিয়ে পিচঢালা রাস্তার দিকে।

সকালে বাজারের সামনে দিয়ে হেঁটে যেতে বেশ লাগে।এ সময় মানুষের মুখগুলো বেশ পবিত্র মনে হয়। দোকানে দোকানে ধূপের গন্ধ। মুরগি পাঁঠার চোখেও শেষের আকাশ ও রোদ আদরে গা এলিয়ে দেয়। হত্যার আর্তনাদ, অথবা রক্ত গড়িয়ে আসেনি রাস্তায়।যেন একটা পবিত্র পর্বের ভেতর দিয়ে এগিয়ে চলেছি কোনো দেবলোকের দিকে। সামনে পেছনে কোনো ভয় নেই।একা পৌঁছে যাওয়া যায়। যেখানে দিগন্ত মিলেছে দিগন্তে।

বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়ালাম। ছিটেফোঁটা রোদ এসে পড়েছে নীল শাড়ির আঁচলে।পান চিবোতে চিবোতে একটা হ্যাংলা লোক হাঁ করে তাকিয়ে আছে। যদিও এভাবে তাকানোটা পছন্দ করিনা। তবুও–

যাই হোক,ওই জায়গাটায় কেউই দেয়াল তুলতে পারে না।তাই বিছুটি বাতাসের বেগ সইতেই হয়। বিষয়টা এটা নয়।যা বলছিলাম, স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে। অপেক্ষা করছি গাড়ির।এমন সময় খুব চেনা একটা মুখ, না চেনার ভান করে পাশ কাটিয়ে চলে গেল।বলার সুযোগই দিল না, কেমন আছো? দিদুন কেমন আছেন?

আমি পাথর। শৈশবে না খেতে পাওয়া ছেলেটা ইট পাথরের দেয়াল তুলে, বাইকে ছুটতে ছুটতে কেমন বিবেকহীন হয়ে গেছে। যদি এরই নাম বদল হয়, এই বাঁশঝাড়ের দেয়াল আমার হাজার বছরের স্বজন হোক।

ভালোবাসাহীন হয়ে বাঁচতে পারব না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here