অণুগল্পঃ বর্ষা এলেই / শুভশ্রী সাহা

0
74

বর্ষা এলেই

শুভশ্রী সাহা

বর্ষা এলেই দিগুর বুকের ভেতর দিয়ে বয়ে যেতে থাকে তার সেই লুকোনো নদীটি। আসমান জমিন সবুজ আর ঘন কালো এক করে দিয়ে কি তীব্র ভাবে বয়ে চলেছে। ঘোলা জলে অবিরাম ঘুর্ণনে জেলে নৌকারা সব বেসামাল। সাদা বালুচর আর নেই কোনো তীরেই, সেখানে কাদা গোলা ঘোলা জল। দল বেঁধে ভেসে আসা শাপলার ফুল কলমীর ডগা হারিয়ে গেছে আকাশের মত ভিন দরিয়ায় খোঁজে। যেখানে পর পর সার দিয়ে নৌকা বাঁধা, তার খাতে একটা তীব্র স্রোতের টান! মাঝি কঠিন হাতে দড়া দিয়েও সামলাতে পারছে না — চড়বড়ে বৃষ্টি নদীর বুকে ঝাঁপাচ্চে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ! চক চক করছে নদী শরীর — ঘ্রাণ উঠছে জলজ শেকড়ের—

আজ তিনদিন ধরে মুয়ে আগুন বৃষ্টি চলেই যাচ্ছে। একটাও খদ্দের নেই মোট্টে! মাসির কাচে বাড়ীভাড়াও বাকি পড়ে আছে। তার মধ্যে ছেলে টার খাই খাই! উপচে পড়ছে উঠুনে জলের পারা। কচুপাতার গোড়া জল পেয়ে ফুলে আছে টইটুম্বুর হয়ে ! ছাতার তেরপল বিছিয়েও দাওয়া ভিজে ভিজে সারা। ঘুটে কয়লা সব স্যাঁতসেঁতে বাদলাতে– কি যে চড়াবে আগুনে

লতা হাই তুললো দাওয়ায় বসে। –

— ওমা আয়ায়ায়ায়ায়া, চারটে কই মাছ পেয়েচি দেখো!

— আর তেল কে দেবে শুনি! তোর বাপ !

— দিগু কাকার কাছ থেকে নিয়ে আসব ধার করে?

 __মরণ লোক পেলি নে! তাকে কে দেয় তার নেই ঠিক!

সে লতার শরীরের খদ্দের নয়! ফিরেও তাকায় না। তবু আসে, শুধু কি যেন খোঁজে মনে হয়! কোন মুখে চাইবে! ছিঃ

– আরে ও দিগু, ঝম ঝম করে বৃষ্টি পড়ছে তো! ইদিক আয় চলে! কত বার বলি একটা ছাউনি দে দোকানটার ! গাছের নিচে কি দোকানদারি হয়! বর্ষা এলে—

মাসির কথায় দিগু মুখ তুলতেই দেখল সামনের উপচে পড়া লটা খালের জলে কটা কই মাছ ডাঙ্গায় উঠে পড়েছে। দিগু পরম মমতায় হাত দিয়ে জলে দিয়ে দিল।

এই রকম এক ভরা

বর্ষায় বান ভাসি মহানন্দার বুকে ভেসে গেছিল দিগুর ঘর। বাস্তুহারা দিগু মাটি খোঁজে এখন সেখানে যেমন ।  শুধু তার বুকে সেই লুকোনো নদীটা, বর্ষা এলেই—-

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here