বাংলায় কথা বললেই ফাইন নেওয়া স্কুলের কি বিদ্যাসাগর জয়ন্তী পালনের অধিকার আছে?

0
60

বাংলায় কথা বললেই ফাইন নেওয়া স্কুলের কি বিদ্যাসাগর জয়ন্তী পালনের  অধিকার আছে?

অবকাশে সঞ্জয়ঃ উই ওয়ান্ট বেঙ্গলি। উই ওয়ান্ট বেঙ্গলি। প্রতিবাদী বাঙালী জাতি ‘আ মরি বাংলাভাষার’ প্রতি ভালবাসা দেখাতে গিয়ে এমন ব্যানার নিয়ে পথে নামলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। বরং অপেক্ষা রইল, তা দেখার জন্য।

 ইতিমধ্যেই বাংলা নিয়ে পড়াশোনা করা বহু ছাত্রছাত্রীকে নিজস্ব শিক্ষার পরিচয় দিতে গিয়ে বলতে শুনেছি, বেঙ্গলি নিয়ে পড়ি। তারা কি বাংলা পড়ছি বলতে লজ্জা বোধ করেন? নাকি হীনমন্যতায় ভোগেন? তাই সেই হীনমন্যতা কাটাতে বাংলাটাকেও ইংরাজীতে ‘বেঙ্গলি’ ব’লে উচ্চারণ করেন।

   এমন পড়ুয়াও কম নয়, যাঁরা অন্য কোন বিষয়ে পড়ার সুযোগ না পেয়ে একপ্রকার বাধ্য হয়ে বাংলা নিয়ে পড়ছেন। তাঁরা প্রকাশ্যে সে কথা বলেও থাকেন। বেঙ্গলিতে পড়াশোনা করলে কোন ফিউচার নেই। বাংলার শিক্ষক, বাংলার অধ্যাপক   বিজ্ঞান বিভাগ বা ইংরাজীর অধ্যাপকের থেকে কম সম্মানিত। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় তা অনেকবারই ধরা পড়েছে।

           এ তো গেল বর্তমান অবস্থা। কিন্তু বাংলাভাষার ভবিষ্যৎ? তা কি ২১ ফেব্রুয়ারি বা ২৬ শে সেপ্টেম্বর কিংবা ২৫ শে বৈশাখ এরকম নির্দিষ্ট কয়েকটা দিনের ফেসবুক পোস্ট, সেমিনার আয়োজন, আলোচনার সভার জন্য থেকে যাবে? দৈনন্দিনচর্চায় যে ভাষা ক্রমশ ব্রাত্য থেকে ব্রাত্যতর হয়ে চলেছে তাকে গুটিকয়েক দিনের স্মরণে বাঁচিয়ে রাখা যাবে তো? নাকি বাস্তবে যেমন , আমরা যে চলে যায়, তাকে স্মরণ করি, সেই প্রথা অনুযায়ী বাংলাভাষাকে স্মরণ করব?

           ভবিষ্যত প্রজন্ম বাংলাভাষাকে কতখানি ভালবাসা দেখাবে তা নিয়ে সন্দিহান হওয়ার অনেক কারণের মাত্র একটি এখানে উল্লেখ করব। ইংরাজী মাধ্যম স্কুলে পড়াশোনা করা বাঙালির ছেলেমেয়েদের বাংলায় কথা বলার উপর নিষেধাজ্ঞা। সব ইংরাজী মাধ্যমের স্কুলেই এমন নিষেধাজ্ঞা আছে কিনা জানি না, আমার জানা  মফস্বলের কিছু ইংরাজী মাধ্যম স্কুলে তো অভিনব ব্যবস্থা আছে। স্কুল চত্বরে, ক্লাসরুমে, এমনকি স্কুলবাসেও বাংলায় কথা বলে ফেললেই দিতে হয় ফাইন।

            আ মরি বাংলা ভাষা! বাঙালীর ছোট্ট ছেলেটা ভুল করে বলে ফেললেই ফাইন গুনতে হয়। আর তাই সেসব বাচ্চাদের বাবা মাকেও বলতে শুনেছি, বাড়িতেও আমরা ইংরাজীতে কথা বলার চেষ্টা করি। পরক্ষণেই অবশ্য মনে করিয়ে দেন, আমরা কিন্তু বাংলাভাষাকে ভালবাসি। ভালবাসেন বলেই নিজ সন্তান যাতে বাংলাভাষাটুকুও না বলেন, তার জন্য নিরন্তর চেষ্টা  করে যাচ্ছেন।

          বাংলাভাষার প্রতি ভালবাসার জন্ম দিতে যে মহামানব তাঁর সমস্ত  জীবন পাত করেছেন, তাঁর দ্বিশতবর্ষ জন্মদিবস পালনের দিনে ইংরাজী মাধ্যমে পড়া ছোট্ট ছেলেটি যখন স্কুল থেকে ফিরে বাবা-মা কে জিজ্ঞাসা করে, পাপা, হোয়াট ইজ বর্ণ পরিচয়? বাবা জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকায়। ভাবতে থাকে কি বলবে ছেলেকে। আর মা সব মুশকিল আসান করতে পারে যে, সেই গুগলের দ্বারস্থ হয়। সার্চ করে ছেলেকে দেখায়, বর্ণপরিচয়ের কভারপেজের ইমেজ। ছেলে ওয়াহ ব’লে লাফিয়ে ওঠে। আবদার করে, মা দিদিকে দিয়ে এটা প্রিন্ট করিয়ে দাও। কাল স্কুলে নিয়ে যাব। ম্যামদের দেখাব। কেন রে? হঠাৎ? ছেলের উত্তর, কাল স্কুলে বিদ্যাসাগরের বার্থ ডে পালন হবে।

          আগামীকাল বিদ্যাসাগর জয়ন্তী পালন করতে চাওয়া ইংরাজী মাধ্যমের স্কুলটির কাছে প্রশ্ন, বাংলায় কথা বললেই ফাইন নেওয়া আপনাদের কি বিদ্যাসাগর জয়ন্তী পালনের  অধিকার আছে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here