“ইংরাজী ছাড়া সব বেকার। ইংরাজীই আসল”- কে বললেন? কেন বললেন? জানতে পড়ুন

0
51

“ইংরাজী ছাড়া সব বেকার। ইংরাজীই আসল”- কে বললেন? কেন বললেন? জানতে পড়ুন

স্বর্নালী নস্কর   

আজ একটা অভিজ্ঞতা হলো। একটু সবার সাথে ভাগ করে নেওয়ার উদ্দেশ্যই সেটা লিখতে বসা।

আজ অফিস আর স্কুল ফেরত মেয়েকে নিয়ে লেকমল গিয়েছিলাম অকারণ ঘোরাঘুরি করে মন ভালো করার উদ্দেশ্যে। ওখানেই ওয়াশরুমের বেসিনের সামনে মেয়েকে ব্যাগ সহ দাঁড় করিয়ে আমি ভিতরে যাই। তখন বেসিনের সামনে দু’জন মহিলা নিজেদের পোষাক, চুল ঠিক করতে ব্যস্ত ছিলেন। আমি ভিতরে ঢোকার পরেই শুনতে পাই, আমার মেয়ে কারোর সাথে কথা বলছে। আর যার সাথে কথা বলছে সেই ভদ্রমহিলা বেশ জোর গলায় কিছু কথা বলছেন। কিন্তু কি বলছেন বুঝতে না পেরে তাড়াতাড়ি বাইরে এসে দেখলাম মেয়ে কাঁচুমাচু মুখে দাঁড়িয়ে আর দুই মহিলা সদ্য দরজার বাইরে চলে যাচ্ছেন। আমি মেয়েকে জিজ্ঞাসা করলাম যে কি হয়েছে। মেয়ে কথানুযায়ী, ঐ দুই মহিলার একজন বেসিনের কল খুলে চলে যাচ্ছিলেন। আমার মেয়ে তাকে ডেকে বেসিনের কলটা খোলা আছে সেটা জানায়। সেই কথা শুনে উনি এসে কলটা বন্ধ করে দেন। এবং বলেন “জল নষ্ট না করা গুড হ্যাবিট”। তারপর ওর গলার আই কার্ডটা দেখে জানতে চায় যে ও কোন স্কুলে পড়ে। ও স্কুলের নাম বলে। প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি, আমার মেয়ে একটি বাংলা মাধ্যম স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী। এরপরেই ঐ মহিলা ওকে ইংরাজীতে কিছু প্রশ্ন করেন। যার উত্তর ও দিতে পারে নি। ও জানায় যে ও কথাগুলো বুঝতে পারে নি। তখন সেই মহিলা সঙ্গী মহিলার সাথে বেশ হাসাহাসি করে আমার মেয়ে ইংরাজী বলতে বা বুঝতে পারে নি বলে। তারপর ওকে জানায় যে,” ইংরাজী ছাড়া সব বেকার। ইংরাজীই আসল। মা কে বোলো ইংরাজীর জন্য স্পেশাল টিচার রাখতে”। (এই শেষের কথাগুলো আমিও শুনেছি, কারণ গলার স্বর বেশ উঁচু আর ব্যঙ্গাত্মক ছিলো)। আমার মেয়ে শুধু গম্ভীর হয়ে বললো যে, “আমি বাঙালি। আমি বাংলায় কথা বলি। আমি ইংরাজি কথা সব বুঝি না।” তারপর ঐ দুই মহিলা হাসতে হাসতে বেরিয়ে যায়।

আমি সব শুনে মেয়েকে বললাম। আজ কার জন্মদিন জানো? বললো, সে জানে। সে আরো জানালো সে এটাও জানে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মেয়েদের পড়াশুনা শেখার ব্যবস্থা করেছিলেন। আর তিনি বিধবা বিবাহ চালু করেছিলেন। তিনি বর্ণপরিচয়, কথামালা বই লিখেছিলেন। এরপর মেয়েকে বললাম, ইংরাজী ভাষাটাও জানা দরকার। তবে আগে মাতৃভাষা জানো ভালো করে। এই যে বিদ্যাসাগর মহাশয়, তিনি এই ভাষাটাকে বড়ো যত্নে আমাদের সবার গ্রহণ করার মতো তৈরী করেছিলেন। ইংরাজীও জানবে।তবে এমন নয় যে, ইংরাজী না জানলে সব বেকার। আস্তে আস্তে সবটাই জেনে যাবে।

জানি না, কতোটা ঠিক বললাম মেয়েকে। ( সাথের ছবিটি আমার মেয়ের “হাতেখড়ি” দেওয়ার শ্লেটের ছবি।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here