অণুগল্পঃ কেউ কথা রাখে না / রত্না দত্ত

0
81

কেউ কথা রাখে না

রত্না দত্ত

ওয়াশরুম থেকে ফিরে এসে তৃষা আবার তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পরার চেষ্টা করল!

এক অদ্ভুত অসোয়াস্তিতে…! কিছুতেই সে সেই আধখানি স্বপ্নকে ঠিক্ সেই যায়গা থেকে আবার দেখা শুরু করতে পারছে না!

যা সে দেখার জন্য মরিয়া হয়ে রয়েছে!

তা আবার হয় না কি? ভেঙ্গে যাওয়া স্বপ্ন আবার পুনরায় শুরু হয় না কি? তৃষা তবু বলপূর্বক ঘুমোনোর চেষ্টা করেই চলেছিল সে রাতে! দিগন্ত, এক তাপিত হৃদয়বান হৃদয়!যাকে তৃষার মত আরও অনেক হৃদয় হৃদয়ে লালন করে!তাতে তৃষার তেমন অভিমান নেই!দিগন্ত র প্রতি তৃষার ভালোবাসা, এক নিষ্কলুষ, নিঃস্বার্থ, নিঃশব্দ, নিস্কাম ভালোবাসা! এক মনুষ্যবাদী ভালোবাসা!

এক সমমনস্ক,সৃষ্টিশীল,সৃজনশীল,রুচিশীল,মানুষের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধাপূর্ণ প্রেম!যাতে ভাঙ্গা নেই,শুধু গড়া…! এক সমব্যথী বন্ধুত্ব!

বিষ্ময় আঘাতের দৃঢ়তায় যে হৃদয়খানি ভেঙ্গে খান খান,অবিশ্বাসের স্ট্যাম্প যার মস্তিস্কে,তৃষা তাঁর সেই মরুভূমি বুকে একটা সমব্যথী হৃদয় হতে চেয়েছিল! এক অনাবিল সোয়াস্তি দিতে চেয়েছিল প্রানপন ক্ষনিকের তরে! বলেছিল তৃষা তার প্রিয় মানুষটাকে,হাত ধরে হাঁটতে চায় শুধু কয়েকটা পা! তারপর যে যার পথে…! এই সন্মতি টুকু পেতে তৃষার বুকের ভিতর উছলে উঠেছিল আলো! সাত পাঁচ না ভেবেই কথা দিয়ে ফেলেছিল তাঁকে…” তবে চলো, যাওয়া যাক্! কিন্তু না! রাখতে পারে নি তৃষা সেই কথার দাম! সেই অদম্য ইচ্ছে! কিছুই পারেনি!

ইসস্!নিজের ছায়ার কাছেও লজ্জিত তৃষা! একরাশ তিতিক্ষা কে সে আরও দৃঢ়তা ই দিল! দিগন্ত ফিরে গেছে একরাশ তিতিক্ষা নিয়ে! কেমন করে বোঝাতো তৃষা…? কেন সে কথা রাখা যায় নি! কেন সে কথা রাখা যায় না! ভুল একটা ই ছিল! চরমতম ভুল….! দিগন্ত কে সে কথা দিয়েছিল! যা না রাখতে পারাকে দিগন্ত অবিশ্বাসের শীলমোহর দিয়ে চিরতরে মুখ ফিরিয়েছে! আর তৃষা?গ্লানির অনলে পুড়ে পুড়ে খাঁক! ঘুমের ঘোরে তার টালমাটাল ব্রহ্মান্ড! দিগন্ত এসেছিল…সে রাতে! তৃষা বলতে চেয়েছিল আপ্রান…! পারছিল না… তার অক্ষরগুলো হারিয়ে যাচ্ছিল! দলা পাকানো অভিমান..কন্ঠরোধ করেছিল তার! হঠাৎ ই তেষ্টায় সে রাত্রে ঘুম ভেঙে গেল…! তন্ন তন্ন করে খুঁজেও আর পায় নি….! মোবাইলটাতে একবার দেখে নিল তৃষা… তখন কাকভোর! এক অকালের চাতক সাতসকালে তিল চিৎকার করছে…..” চোখ গেল”!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here