শব্দঃ জন্ম ও মৃত্যু/ টঙ // জয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়

0
93

টঙ

জয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়

কেতার উদ্দেশ্যই টঙে চড়া! অনায়াসে কেতা নিয়ে আলোচনার শেষ কথাটি টঙ নিয়ে আলোচনার সূচনা হতে পারত। অবশ্য সেক্ষেত্রে সহৃদয়া পাঠিকাও হয়তো সংশয়ী হতেন যে পরবর্তী শব্দটি নিশ্চিত পূর্ব নির্ধারিত। কিন্তু আদতে তা নয়। সম্পাদক মহাশয় অবাধ স্বাধীনতা দেওয়ায় সাবলীল আলোচনার শেষে নিজেকে আমি কোন টঙে তুলে ফাঁসিয়ে দেব, সে নিজেরও অজানা।

তো সে দুখের ভার নিজেরই থাক, কারণ “টং” অবহেলা করার মত নয়। এতই তীক্ষ্ম যে একেবারে “কানের ভিতর দিয়া মরমে” পশে। আর এজন্যই বেশ মজাদার শব্দ “টঙ”।

আদতে যে “টঙ” ছিল, সে কিন্তু এখন “টং”। সেই অ্যাস্টেরিক্সে আছে না, পূর্বদিকে থাকেন যে গথেরা তাঁরা পশ্চিম দিকের গথ আর পশ্চিম দিকে থাকা গথেরা আসলে পূর্বদিকের, সেরকমই। সংস্কৃত “টঙ” শব্দের অর্থ তীক্ষ্ম নাদ। এর সাথে “কৃ” ধাতু “অ” প্রত্যয় জুড়লেই টঙ্কার বেশ চেনা। কিন্তু বাংলায় এসে “টঙ” বেচারা “টং” হয়ে গেল। ঘন্টাধ্বনির অবিকৃত রূপ। আর এই সঙ্কোচনে বেচারা এতই সংকুচিত যে যখনই “টং” একটু বলিষ্ঠ হওয়ার প্রচেষ্টা করে, “ঢং” হয়ে যায়। মনে হয় এ বুঝি “টং”-এরই ঢং!

এদিকে “তুঙ্গ”, যিনি আদিতে ছিলেন তুঙ্গে তিনি বাংলায় এসে হলেন “টঙ”। অবশ্য পথে প্রথমে উনি “তুঙ্গ” থেকে “টঙ্গ” হয়েছিলেন। কিন্তু সে রূপ বিশেষ পছন্দ না হওয়ায় অবশেষে টঙ। অর্থাৎ কিনা “টঙ” আর “টং” দুইয়েরই তাহলে তদ্ভব হওয়াই বিধেয়।

তো টঙ কিন্তু বাংলার উদার জল-হাওয়ার প্রভাবে অর্থে বেশ বিকশিত হলেন। তুঙ্গ অর্থাৎ উচুঁ স্থানে থেকেও বেশ “টানটান” হলেন বই কি! আর কে না জানে “উঁচু”তে থাকা “টানটান” চরিত্র মানেই তাঁর মেজাজটিও বেশ চড়া হয়। অনিয়ম হলেই একেবারে রেগে “টঙ”। আর এধরণের মেজাজি চরিত্র হল গিয়ে সেই ছবি বিশ্বাস অভিনীত “জমিদার” টাইপ। সুতরাং একটু-আধটু পানীয়তে তো আর মত্ততা আসে না, যাতে করে “টং” হওয়া যায়! কিন্তু কি অদ্ভুত পানদোষে “টঙ”টাও কিরকম “টং” হয়ে যায়!

এই সপ্তাহে আবার গান্ধীজীর জন্মদিন। তার উপর টঙের যা চরিত্র! অতএব পানীয়, পান(pun) এসব আলোচনা বরং আপাতত থাক।

ছবি বিশ্বাস স্বর্গত। আর তারও আগে জমিদারী প্রথারও পঞ্চত্ব প্রাপ্তি হয়েছে। সুতরাং “টঙ” তাঁর জমিদারী মেজাজ নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই এ যুগে অচল। বরং এখন “টঙ” হল সেই উঁচু জায়গা, (ঘরের ভেতরের বাঙ্কার গোছের) যেখানে অপ্রয়োজনীয় অথবা অতি অল্প ব্যবহারের বিষয় তুলে রাখা হয়। ফ্ল্যাটে তো আবার তাও নেই! তাই “টঙ”কেও টঙে তুলে মাঝে বেশ চালু হয়েছিল “বার খাওয়ানো”। মূলত এক নাবালক বাঙালী স্বাধীনতা সংগ্রামীর দেশপ্রেমের আবেগকে নির্বুদ্ধিতা অথবা বাস্তববোধহীনতা তকমা লাগিয়ে।

 কিন্তু সে আবার বিতর্কিত আলোচনা। সুতরাং সেসব টঙে তুলে আজকের মত ক্ষান্ত হওয়া যাক বরং।  ( চলবে )

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here