অণুগল্পঃ আগমনীতে বিসর্জন / লোপামুদ্রা চট্টোপাধ্যায়

0
96

আগমনীতে  বিসর্জন  

লোপামুদ্রা চট্টোপাধ্যায় 

আজ  পাঁচ দিন হলো  শিউলির  ছেলেটার  খুব  জ্বর ,জ্বরটা কিছুতেই  নামছে  না ।  পাঁচ দিন হলো  শিউলি ও  কাজে  যাছছে  না  । শিউলির মরদ  শংকর একটা  মদখোর মাতাল । শংকর  রিকশা  চালিয়ে  যা রোজগার  করে তা  সব টা  চলে  যায় মদ আর জুয়ায় । শিউলির  সংসার  চলে  তার  নিজের  রোজগারের  টাকায়  ।  অবশেষে  শিউলি  তার  অসুস্থ  ছেলে কে  নিয়ে  কাজে  যায়  ।  বোস  বাড়ির  দাওয়ায় অসুস্থ  ছেলে কে  শুইয়ে  দিয়ে  কাজ  করে শিউলি  ।  

বারদিন  বাকি পুজোর , এখনো  ছেলে টার  জন্য  একটা  নতুন  জামা  কিনে দিতে  পারেনি  শিউলি  ।  বিলটু  এখনো  পুরো  সুস্থ  হয়নি  । শেষমেষ  ,  শিউলি  বোস  বাড়ির  বড়  গিন্নী মা  কে  বলে 

তাঁদের  বাড়িতে  আসা  বড়  ডাক্তার বাবুর  কাছে  নিয়ে  গিয়ে  বিলটু কে  দেখানোর  চেষ্টা  করে  । ডাক্তার বাবু  বিলটু  নানান  পরীক্ষা  করে শিউলি কে  জানায়  যে তার  ছেলের  রোগ  খুবই  কঠিন  যা সারি য়ে তোলা  খুউব  অসাধ্য কাজ  ।  তবুও  তিনি  চেষ্টা  করবেন  কথা  দেন  ।    

  এই কয় দিনের  চিকিৎ সায়  বিলটু  একটু  সুস্থ  বোধ  করে  ।  তবে  সে   আগের মতো  ছুটে  বেড়াতে  পারে  না  ।  

বসন্ত বাবু  ঠাকুর গড়ার  কাজ  করেন  ।  তিনিও  থাকেন  শিউলীদের  বস্তি তে  ।  বসন্ত  বাবুকে  বিলটু   “ঠাকুর দাদু  ” বলে  ডাকে  ।  তিনি  ঠাকুর গড়েন  বলে  এই নামে  বস্তির  বাছা রা  ওনাকে  ডাকে  ।  সামনেই  মহালয়া  তাই  বসন্ত  বাবুর  এখন  কাজের  অনেক  চাপ  ।  উনি  যখন ঠাকুর  গড়েন  তখন  বিলটু  ওনার  পেছনে  এসে  ঠায়  দাঁড়িয়ে  থেকে  ঠাকুর  গড়ার  কাজ  দেখে  ।  

অসুস্থ  হওয়ার পর  থেকে  বিলটু  আর  আসেনা   ছেলে টার  জন্য  বড়  মন  খারাপ  হয় বসন্ত  বাবুর  তাই  মাঝে মাঝেই  খোঁজ  করেন  ।   

আজ  সকাল  থেকেই  চারিদিকে হৈ হুল্লূূৃূর  চলছে  ।  আজ  যে পঞ্চমী ,  মণ্ডপে মণ্ডপে  ঠাকুর  চলেছে   । বড় রাস্তার ধারে  ক্লাবের  ছেলেরা  আসবে  আর  একটু  পরেই  , বসন্ত বাবুর  কাছে  অর্ডার  দেওয়া  ঠাকুর  নেওয়ার  জন্য  ।  

আজ  আবার  সন্ধ্যে  থেকেই  বিল্টুর  জ্বর আবার  বেড়ে ছে  ।  শিউলী  একভাবে  জল পট্টি  দিয়েই  চলেছে  তবুও  বিল্টুর  জ্বর টা  নামছে  না  ।  শংকর কে  অনেক  বার  বলার  পর  সে  গেছে  বড়  ডাক্তার বাবু কে  ডাকতে  ।  এতখানি  সময়  পেরিয়ে  গেল  তবুও  শংকর  না  আসায়  শিউলী  চিন্তিত  হয়ে  পড়ে  ।  সে  বিলটু কে  একা  ফেলে  রেখে   শঙ্করের  পিছু  নেয়  ।   

একদিকে  ক্লাবের  ছেলেরা  ঢাকের  বোলে  আগমনীর  বাজনা  বাজিয়ে  মাকে  নিয়ে  যায় আর  একদিকে  বিসর্জনের  সুর  বাজিয়ে  আর এক  মায়ের কোল  খালি  করে  চলে  গেল  বিলটু  ।  

শিউলি  তার  বস্তির  ছোট্ট  ঘরে  ফিরে  এসে  দেখে   __________ আগমনীর  বাজনায় বিসর্জনের  সুর  বাজছে ॥  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here