মুক্তগদ্য : আমি ও আমার কবিতা / কৌশিক দে

0
61

মুক্তগদ্য : আমি ও আমার কবিতা 
কৌশিক দে

মাঝে মাঝে নিতান্ত স্তব্ধ হয়ে ওঠে আমার জীবন ।যা সব লিখে গেলাম এতকাল ধরে জানিনা কতটা ভালো বা মন্দ লিখলাম, কতটা ঠিক বা বেঠিক লিখলাম, কতটা কাজের বা অকাজের লিখলাম ।কজন পছন্দ করলো সেয় লেখা, কজনই বা বুঝল তার প্রকৃত অর্থ ! তবে ভিতর একটা ঝড় ছিল যা উড়িয়ে  দিতে পেরেছি আমার কবিতায় । সবকটা না হলেও কিছুটা পেরেছি আর যতটুকু পেরেছি তাতে বেশ শান্তি পেয়েছি আর এই শান্তির প্রয়োজন ছিল । কিছুটা যুদ্ধের পর দুপুরে চরম নিস্তব্ধতার মতন। কিছু মানুষকে ধরে বাঁচতে চেয়েছি কিছু মানুষকে এড়িয়ে চলেছি আর সবচেয়ে লক্ষণীয় হল আমি নিজেকে নিয়ে তেমন বিশেষ কিছুই ভাবিনি কোনদিন। নিজের ভালো-মন্দ বলতে যা বোঝায় তার ধারে পাশ দিয়ে হেঁটে দেখিনি কোনদিন । যা পেয়েছি আনন্দের সাথে আপন করেছি;  যা হারিয়েছি ,ভেবেছি তা কোনদিনই আমার ছিল না। এরকম এক অদ্ভুত দর্শন নিয়ে হেঁটে চলেছি এতকাল।কত মানুষ কত কথা বলল সবারটাই শুনেছি । আসলে আমার কাছে খারাপ কথা বলে কিছু হয়না ।মানুষ তার মনের কথা রেগে বা দুঃখে যখন প্রকাশ করে হয়তো প্রাসঙ্গিক বা অপ্রাসঙ্গিক ভাবে তা খারাপ মনে হতে পারে তবে প্রকৃত অর্থে খারাপ কথা বলে আমার কাছে কিছুই হয়না। ঠিক যেমন খারাপ কবিতা বলে কিছু হয়না। আমার যেমন কিছু কবিতা পড়তে ভালো লাগেনা তবে তা বলে তাকে আমি কখনোই তাকে খারাপ কবিতা বলি না ।এর আগেও আমি কোন এক জায়গায় বলেছিলাম যে একটি খারাপ কবিতা লেখা প্রায় অসম্ভব কার্য। কারণ কবিতা আমার মতে , মনের ভাব প্রকাশ করার এক যন্ত্র মাত্র। আর কবিতার শব্দ হলো সেই যন্ত্রের কলকব্জা তাই যন্ত্র যাই হোক বা তার কলকব্জা যাই হোক শেষমেশ তাকে আমরা যন্ত্রই বলব অর্থাৎ কবিতা বা কোন লেখনী পড়ার পর তাকে আমরা কবিতাই বলব ।হয়তো তা আমার ভালো লাগলোনা ।তাতে কিছু কিন্তু সেই লেখনীর সংজ্ঞা কবিতা থেকে বদলে অন্য কিছু হবে না ।

জানিনা কতটা বোঝাতে পারলাম ,তবে আমি যবে থেকে কবিতা পড়তে বা বুঝতে শিখেছি তবে থেকেই দেখেছি এবং পড়েছি যে বেশ কিছু খ্যাতনামা মানুষ প্রায় সবসময়ই জোরকদমে কিছু কবিতাকে কবিতা বলে মানেন নি ।তাদের মতে কবিতার নির্দিষ্ট একটি সংজ্ঞা আছে। সেই সংজ্ঞা অনুসারে কবিতা হবে অর্থবহ , গভীর এবং বিষয় কেন্দ্রিক। এর বাইরে যা লেখা হবে তাকে আর যাই হোক কবিতা বলা যায়না।

আমি অবাক হয়েছি , রেগে গেছি , আরো বেশি করে কবিতা পড়েছি আর খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করেছি ওই চেনা অংকের বাইরে কোন লেখা পাচ্ছি কিনা । বলাবাহুল্য তা পাওয়া খুব দুঃসাধ্যের ব্যাপার । কারণ কবিতা যখনই পড়তে বসা হয় তা কোন বিষয়ে লেখা বা তার অর্থ কতটা গভীর হবে সে সম্বন্ধে কারো কোনো রকম ধারণা থাকে না । তাই একই কবিতা পড়ে ভিন্ন মানুষের মধ্যে এক ভিন্ন বিষয় ফুটে উঠতে পারে। যদি তাই হয় তাহলে কবিতাটি কবি কোন বিষয়ের উপর ভিত্তি করে লিখেছিলেন তা জানা দুঃসাধ্য । এমন লেখা প্রচুর আছে যা আমি পড়েছি আর অবাক হয়েছি আর চেষ্টা করেছি যত বেশি সম্ভব এক এর মধ্যে ভিন্ন অর্থে কবিতা লিখতে। কতটুকু পেরেছি জানিনা। তবে আমার মতে যে লেখা কোন নির্দিষ্ট নিয়ম না মেনে চলে পাঠকের মনে বহুরকম বিষয় বা প্রেক্ষাপট সৃষ্টি করে সেটাই কবিতা ।

কবিতার কোন নিয়ম হয়না;  হতে পারেনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here