অণুগল্পঃ ঝড়// সঞ্জয় গায়েন

0
59

ঝড়

সঞ্জয় গায়েন

হঠাৎ করে সুন্দরবণ বেড়াতে যাওয়ার ঢল নেমেছে।শহর থেকে দলে দলে মানুষ আসছে। ম্যানগ্রোভ, সোঁদামাটি, নোনাজলের প্রতি ভালবাসা যেন উপচে পড়তে শুরু করেছে।বনবিবি আর রায়মঙ্গলে বিশ্বাস রাখা মউলে, জেলেরা অবাক। শহুরেদের কাদামাটির প্রতি এত টানের কারণ কিছুতেই ঠাওড় করতে পারছে না।মীন ধরা রাণুমাসিরা বিরক্ত। বুকের আঁচল ঠিক করতে করতে কি আর মীন ধরা যায়? ওদিকে নিজেদের না ঢেকেও উপায় নেই। শহুরেদের বড্ড ছবি তোলার ঝোঁক।সন্ধ্যের হাটে অবশ্য কাঁকড়াগুলো চড়া দরে কিনে নিচ্ছে। দুটো বেশি পয়সা আসছে সংসারে।কচিকাঁচা শুকনো মুখগুলোয় হাসি।এমনটা যদি সারাবছর চলে তাহলে নিজেদের ভিটেমাটি ফেলে শহরে ঝিয়ের কাজ করতে যেতে হবে না। কতরকম সব ভাবনা।

মাটি আঁকড়ে থাকা ম্যানগ্রোভ। ছবিঃলেখক

ভাবনায় ভাঁটা এল। শীত ফুরোতেই। শহুরেদের সুন্দরবনে আসা কমে গেল। ফাগুন হাওয়া ততদিনে চৈতি বাতাসের রূপ নিয়েছে। ঠিক তখনই রেডিওতে শোনালো ঝড় আসছে। ভয়ঙ্কর এক ঝড়। আবার।

মনিনদী পাড়ের মানুষগুলো আছড়ে পড়ল, গরাণ-গেঁওয়া-হেঁতালের পায়ে। আগেরবারের ‘বুলবুল’ এর মতো এবারও এই ম্যানগ্রোভ অরণ্য থামিয়ে দেবে ঝড়ের নাচন।

থামালো না। এই ঝড় যেন নটরাজের মতো প্রলয়নৃত্য করতে লাগল। ধ্বংস হতে লাগল সবকিছু।

শহুরে আবহবিদরা অবাক। গরাণ-গেঁওয়ারা এবার ঝড় আটকাতে পারল না কেন? দেখতে এলেন সরজমিনে। পাওয়া গেল ম্যানগ্রোভের শিকড়ে শিকড়ে জড়িয়ে আছে পলিথিন, শ্বাসমূলে আটকে আছে প্ল্যাস্টিক।

গত শীতে বেড়াতে আসার যে ঢল নেমেছিল তারই পরিনতি।  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here